বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ২১ লক্ষ টাকা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
তেল চুরির তদন্তে নেমে পাচার চক্রের হদিস পেল পুলিশ। লালবাজার সূত্রে খবর, মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে পাচারকারীরা চোরাই তেল বিক্রি করত বর্ধমানের এক ব্যবসায়ীর কাছে। তদন্তে নেমে পশ্চিমবঙ্গের তিন জেলা ও বিহার থেকে মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রত্যেকেই পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে ২১ লক্ষ টাকা।
গত বছরের ৩০ জুলাই ২৪ মেট্রিক টন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল নিয়ে হলদিয়া থেকে নেপালের বিরাট নগরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল একটি ট্রাক। ওই তেল নিয়ে ট্রাকটির গন্তব্যে পৌঁছোনোর কথা ছিল ৩১ জুলাই। অভিযোগ, মাঝপথেই ট্রাকের চালক ভূষণ যাদব পরিবহণের দায়িত্বে থাকা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ট্রাক ও ২০ লক্ষ টাকার তেলের খবর না পেয়ে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয় সংস্থার পক্ষ থেকে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে যে, জাল নথি ও জাল সিম কার্ড ব্যবহার করে রাজেশ কুমার নামে এক ব্যক্তি নিজেকে পরিচয় দিতেন ভূষণ নামে। গত ২১ ডিসেম্বর বিহারের নওয়াদা জেলার পাকরিবরণ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতকে জেরা করার পরে ওই রাজ্যের জামা এলাকা থেকে তেলের ট্রাকটি উদ্ধার করা হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে দু’জন মধ্যস্থতাকারীর সহায়তায় ২১ মেট্রিক টন তেল বিক্রি করেছেন রাজেশ। মধ্যস্থতাকারীদের নাম প্রীতম দত্ত ওরফে ভাতিজা ও মইনুদ্দিন আলি মন্ডল ওরফে সোনাই। গত ২৮ ডিসেম্বর উত্তর ২৪ পরগনার বাসুদেবপুর থেকে ওই দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রীতম ও মইনুদ্দিনকে জেরা করে পুলিশ জানতে পারে যে, বর্ধমানের এক ডিলারের কাছে মোটা টাকার বিনিময়ে ওই তেল বিক্রি করা হয়েছে। এর পরে ওই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হুগলি জেলার শ্রীরামপুরে তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। ২ জানুয়ারি দুপুরে শেওড়াফুলি থেকে গ্রেফতার করা হয় রাজেশ সাউ নামে এক জনকে। তাঁকে জেরা করার পরে তাঁর বাড়ি থেকে ২১ লক্ষ টাকা উদ্ধার করে ওই টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়।
লালবাজার সূত্রে খবর, শক্তিগড় টোল ট্যাক্সের সামনে থেকে নিজের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করতেন রাজেশ। পুলিশের দাবি, এটা ‘সংগঠিত চক্র’। আরও জানা গিয়েছে, দিল্লি রোড দিয়ে যাওয়া তেলের ট্যাঙ্কারের চালকদের টোপ দিয়ে ভোজ্য তেল বার করে নিতেন রাজেশ। পুলিশ জানিয়েছে, তেল পরিবহণকারী ট্যাঙ্কারের চালকদের প্ররোচিত করার জন্য রাজেশের এজেন্ট থাকত হলদিয়া, বজবজ, আলমপুর-সহ বেশ কিছু এলাকায়।