Fake Currency case

প্রভাবশালী মদতেই জাল নোট পাচারের রমরমা ধৃত দম্পতির

লোহার ট্রাঙ্ক ভর্তি নগদ টাকার পাশাপাশি ধৃতদের কাছ থেকে দু’টি বিলাসবহুল গাড়ি, ১২টিমোবাইল ফোন এবং চারটি পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই হরিনাভি এলাকার প্রভাবশালীদের সঙ্গে অরিন্দমের যোগ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করছেন তদন্তকারীরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৫:৪৫

—প্রতীকী চিত্র।

প্রভাবশালীর ঘেরাটোপে থেকে জাল নোট পাচার-চক্র নিয়ন্ত্রণ করত সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভার হরিনাভির বাসিন্দা অরিন্দম ধর ও তার স্ত্রী দীপা। পাশাপাশি, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগে মোটা টাকা ফেরত দেওয়ারপ্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় কয়েক কোটি টাকা তারা আত্মসাৎ করেছে বলে দাবি নেপাল পুলিশের। সম্প্রতি নেপালি মুদ্রায় প্রায় ৭০ কোটিটাকার জাল নোট-সহ অরিন্দম ও তার স্ত্রী দীপাকে গ্রেফতার করেছেন নেপাল পুলিশের গোয়েন্দারা।ঘটনার তদন্তে নেমেছেন ওই দেশের আর্থিক দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা।

লোহার ট্রাঙ্ক ভর্তি নগদ টাকার পাশাপাশি ধৃতদের কাছ থেকে দু’টি বিলাসবহুল গাড়ি, ১২টিমোবাইল ফোন এবং চারটি পাসপোর্ট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। মোবাইল ফোনের সূত্র ধরেই হরিনাভি এলাকার প্রভাবশালীদের সঙ্গে অরিন্দমের যোগ পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করছেন তদন্তকারীরা। সূত্রের খবর, ওই এলাকার একাধিক ব্যবসায়ী ও প্রোমোটারের কাছ থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা আত্মসাৎকরেছে ধৃতেরা। তদন্তকারীদের কথায়, ভিডিয়ো কল করে জাল নোটের পাহাড় দেখিয়ে বিভিন্নব্যবসায়ী ও প্রোমোটারকে নানা সংস্থায় টাকা বিনিয়োগ করে মোটা টাকা করার প্রলোভন দিতঅরিন্দম ও দীপা। এখনও পর্যন্ত দু’কোটি টাকা প্রতারণার তথ্যপাওয়া গিয়েছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।

সূত্রের খবর, বছর পাঁচেক আগে হরিনাভিতে এসে বসবাস শুরু করেছিল অরিন্দম। তারমধ্যে সে একাধিক ফ্ল্যাট ও জমি কিনেছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিধায়ক, স্থানীয় নেতা, পুর কর্তাদের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে তাকে দেখা যেত।অরিন্দমের জগদ্ধাত্রী পুজো শাসকদলের বিধায়ক, মন্ত্রী, পুর কর্তাদের উপস্থিতিতে কার্যত চাঁদের হাট হয়ে উঠত। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্বাচন এবং নানা অনুষ্ঠানে শাসকদলের নেতাদের মোটা টাকা চাঁদা দিত অরিন্দম। তার বিরুদ্ধেএকাধিক প্রতারণার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

নেপাল পুলিশ সূত্রের দাবি, এই ঘটনায় অরিন্দম ও তারস্ত্রী-সহ মোট সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক জন নেপালের নাগরিক।বাকি সবাই পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, তদন্তের অগ্রগতির সমস্ত রিপোর্ট ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন