Pashchim Banga Kabita Academy

কবিতা অ্যাকাডেমির কাজ নিয়ে তদন্ত চেয়ে ‘বাম মনোভাবাপন্ন’ বিশিষ্টদের একাংশ খোলা চিঠি লিখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে

কবিতা অ্যাকাডেমি আয়োজিত উৎসব বন্ধ হওয়া নিয়ে কবি ও আবৃত্তিকার মহলে নানাবিধ প্রশ্ন উঠছিল। সেই খবর মঙ্গলবার প্রথম লিখেছিল আনন্দবাজার ডট কম।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৫ ২০:২৩
Prominent personalities writes open letter to CM Mamata Banerjee, requesting an investigation into the activities of Kabita Academy

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

কবিতা অ্যাকাডেমি আয়োজিত উৎসব বন্ধ হওয়া নিয়ে কবি ও আবৃত্তিকার মহলে নানাবিধ প্রশ্ন উঠছিল। সেই খবর মঙ্গলবার প্রথম লিখেছিল আনন্দবাজার ডট কম। বুধবার আনন্দবাজার ডট কমের সেই প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে খোলা চিঠি লিখলেন কবি, আবৃত্তিকার ও সাংস্কৃতিক মহলের অনেকে। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সেই খোলা চিঠিতে প্রায় ৬০ জন স্বাক্ষর করেছেন।

Advertisement

স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে অনেকেই রাজনৈতিক ভাবে বাম মনোভাবাপন্ন বলে পরিচিত। তালিকায় রয়েছে রবীন্দ্রভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য পবিত্র সরকার, প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ মালিনী ভট্টাচার্য, একরাম আলি, নাট্যব্যক্তিত্ব কুন্তল মুখোপাধ্যায়, কবি মন্দাক্রান্তা সেনের নাম।

দেশের মধ্যে এ রাজ্যেই প্রথম কবিতা অ্যাকাডেমি গড়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্বাক্ষরকারীরা। পাশাপাশি তাঁরা লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ কবিতা অ্যাকাডেমি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। আমরা চাইছি, আ্যাকাডেমির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির একটি নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হোক যাতে ভবিষ্যতে পশ্চিমবঙ্গ কবিতা অ্যাকা়ডেমির কবিতা উৎসব-সহ আরও নানা কার্যক্রম সুষ্ঠু ভাবে পরিচালিত হতে পারে।’ খোলা চিঠির অভিন্ন বয়ান সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে লেখা হচ্ছে, ‘যাঁরা এই দাবির সঙ্গে সহমত, তাঁরা এই চিঠিটি উপরের নামের সঙ্গে সংযুক্ত করে নিজেদের টাইমলাইনে পোস্ট করুন।’

শেষ বার কবিতা উৎসব হয়েছিল ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে। প্রতি অর্থবর্ষেই জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে এই উৎসব হয়ে থাকে। গত অর্থবর্ষে হয়নি।

কবি-আবৃত্তিকারদের একটি অংশের বক্তব্য, অ্যাকাডেমির অভ্যন্তরে কয়েক জনের কাজ নিয়ে ‘ক্ষোভ’ জমছিল। এক প্রবীণ ব্যক্তি কয়েক বছর আগে ঘনিষ্ঠমহলে উষ্মা প্রকাশ করেন পুরস্কারপ্রাপকদের নামের তালিকা নিয়ে। সেই সময়েই তিনি সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে বিষয়টি জানানোর জন্য দৌত্য শুরু করেছিলেন। কারও কারও অনুমান, এমনই ‘ক্ষুব্ধ’ কেউ কেউ প্রশাসনিক স্তরে অভিযোগ জানিয়ে থাকতে পারেন। যদিও এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ভাবে কেউ কিছু বলতে চাননি। যা নিয়ে ‘ধোঁয়াশা’ কাটাননি অ্যাকাডেমির সভাপতি কবি সুবোধ সরকারও। সোমবার ফোনে কথা হওয়ার সময়ে তিনি আনন্দবাজার ডট কমকে জানিয়েছিলেন, লিখিত ভাবে তাঁকে ‘সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন’ পাঠালে তিনি লিখিত ভাবেই জবাব দেবেন। সোমবার তাঁকে প্রশ্ন পাঠানো হলেও তিনি কোনও জবাব দেননি।

কবিতা অ্যাকাডেমির অন্যতম সদস্য, আবৃত্তিশিল্পী ব্রততী বন্দ্যোপাধ্যায়ও স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেন বন্ধ হল, তা নিয়ে তাঁর মধ্যেও প্রশ্ন রয়েছে। তিনি এ-ও জানিয়েছিলেন, কমিটির শেষ বৈঠক হয়েছিল গত বছর জুন-জুলাই মাস নাগাদ। সঙ্গে ‘সম্ভবত’ শব্দটি যুক্ত করেছিলেন ব্রততী। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখা খোলা চিঠিতে সেই প্রসঙ্গেরও উল্লেখ করা হয়েছে। লেখা হয়েছে, ‘কবিতা অ্যাকাডেমির পরিচালন কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন যে, এই অ্যাকাডেমির শেষ মিটিংটি হয়েছিল গত বছর (২০২৪) জুন-জুলাই মাস নাগাদ। এটিও অ্যাকাডেমির পক্ষে স্বাস্থ্যকর নয়।’

মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বিশিষ্টজনেরা লিখেছেন, ‘আশা করব আমাদের দাবিতে সাড়া দিয়ে আপনি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’ মুখ্যমন্ত্রী সাড়া দেন কি না বা কোনও পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের তরফে করা হয় কি না, সে দিকেই তাকিয়ে সকলে।

Advertisement
আরও পড়ুন