নানুরের জুবুটিয়া জপেশ্বর বিদ্যামন্দিরে মাধ্যমিক পরীক্ষার শেষ প্রস্তুতি। নিজস্ব চিত্র।
জেলায় নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন করা অন্তত চার হাজার ছাত্রছাত্রী আজ, সোমবার, মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছে না। এ বার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা গত বারের থেকেও কমেছে। প্রশ্ন উঠছে, মিড-ডে মিল, পোশাক, সাইকেল, ছাত্রীদের জন্য কন্যাশ্রী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য ঐক্যশ্রী , একাদশে উঠলে ট্যাব কেনার টাকা, পরীক্ষার ফল ভাল করলে স্কলারশিপ— এমন নানা সরকারি প্রকল্প থাকলেও কেন এমন ছবি। শিক্ষিক, শিক্ষিকাদের একাংশ এর পিছনে স্কুলছুটের পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাশফেল উঠে যাওয়া, শূন্যপদের কারণে পড়াশোনায় সমস্যার কথা বলেছেন। যদিও বিষয়টি উদ্বেগের নয় বলেই দাবি শাসকদলের শিক্ষক সংগঠন ও জেলা শিক্ষা দফতরের।
জেলা শিক্ষা বিভাগের তথ্য বলছে, চলতি বছর মাধ্যমিকে বসার কথা (রেগুলার, সিসি, কম্পার্টমেন্টাল ধরে) ৪১,৭৮৫ জন পরীক্ষার্থীর। ২০২৪ সালে নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশনের নিরিখে সংখ্যাটা ছিল ৪৬,৯৮০ জন।
শুধু রেজিস্ট্রেশনের থেকেই কম নয়, গত বছর ৪২,৮৪৪ জন (রেগুলার, সিসি, কম্পার্টমেন্টাল ধরে) মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিল। এ বারের সংখ্যাটি তার থেকে হাজারখানেকেরও বেশি কম। এখানে শেষ নয়, শিক্ষক শিক্ষিকাদের একাংশ জানান, তাঁদের কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা বলছে, সব ধাপ পেরিয়ে যে সংখ্যক ছাত্রছাত্রী এনরোলমেন্ট করিয়েছে তাদের থেকে কম সংখ্যক পরীক্ষার্থীই শেষ পর্যন্ত পরীক্ষাকেন্দ্রে এসে পৌঁথয়। তাই, প্রকৃত উপস্থিতির হার আজ পরীক্ষার পরেই বোঝা যাবে।
এর নেপথ্যে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে জানাচ্ছেন শিক্ষক, শিক্ষিকা ও জেলা শিক্ষা দফতর। প্রথমত, তাঁরা জানান অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাশ ফেল প্রথা উঠে যাওয়ায় লেখাপড়ার ভিত নড়বড়ে হয়ে গিয়েছে। ফলে, ছাত্রছাত্রীদের একাংশ নবম শ্রেণিতে উঠলেও বার্ষিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারছে না। এর মধ্যে একাংশ লেখাপড়া ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ। ছাত্রীদের ক্ষেত্রে এর সঙ্গে বাল্যবিবাহও জুড়ে আছে। ছাত্রছাত্রীদের একাংশ আবার দশম শ্রেণি পর্যন্ত উঠে টেস্ট পরীক্ষায় আটকে যায়। শিক্ষিক, শিক্ষিকাদের একাংশ এর সঙ্গে বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষিক, শিক্ষিকাদের শূন্যপদের কারণে পড়াশোনায় ঘাটতির কথাও বলছেন।
প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের সংগঠন অ্যাডভান্স সোসাইটি ফর হেডমাস্টার অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেস-এর জেলা সভাপতি নিত্যানন্দ বারুই বলেন, ‘‘স্কুলছুট, নবম এবং টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারাই মূল কারণ।’’
যদিও তৃণমূল শিক্ষক সংগঠনের জেলা সভাপতি অভিজিৎ নন্দন বলেন ‘‘রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যার চেয়ে প্রতি বছরই প্রায় ১০ শতাংশ পড়ুয়া কম পরীক্ষা দেয়। এ বারও সেটাই হয়েছে। অস্বাভাবিক কিছু নয়।’’ তবে জেলা শিক্ষা বিভাগের এক কর্তা বলেন, ‘‘নানা সরকারি প্রকল্পের কারণেই প্রায় ৪২ হাজার ছাত্রছাত্রী আজ মাধ্যমিক দেবে। এই প্রকল্প না থাকলে ছবিটা অনেক বেশি খারাপ হতে পারত।’’