Mid day Meal Menu

নিরামিষ নিয়ে সংশয়, তবে কাজ কমলে খুশি স্কুল

সরকার প্রাথমিকে মিড-ডে মিলে ছাত্রছাত্রী পিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ টাকা করেছে। এতে খানিকটা স্বস্তি প্রাথমিক স্কুলে। এক ধাক্কায় ৩ টাকা ২২ পয়সা বেড়েছে মাথাপিছু বরাদ্দ।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০১:২১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ডিমের মতো পুষ্টিকর উপাদান বাদে শুধুই নিরামিষ আহারে কি পর্যাপ্ত পুষ্টি মিলবে? ইস্কনের মাধ্যমে কলকাতার পুর এলাকার স্কুলে ‘নিরামিষ’ মিড-ডে মিল চালু করার ঘোষণায় এমন আশঙ্কা জেলার স্কুলে। পাশাপাশি, অন্য কোনও সংস্থাকে স্কুলের মিড-ডে মিলের দায়িত্বে দিলে কাজ হারানোর আশঙ্কা থাকছে মিড-ডে মিলের রান্নার দায়িত্বে থাকা স্বনির্ভর দলের সদস্যদেরও। তবে স্কুলের শিক্ষক, শিক্ষিকাদের একটি অংশ অবশ্য মিড-ডে মিলের দায়িত্বে থেকে অব্যাহতি পেতে চাইছেন।

দুবরাজপুরের একটি উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘চাইব স্বাস্থ্যসম্মত পুষ্টিকর খাবার ছাত্রছাত্রীদের দেওয়া হোক। তবে আমাদের এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হোক। সারাক্ষণ অভিযোগের আঙুল আমাদের দিকেই থাকে।’’ একই বক্তব্য সিউড়ির একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকের। তিনি জানান, স্কুলে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীর সংখ্যা কম। শুধু মিড-ডে মিলের জন্য প্রতি দিন দুই থেকে তিন জন শিক্ষক, শিক্ষিকাকে ব্যস্ত রাখতে হয়। অন্য কোনও সংস্থার মাধ্যমে সরকার যদি এটি চালানো হয় তা হলে সবচেয়ে ভাল হবে।

সরকার প্রাথমিকে মিড-ডে মিলে ছাত্রছাত্রী পিছু বরাদ্দ বাড়িয়ে ১০ টাকা করেছে। এতে খানিকটা স্বস্তি প্রাথমিক স্কুলে। এক ধাক্কায় ৩ টাকা ২২ পয়সা বেড়েছে মাথাপিছু বরাদ্দ। উচ্চ প্রাথমিকে বরাদ্দ ১০ টাকা ১৭ পয়সা। শিক্ষকেরা জানান, আগে প্রাথমিকে গড়ে এক দিন এবং উচ্চ প্রাথমিকে গড়ে দু’দিন করে ডিম দেওয়া যেত। যে টাকা বাড়ানো হয়েছিল তাতে প্রাথমিকে সপ্তাহে আরও এক দিন ডিম দেওয়া যায়।

অন্য দিকে শিক্ষক, শিক্ষিকাদের একাংশ জানান, রান্নার গ্যাস, আনাজের দাম চড়েছে। একটা ডিমের দামই আট টাকা ছুঁয়েছে। ফলে চাইলেও আমিষ দেওয়া সম্ভব হত না, বিশেষ করে কম ছাত্রছাত্রী থাকা স্কুলগুলিতে। তবে মিড-ডে মিল শিক্ষকদের হাতে থাকলে অন্তরিকতা থাকবে বলেও জানান তাঁরা। বাইরের কোনও সংস্থাকে দিলে সেটা পালিত হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। রাজমা, স্থানীয় ছেলেমেয়েরা পছন্দ করবে না বলেও মত শিক্ষক, শিক্ষিকাদের একাংশের। তবে শিক্ষিক, শিক্ষিকাদের বড় অংশই মিড-ডে মিলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছেন।

প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির জেলা সম্পাদক তাপস ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘মিড-ডে মিল পরিচলনায় শিক্ষকেরাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। তার পরেও বলব স্কুলে স্কুলে শিক্ষক শিক্ষিকার সংখ্যা এত কম যে মিড-ডে চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে একটাই চাওয়া, ছাত্রছাত্রীদের খাবার যেন পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে রান্না হয়।’’

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুল, শিশু শিক্ষাকেন্দ্র এবং মাধ্যমিক স্কুল মিলিয়ে জেলার তিন হাজারের বেশি শিক্ষাঙ্গণে মিড-ডে মিল খায় ৫ লক্ষ ১০ হাজার পড়ুয়া। রান্নার দায়িত্বে থাকেন স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা। ভিন্ন সংস্থাকে দায়িত্ব দিলে তাঁদের কাজ হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। দুবরাজপুর একটি স্কুলে রান্নার দায়িত্ব থাকা স্বনির্ভর দলের সদস্য চৈতালি বাউড়ি বলেন, ‘‘এখন থেকে এত কিছু ভেবে লাভ নেই। তবে আশা করব সরকার আমাদের কথা ভাববে। সম্প্রতি রাঁধুনিদের মাইনেও বাড়িয়েছে সরকার।’’

বিজেপি শিক্ষক সেলের আহ্বায়ক মোহন সিংহ বলেন, ‘‘কলকাতায় যে ধর্মীয় সংস্থাকে দায়িত্বে দেওয়া হয়েছে, তারা কী ভাবে সেটা চালাচ্ছেন সেটা না দেখে এখন থেকেই জল্পনা ছড়ানোর মানে নেই। তবে জেলায়ও যদি সেটা হয়ও শিক্ষক, শিক্ষিকারা পড়াশোনায় বেশি সময় দিতে পারবেন।’’

আরও পড়ুন