সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে পর্যটকদের বাইক। —নিজস্ব ছবি।
দোলের উৎসবে জমজমাট বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর। প্রশাসনের উদ্যোগে রং খেলার উৎসবে শামিল হয়েছিলেন প্রচুর মানুষ। হঠাৎ তাল কাটল পাশে জঙ্গলে অগ্নিকাণ্ডে। পোড়ামাটির হাটে যখন নাচে-গানে, রঙের উৎসবে মাতোয়ারা মানুষ, তখন পাশের জঙ্গলে দুষ্কৃতীদের লাগানো আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল পর্যটকদের বাইক। খবর পেয়ে দৌড়ল দমকলবাহিনী। পর পর দু’দিন একই রকমের ঘটনা ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানেও।
প্রশাসনিক উদ্যোগে মঙ্গলবার বিষ্ণুপুরের পোড়ামাটির হাটে আয়োজিত হয়েছিল দোল উৎসবের। রং খেলার পাশাপাশি নাচে-গানে মেতে উঠেছিলেন আট থেকে আশি। পোড়ামাটির হাটে হাজির হয়েছিলেন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটক। তাঁদের গাড়ি, বাইক পার্ক করা ছিল পোড়ামাটির হাটের অদূরের জঙ্গলে। পোড়ামাটির উৎসব যখন জমজমাট, সেই সময় জঙ্গল থেকে আগুন, ধোঁয়া দেখে শোরগোল শুরু হয়ে যায়। পর্যটকদের গাড়ি, বাইক যেখানে পার্ক করা ছিল, সেখানে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। তড়িঘড়ি সেখান থেকে গাড়ি, বাইক সরিয়ে নিতে দৌড়োন পর্যটকেরা। কিন্তু তত ক্ষণে দু’টি বাইকে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে দমকল ঘটনাস্থলে যায়। তখন দুটো বাইক পুরোপুরি ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছে। বেশ কিছু ক্ষণের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।
বাঁকুড়ার তালড্যাংরার মুড়াকাটি থেকে পোড়ামাটির হাটে রঙের উৎসবে শামিল হতে গিয়েছিলেন সৌরভ কর্মকার। তাঁর বাইক পুড়ে গিয়েছে। ওই যুবক জানান, দুপুর আড়াইটে নাগাদ জঙ্গলের ঝরা পাতায় কেউ বা কারা আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালান। পড়িমরি করে জঙ্গলে দৌড়ে যান। দেখেন বাইকটি দাউদাউ করে জ্বলছে। ওই ঘটনার নেপথ্যে কারা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অন্য দিকে, সোমবার পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের প্রেমগঞ্জ এলাকায় জঙ্গলের মধ্যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় বনবিভাগ এবং দমকল বাহিনীর যৌথ উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বন দফতর সূত্রে খবর, ফায়ার অ্যালার্ট ব্যবস্থায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ধরা পড়তেই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বনকর্মীরা। ফায়ার ব্লোয়ার মেশিন নিয়ে আগুন নেবানো হয়। পরে দমকলবাহিনীও গিয়েছিল। পানাগড় রেঞ্জের বন আধিকারিক সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, প্রায় ১০ হেক্টর এলাকা জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। বড়সড় ক্ষয়ক্ষতির খবর নেই। শালগাছগুলিও সুরক্ষিত রয়েছে বলে জানান তিনি। বন্যপ্রাণীর ক্ষয়ক্ষতির খবর এখনও পাওয়া যায়নি।
গত রবিবারও সোয়াই বিট এলাকায় জঙ্গলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। বন আধিকারিকদের অনুমান, জঙ্গলে গবাদি পশু চরাতে গিয়ে কেউ কেউ অসাবধানতাবশত কিংবা মজার ছলে শুকনো পাতায় আগুন ধরিয়ে দেন। সেখান থেকেই দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। বন দফতরের তরফে জঙ্গলে আগুন না-লাগানোর বিষয়ে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়েছে।