Hawkers eviction

শহরে উচ্ছেদে রাশ, ফের আগের জায়গাতেই পসরা

কিছু দিন আগে বুলডোজ়ার এনে শহরের কোর্ট সংলগ্ন এলাকার একাধিক দোকানের বাড়তি অংশ, অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেয় প্রশাসন।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৮:১৯
প্লাস্টিক টাঙিয়ে আগের জায়গাতেই ব্যবসা। পুরুলিয়া শহরের পোস্টঅফিস মোড়ে রবিবার।

প্লাস্টিক টাঙিয়ে আগের জায়গাতেই ব্যবসা। পুরুলিয়া শহরের পোস্টঅফিস মোড়ে রবিবার। ছবি: সুজিত মাহাতো।

দুর্গাপুজো পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযানে রাশ টানার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বস্তিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হকারেরা। এ দিকে, ইতিমধ্যে উচ্ছেদ হওয়া ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আগের জায়গাতেই ফের পসরা সাজিয়ে বসতে শুরু করেছেন। এমন ছবি দেখা গিয়েছে পুরুলিয়া শহরের কোর্ট সংলগ্ন এলাকায়। মাঝেমধ্যে পুলিশ এসে তাঁদের সরিয়ে দিচ্ছে ঠিকই, তবে তাতে কাজ হচ্ছে না। ঝড়-বৃষ্টির মাথায় নিয়ে কোনও রকমে চলছে বেচা-কেনা।

কিছু দিন আগে বুলডোজ়ার এনে শহরের কোর্ট সংলগ্ন এলাকার একাধিক দোকানের বাড়তি অংশ, অবৈধ নির্মাণ ভেঙে দেয় প্রশাসন। বহু ছোট ব্যবসায়ী রুজিহীন হয়ে পড়েন। কড়াকড়ি একটু কমতে একই জায়গায় অস্থায়ী ভাবে ব্যবসা শুরু করেছেন তাঁরা। কেউ বসছেন ঝুড়ি নিয়ে, কেউ প্লাস্টিকের নীচে বসে দু’পয়সা রোজগার করছেন।

তাঁদের মধ্যে ব্যাগ ব্যবসায়ী শুভম দাস বলেন, “কোনও উপায় ছিল না বলেই আবার এখানে ব্যবসা শুরু করেছি। তবে সব সময়ে ভয় থাকে। মাঝেমধ্যে পুলিশ এসে উঠে যেতে বলে। তখন পসরা গুটিয়ে নিতে হয়। তবে শুনছি, দুর্গাপুজো পর্যন্ত আর উচ্ছেদ করা হবে না। এই যা ভরসা।” শুভম সাউ নামে আর এক ব্যবসায়ীর কথায়, “বাবা ও আমি প্রায় ৪০ বছর ধরে এখানে ব্যবসা করছি। উচ্ছেদের পরে সংসার চালানো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বাধ্য হয়েই আবার বসেছি। যদি কিছু বিক্রি হয়।”

প্রশাসনের চোখ রাঙানি এড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অবশ্য ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মহাদেব নাগ নামে এক বাসিন্দার মতে, “কয়েক দিন ধরে ব্যবসায়ীরা আবার বসছেন। তবে এখন কোনও ছাউনি বা স্থায়ী নির্মাণ নেই। এতে পথচারীদের খুব একটা অসুবিধা হচ্ছে বলে মনে হয় না। নতুন করে যাতে পাকা নির্মাণ না হয়, সে দিকে প্রশাসন নজর রাখলেই হবে। তাহলে হকারদের জীবিকাও বাঁচবে, মানুষেরও সমস্যা হবে না।”

এ নিয়ে পুরুলিয়ার বিধায়ক সুদীপ মুখোপাধ্যায় বলেন, “বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”

আরও পড়ুন