Abhishek Banerjee in Birbhum

হেমন্তের উড়ানে বীরভূম রওনা অভিষেকের! কেন্দ্রীয় বিমান মন্ত্রকের অনুমতি না পেয়ে ঝাড়খণ্ড সরকারের হেলিকপ্টার ভাড়া

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও ওড়েনি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার। তৃণমূলের একটি সূত্রে খবর, শেষমেশ ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাছ থেকে মঙ্গলবারের জন্য একটি কপ্টার ভাড়া করা হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:০১
Abhishek Banerjee

হেলিকপ্টারে করে বীরভূম যাওয়ার কথা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। —ফাইল ছবি।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ‘সমস্যার মুখোমুখি হলেন’ তৃণমূলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে হেলিকপ্টার ওড়ানোর অনুমতি দেয়নি অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। মঙ্গলবার তাঁর বীরভূম সফরের আগে এমনই অভিযোগ করে তৃণমূল। তাদের দাবি, বিজেপি ষড়যন্ত্র করে অভিষেকের কর্মসূচি বানচালের চেষ্টা করছে। পরে তৃণমূল জানিয়েছে, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সহায়তায় তাঁদের একটি কপ্টার ভাড়া নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেহালা থেকে হেলিকপ্টারে করে বীরভূম যাওয়ার কথা ছিল অভিষেকের। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তাঁর হেলিকপ্টার ওড়েনি। তৃণমূলের একটি সূত্র জানায়, হেলিকপ্টার ওড়ার জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি পাননি ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। যার ফলে দুপুর পর্যন্ত বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে কপ্টারের অপেক্ষায় বসে ছিলেন তিনি। এ-ও জানা যাচ্ছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সড়কপথেই বীরভূমে যেতে পারেন তাঁদের নেতা। সে ক্ষেত্রে মঙ্গলবার রাতে তিনি তারাপীঠের কোনও হোটেলে থেকে যেতে পারেন।

মঙ্গলবার রামপুরহাটের বিনোদপুরে সভা রয়েছে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সাংসদের। তা ছাড়াও সদ্য মা হওয়া পরিযায়ী শ্রমিক সুনালী খাতুনের সঙ্গেও রামপুরহাট মেডিক্যালে তাঁর দেখা করার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু দুপুর দেড়টার পরেও অভিষেকের হেলিকপ্টার ওড়েনি। তার পরেই ক্ষোভ উগরে দেয় তৃণমূল। তাদের দাবি, যে ভাবে মুখ্যমন্ত্রীর মমতার বনগাঁ সফরের আগে সমস্যা সৃষ্টি করা হয়েছিল, ঠিক একই ভাবে অভিষেকের সফরের আগে ‘ষড়যন্ত্র’ করছে বিজেপি।

উল্লেখ্য, কপ্টার সংস্থার লাইসেন্সে সমস্যার জন্য গত ২৫ নভেম্বর এসআইআর বিরোধী কর্মসূচিতে যোগ দিতে হেলিকপ্টারের পরিবর্তে সড়কপথে বনগাঁ যান মমতা। এসআইআর-বিরোধী সভায় বক্তৃতার শুরুতেই ওই বিষয়ে মুখ খুলেছিলেন তিনি। বিজেপিকে তোপ দেগে বলেছিলেন, “আমি সাত-আট মাস হেলিকপ্টার ব্যবহার করি না। চুক্তি (এগ্রিমেন্ট) করে একটা হেলিকপ্টার নেওয়া আছে রাজ্য সরকারের। সকালে বলল যাবে না। বেরোনোর কথা ছিল ১২টায়। সভা (মিটিং) ছিল সাড়ে ১২টায়। ইলেকশনই শুরু হল না, সংঘাত শুরু হয়ে গেল। রাস্তায় আসতে আসতে অনেকের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল।” তিনি আরও বলেছিলেন, “বিজেপিকে বলি, ওরে আমার সঙ্গে খেলতে যাস না। আমি যেটা খেলব, তাতে আমার নাগাল পাবে না, ধরতেও পারবে না।”

তবে অভিষেকের হেলিকপ্টার ওড়ার সমস্যা নিয়ে তৃণমূলের একটি সূত্র এ-ও বলেছে, কুয়াশাও কারণ হতে পারে। আবার তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলামের অবশ্য অভিযোগ, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপি ভয় পেয়ে গিয়েছে। লক্ষ লক্ষ মানুষ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য অপেক্ষা করছেন বীরভূমে। তবে যা-ই হোক, উনি বীরভূম আসছেন।’’

তৃণমূলের দাবি, অভিষেকের হেলিকপ্টারের জন্য ডিজিসিএ ছাড়পত্র দেয়নি শেষমেশ। তাই ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার পর তাদের সরকারের সহায়তায় একটি হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুপুর আড়াইটে নাগাদ হেলিকপ্টারটি বীরভূমের উদ্দেশে ওড়ে। মঙ্গলবারের জন্য ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টারটি ভাড়া নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তৃণমূল। পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, তারাপীঠ হয়ে রামপুরহাটে সভাস্থলে যাওয়ার কথা ছিল অভিষেকের। দেরির কারণে তিনি সরাসরি সভাস্থলেই যাচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে রামপুরের ওই মাঠেই অভিষেকের জনসভা ছিল। আবহাওয়া প্রতিকূলে থাকায় সে বার সভায় উপস্থিত হতে পারেননি তিনি। পরে ভিডিয়ো কনফারেন্সিং করে বক্তৃতা করেছিলেন।

Advertisement
আরও পড়ুন