Disom Sendra Festival

সেন্দরা উৎসব এ বারও রক্তহীন, দাবি

রাজ্যে ভোটের আবহ থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার অযোধ্যা পাহাড়ে প্রচুর লোকজন উৎসবে শামিল হয়েছিলেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ২২:৫৫
খালি হাতে ফিরছেন শিকারিরা। অযোধ্যা পাহাড়ের গড়ধামে।

খালি হাতে ফিরছেন শিকারিরা। অযোধ্যা পাহাড়ের গড়ধামে। নিজস্ব চিত্র ।

কাছাকাছি দাঁড়িয়ে দুই শিকারির বাঁশির সুরে এক বনকর্মীকে সুর মেলাতে দেখে কিছুটা অবাকই হয়েছিলেন বনকর্তা। ঢোল, ধামসা-মাদলের তালে সেই বাঁশির সুরই যেন রঙিন করে তুলেছিল এ বারের সেন্দরা উৎসবকে। অতীতে বন্যপ্রাণী শিকারকে কেন্দ্র করে বনকর্মীদের খণ্ডযুদ্ধের অভিযোগ উৎসবকে ফিকে করত। তবে গত কয়েক বছর ধরে সে সবের বালাই নেই। এ বারের সেন্দরা উৎসবেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

রাজ্যে ভোটের আবহ থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার অযোধ্যা পাহাড়ে প্রচুর লোকজন উৎসবে শামিল হয়েছিলেন। বন দফতর এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, এ রাজ্যের নানা জেলার পাশাপাশি পড়শি ঝাড়খণ্ড, বিহারের মতো রাজ্যগুলি থেকেও প্রচুর লোকজন এসেছিলেন। দফতরের দাবি, এ বারে বন্যপ্রাণীর রক্ত ঝরা পুরোপুরি রোখা গিয়েছে। নজরদারি ও সচেতনতার প্রচারের পাশাপাশি মানুষের মনে বন ও বন্যপ্রাণীর গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা তৈরি হওয়ায় এই কঠিন কাজ সহজ হয়েছে, মনে করছেন বনকর্তারা।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কার্যত টানা নজরদারি শুরু হয়েছিল অযোধ্যা পাহাড়ে। রাজ্যের মুখ্য বনপাল (দক্ষিণ-পশ্চিম চক্র) রানা দত্ত, পুরুলিয়ার ডিএফও অঞ্জন গুহ, এডিএফও সায়নী নন্দীর পাশাপাশি জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) রাসপ্রীত সিং, এসডিপিও (ঝালদা) গৌরব ঘোষ, আইসি (বাঘমুণ্ডি) কৃষ্ণেন্দু বিশ্বাস প্রমুখ ছিলেন। গড়ধামে বন দফতরের শিবিরে ছিলেন পুরুলিয়া আদালতের এক বিচারকও। ডিএফও বলেন, “রক্তপাতহীন উৎসব পালনের মধ্যে দিয়ে মানুষজন বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের বার্তাকে আরও মজবুত করলেন।” শিকারিদের সঙ্গে বনকর্মীদের সহাবস্থান দেখে আপ্লুত বনপাল বলেন, “দু’পক্ষের বাঁশির সুরই যেন অতীতের সব বিভেদ মুছে দিল।”

রক্তপাতহীন উৎসবের লক্ষ্যে রঘুনাথপুর ও কাশীপুরের জঙ্গল এলাকায় নজরদারি চালান বন দফতরের আধিকারিক, কর্মী ও বন সুরক্ষা কমিটির সদস্যেরা। শিকারের কোনও ঘটনা নজরে আসেনি বলে দাবি দফতরের। নজরদারি চলছে।

আরও পড়ুন