যৌন চক্রের কারবারে আদালতের পথে অভিযুক্তেরা । ছবিঃ অভিজিৎ অধিকারী ।
অবৈধ যৌনচক্র চালানোর অভিযোগে তিনটি লজের মালিক, ম্যানেজার-সহ ছ’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সেখান থেকে উদ্ধার করা হয় সাত যুবতীকে। শনিবার রাতে কোতুলপুর থানার জয়রামবাটীর ওই ঘটনায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতেরা হলেন হারাধন বেজ, রাজকুমার নাগ, নবেন্দু রায়, চঞ্চল বিশ্বাস, অমিতকুমার নাগ ও জাইদুল খান। রবিবার তাঁদের বিষ্ণুপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক ন’দিন পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। আদালতে উদ্ধার করা মহিলাদের গোপন জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। তবে এ নিয়ে ধৃত বা উদ্ধার হওয়া মহিলারা কোনও মন্তব্য করেননি।
স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক বছরে জয়রামবাটীতে বেশ কিছু লজ, হোটেল তৈরি হয়েছে। বাইরের লোকেদের আনাগোনাও বেড়েছে। সেই সুযোগে কিছু অসাধু লজ মালিক এই ধরনের বেআইনি কাজ চালাচ্ছিল বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে পুলিশের দাবি, এ নিয়ে তাদের কাছে আগেঅভিযোগ আসেনি।
রবিবার এসডিপিও (বিষ্ণুপুর) মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “শনিবার বিকেলেই আমাদের কাছে খবর আসে জয়রামবাটির মায়ের মন্দিরের আশপাশে কয়েকটি লজে অবৈধ যৌনচক্র চলছে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ সুপারের নির্দেশে একটি দল গঠন করা হয়। পুলিশের এক জেলা আধিকারিক-সহ আমরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে একযোগে তিনটি লজে হানা দিয়ে সাত মহিলাকে উদ্ধার করি। ওই কাজের সঙ্গে যুক্ত ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়। নির্দিষ্ট ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে।’’ তিনি জানান, তিনটি লজ ‘সিল’ করে নথিপত্র ও অতিথিদের নাম-ঠিকানা লেখা খাতা আটক করা হয়েছে।
তবে শুধু কোতুলপুরই নয়, বিষ্ণুপুর, জয়পুর, সোনামুখী ইত্যাদি থানা এলাকাতেও কিছু লজ, হোটেলে যৌন চক্র সক্রিয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের একাংশের। সে বিষয়ে এসডিপিও বলেন, “এ ভাবেই সর্বত্র পুলিশের নজরদারি চলবে। খবর এলেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হবে।’’
রাজনৈতিক মহলেও চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস বলেন, ‘‘শুধু জয়রামবাটী কেন, এই চিত্র সর্বত্র ধরা পড়বে। হোটেল ও লজ মালিকদের সঙ্গে শাসকদলের নেতাদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ না থাকলে দিনের পরে দিন এই ধরনের কাজ চলতে পারে না। খোঁজ নিয়ে দেখা হোক নেতাদের সঙ্গে মাসোহারার ব্যবস্থা আছে কি না। আগে পুলিশ হানা দেয়নি কেন? প্রশাসন আর দল এক হয়ে গেলে খুব মুশকিল।”
বিষ্ণুপুর লজ ও হোটেল মালিক কল্যাণ সমিতির সম্পাদক অসিত চন্দ্রের দাবি, ‘‘আমরা পর্যটন দফতরের সঙ্গে পোর্টালের মাধ্যমে যুক্ত। প্রশাসনের উদ্যোগে বছর খানেক আগে পোর্টালে পর্যটকদের প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করার নির্দেশ চালু হয়। তার আগে কাগজে লিখে প্রশাসনকে জানাতে হত। তাছাড়া প্রশাসনের তরফে মাঝেমধ্যেই ঝটিকা পরিদর্শনে আসেন বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকেরা। দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, আমাদের সংগঠনে যুুক্ত কোনও লজ বা হোটেলে অবৈধ কারবার হয় না।’’
তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক সভাপতি সুব্রত দত্ত বলেন , “দুষ্কর্মে যুক্তদের গ্রেফতার করে লজ ‘সিল’ করেছে পুলিশ।এটা তৃণমূলের আমলেই সম্ভব। বিজেপির রাজ্যে পুলিশের এই ভূমিকা দেখা যায় না।’’