Bankura TMC Leaders Arrest

বিজেপি কর্মীকে বাড়িছাড়া ও জরিমানা করে গ্রেফতার তৃণমূল নেতা, বাঁকুড়ায় উপপ্রধান ধৃত তোলাবাজির অভিযোগে!

বাঁকুড়ায় তৃণমূলের দুই নেতা গ্রেফতার। একজনের বিরুদ্ধে ভয় দেখানো, হুমকি এবং জরিমানা নেওয়ার অভিযোগ। অন্য জন গ্রেফতার হয়েছেন তোলা আদায়ের অভিযোগে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ মে ২০২৬ ১৬:৩৫
Bankura TMC Leaders Arrest

তৃণমূলের দুই জনপ্রতিনিধি গ্রেফতার বাঁকুড়ায়। —নিজস্ব চিত্র।

তোলাবাজি, কাটমানি নেওয়া থেকে হুমকি-হুঁশিয়ারি এবং মারধরের অভিযোগে জেলায় জেলায় গ্রেফতারি অব্যাহত। ধৃতদের অধিকাংশই তৃণমূলের। বুধবার পূর্বতন শাসকদলের দুই প্রতিনিধি গ্রেফতার হয়েছেন বাঁকুড়ায়।

Advertisement

ইন্দাসে বিজেপির এক কর্মীকে জরিমানা করা এবং ঘরছাড়া করার অভিযোগ উঠেছিল বাঁকুড়ার তৃণমূল পরিচালিত ইন্দাস পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চন্দন রক্ষিতের বিরুদ্ধে। তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্য দিকে, বাঁকুড়া জেলারই বালিখাদান থেকে মোটা অঙ্কের তোলাবাজির অভিযোগে পাকড়াও হয়েছেন কোতুলপুর ব্লকের মদনমোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তথা তৃণমূলের ‘দাপুটে’ নেতা শেখ জাকির আলি ওরফে শেখ লিটন। দুই পৃথক অভিযোগে ধৃত দুই জনপ্রতিনিধিকে বুধবার বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে হাজির করে পুলিশ।

স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে ঘরছাড়া ছিলেন ইন্দাস ব্লকের দিবাকরবাটি গ্রামের বিজেপি কর্মী সুখেন্দু রায়। বিজেপি করার ‘অপরাধে’ তাঁকে বাড়িতে বসবাস করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এমনকি, এলাকায় ব্যবসা করার জন্য মোটা অঙ্কের জরিমানা দেওয়ার নিদান দেওয়া হয়েছিল।

সুখেন্দুর পরিবারের দাবি, জরিমানা না দেওয়ায় এলাকায় ঢুকতে না-দেওয়া এবং তাঁদের সকলকে খুন করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার ওই বিজেপি কর্মী ইন্দাস থানায় গিয়ে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চন্দন রক্ষিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বালিঘাটে তোলাবাজির অভিযোগে মঙ্গলবার বাঁকুড়ার কোতুলপুর থানার পুলিশ খুনডাঙা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে তৃণমূল পরিচালিত মদনমোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জাকির ওরফে লিটনকে। স্থানীয় সূত্রে খবর, কোতুলপুর এলাকার একটি বৈধ বালিঘাটের মালিক কাজল ঘোষ মঙ্গলবার কোতুলপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। কাজলের অভিযোগ, লিটন ভয় দেখিয়ে তাঁর কাছ থেকে দফায় দফায় প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা তোলা আদায় করেছেন।

দুই গ্রেফতারি নিয়ে বিজেপির বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলার মুখপাত্র দেবপ্রিয় বিশ্বাস বলেন, ‘‘পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি হোন বা পঞ্চায়েতের কর্মকর্তা, যাঁরাই তোলাবাজি, হুমকি, মারধর এবং ক্ষমতায় থেকে সরকারি টাকা নয়ছয় করেছেন, সকলেই এ বার ধরা পড়বেন। নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে এঁদের সকলের বিরুদ্ধেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে প্রশাসন।’’

Advertisement
আরও পড়ুন