RG Kar Incident

আরজি করের ওই লিফ্‌টে বহু দিনই গোলযোগ, দুর্ঘটনার পর দাবি ভুক্তভোগীদের অনেকের, কী বলছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

দুর্ঘটনার সময় লিফ্‌টে কোনও চালক বা অপারেটর না-থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রেও রোগীর আত্মীয়দের অনেকের অভিযোগ, অধিকাংশ সময়েই লিফ্‌টে কোনও অপারেটর থাকেন না। সব কাজ নিজেদের করতে হয়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬ ১২:০৮
আরজি কর হাসপাতালে লিফ্‌টে আটকে মৃত্যু হল দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

আরজি কর হাসপাতালে লিফ্‌টে আটকে মৃত্যু হল দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ফের সংবাদ শিরোনামে আরজি কর হাসপাতাল। শুক্রবার ভোরে এই হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের একটি লিফ্‌টের ভিতর আটকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। কী কারণে লিফ্‌ট আটকে পড়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে রোগীর আত্মীয়-পরিজনেদের একাংশের অভিযোগ, ওই লিফ্‌টে বহু দিন ধরেই গোলযোগ ছিল। তার পরেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত কোনও পদক্ষেপ করেননি।

Advertisement

শুক্রবার সকালের ঘটনার পরেই লিফ্‌ট রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বিভাগগুলির কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রিপোর্ট দিতে বলা হয় হাসপাতালের বিদ্যুৎ বিভাগ এবং পূর্ত বিভাগকে। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের লিফ্‌টগুলি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকে মূলত এই দু’টি বিভাগই। হাসপাতাল সূত্রে খবর, লিফ্‌টগুলি নিয়মিত ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়ে থাকে। বিভ্রাট বা গোলযোগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষের জানা নেই বলে ওই সূত্রের দাবি।

দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় (৪০) শিশুপুত্রের চিকিৎসা করাতে শুক্রবার সকালে আরজি কর হাসপাতালে গিয়েছিলেন। ট্রমা কেয়ার সেন্টারের একটি লিফ্‌টে আটকে পড়েন তিনি। হাসপাতালের পাঁচতলায় যাচ্ছিলেন তিনি। মৃতের পরিবারের দাবি, লিফ্‌টটি উপর দিকে কিছুটা উঠে নীচে নেমে আসে। তার পর সজোরে বেসমেন্টে গিয়ে ধাক্কা খায়। প্রায় এক ঘণ্টা ভিতরে আটকে থাকার পর ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে অরূপের। তবে এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার সময় লিফ্‌টে কোনও চালক বা অপারেটর না-থাকার অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রেও রোগীর আত্মীয়দের অনেকের অভিযোগ, অধিকাংশ সময়েই লিফ্‌টে কোনও অপারেটর থাকেন না। সব কাজ নিজেদের করতে হয়। এই পরিস্থিতিতে কোন ভরসায় তাঁরা লিফ্‌টে উঠবেন, এই প্রশ্ন তুলেছেন রোগীর আত্মীয়রা। মৃতের এক আত্মীয় বলেন, “সরকারের এই বিষয়টি দেখা উচিত। একটা প্রাণ চলে গেল।”

পুত্রের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে যান অরূপের বৃদ্ধ পিতা। পুলিশের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত দাবি করেন তিনি। তাঁর আক্ষেপ, দমকলকে ডেকে লিফ্‌টের দরজা ভাঙা হলে পুত্রকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যেত।

হাসপাতাল সূত্রে খবর, কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্য ভবনের এক আধিকারিক আরজি করে যাচ্ছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের সুপার সপ্তর্ষি চট্টোপাধ্যায়। হাসপাতাল সূত্রে এ-ও জানা গিয়েছে যে, মৃত ব্যক্তির অসুস্থ পুত্রের চিকিৎসা শুরু হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৮ অগস্ট রাতে আরজি কর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে ধর্ষণ এবং খুন করা হয় এক চিকিৎসক-ছাত্রীকে। সেই ঘটনাকে ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। প্রয়াত চিকিৎসকের মা বৃহস্পতিবারই পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। এ বার কলকাতার সেই হাসপাতালেই লিফ্‌ট আটকে মৃত্যু হল এক যুবকের।

Advertisement
আরও পড়ুন