— প্রতীকী চিত্র।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানির জন্য জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে আরও ৭ দিন বাড়তি সময় চেয়েছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর। পাশাপাশি, জাতীয় নির্বাচন কমিশন স্থায়ী বাসিন্দা (পিআরসি) বা ডমিসাইল শংসাপত্র গ্রাহ্য হবে বলে জানিয়েছে। শুনানি-পর্বের শেষ লগ্নে এসে কমিশনের এই জোড়া পদক্ষেপকে সামনে রেখে রাজনৈতিক জলঘোলা অব্যাহত রইল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিয়মের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে, নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, তাদের বক্তব্যেই ‘সিলমোহর’ পড়েছে।
রাজ্যে নির্বাচনী কাজের জন্য রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যক আধিকারিক দেয়নি বলে ধারাবাহিক ভাবে বক্তব্য ছিল কমিশনের। বিষয়টি উঠেছিল সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর-সংক্রান্ত মামলার শুনানিতেও। সর্বোচ্চ আদালতে সেই মামলার শুনানির ২৪ ঘণ্টা আগে রবিবার নির্বাচনী কাজের জন্য ৮ হাজার ৫০৫ জন ‘বি’ গ্রেডের আধিকারিক দেওয়া সম্ভব বলে কমিশনকে চিঠি দিয়েছে নবান্ন। আধিকারিক দেওয়ার কথা রাজ্য সরকার আগেই জানালে মানুষের হয়রানি কম হত বলে সরব হয়েছে সিপিএম।
এসআইআর-শুনানির সময়সীমা বাড়ানো প্রসঙ্গে সিউড়িতে দলীয় কার্যালয় থেকে বিরোধী নেতা শুভেন্দু এ দিন বলেছেন, “সব জেলায় নয়, কোথাও কোথাও দরকার হতে পারে। ত্রুটিমুক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে অতিরিক্ত সময় লাগলে অসুবিধা নেই। তবে অতিরিক্ত সময় চেয়ে যদি নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, তা হলে ৫ মে-র পরে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে, যার দায় রাজ্য সরকারেরই হবে।” জাতীয় নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের ১৯৯৯-এর আদেশনামা অনুসারে তৈরি ডমিসাইল শংসাপত্র গ্রহণের কথা বলেছে, তা-ও স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেছেন, “ডমিসাইল শংসাপত্র বিশেষ ক্ষেত্রে গ্রহণ করা হবে। সবার জন্য নয়। কোনও ইআরও নিয়ম না-মানলে পদক্ষেপ করা হবে।”
পক্ষান্তরে, কমিশনের পদক্ষেপে নিজেদের ‘সাফল্য’ দেখছে তৃণমূল। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যা যা বলেছিলেন, সেগুলির কোনওটাতে মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট, কোনওটা মানতে হচ্ছে কমিশনকে।” তাঁর সংযোজন, “অল্প সময়ে তাড়াহুড়ো করে বিজেপির কথায় বৈধ ভোটারদের নাম কাটার খেলা চলতে পারে না। কাজ শেষ করতে পারেনি কমিশন। কেন অপরিকল্পিত ভাবে এসআইআর করা হচ্ছে? এটাই এখন ঘুরিয়ে মানতে হচ্ছে।”
কমিশন-রাজ্যের টানাপড়েনে মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে বলেই অভিযোগ সিপিএমের। দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, “ভোটার তালিকা নির্ভুল করার চেষ্টা দিল্লিওয়ালাদের নেই! তাই ডমিসাইল শংসাপত্র গ্রহণের কথা আগে বলতে পারেনি, শুনানির শেষ-পর্বে মনে পড়ল! কিন্তু এই শংসাপত্র ঠিক ভাবে দেওয়া হচ্ছে? পিছন দরজা দিয়ে ঢোকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে না তো? আধার কার্ডই যথেষ্ট ছিল।” পাশাপাশিই তাঁর মত, ‘‘এসআইআর-এর কাজে ৮ হাজার আধিকারিক দেওয়ার কথা রাজ্য সরকার আগে জানালে ভুল-ভ্রান্তির বহর একটু কমত। মানুষের হয়রানিও তাতে কম হত।’’ এত দিন ধরে ভোটারদের হয়রান করার দায় কে নেবে, সেই প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেছে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন।
অব্যাহত রয়েছে পথের প্রতিবাদও। ‘যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতি’র নামে কোনও বৈধ ভোটারের নাম কাটা চলবে না, এই দাবিতে আজ, সোমবার কলকাতায় কমিশনের সিইও দফতরে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের বক্তব্য, “অনুমান করছি, বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ যাবে। এটা চলবে না। যুক্তিগ্রাহ্য অসঙ্গতির এই ‘কালা কানুন’ আমরা পুড়িয়ে দেব!”