রাহুল গান্ধী। — ফাইল চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে ১০০টি আসন লুট করেছে বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তোলার পরেই রাহুল গান্ধী তাঁকেসমর্থন করেছিলেন।
এ বার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে শুভেন্দু অধিকারী প্রথমে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)-এর কাজে নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তকে তাঁর মুখ্য উপদেষ্টা ও মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে মুখ্যসচিব নিয়োগ করার পরে ফের সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল। আজ বিবৃতি তিনি বলেন, ‘বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের চোর বাজারে, যে যত বড় মাপের চুরি করবে, তাঁকে তত বড় ইনামদেওয়া হবে’!
মুখ্যসচিব পদে মনোজের নিয়োগ ঘিরে এই প্রশ্নের জবাবে আজ শুভেন্দু বলেছেন, ‘‘উনি শুধু রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) নন, রাজ্যের অন্যতম সিনিয়র আমলা। আগে সরকারের নানা দায়িত্বে কাজ করেছেন। বিজেপির সরকার আইন বহির্ভূত কিছু করেনি।’’
প্রশাসনিক একটি সূত্রের ব্যাখ্যা, রাজ্যে ১৯৯০ ব্যাচের আইএসএস-দের কাউকে দায়িত্ব না-দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ১৯৯১ ব্যাচের মনোজ পন্থকে মুখ্যসচিব করেছিল। সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আইএএস মহলের একাংশে প্রশ্ন ও ক্ষোভ ছিল। এসআইআর এবং সুষ্ঠু ভাবে বিধানসভা নির্বাচন উতরে দেওয়ার পরে মনোজকে মুখ্যসচিবের পদে এনে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চেয়েছে বিজেপি সরকার। মনোজ তাঁর কাজের ‘পুরস্কার’ পেয়েছেন, পুরনো ক্ষত উপশমেরও চেষ্টা হয়েছে।
বিরোধীদের আক্রমণ অবশ্য অব্যাহত। রাজ্যসভার আরজেডি সাংসদ মনোজকুমার ঝা বলেন, ‘‘নির্বাচনের পরে পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনের শীর্ষে নিয়োগ দেখে শেক্সপিয়রের ভাষায় বলতে হয়, ‘সামথিং ইজ় রটন ইন দ্য স্টেট অব ডেনমার্ক’। এই পচন লুকিয়ে রাখা হচ্ছে না। নৈতিকতার ভান করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও হচ্ছে না।’’ রাজ্যসভায় কংগ্রেসের সচেতক সৈয়দ নাসির হুসেন বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতার জন্য বিপজ্জনক।’’ তাঁর বক্তব্য, এসআইআরে আপিল ট্রাইবুনাল থেকে প্রাক্তন বিচারপতি টি এস শিবগণনম পদত্যাগ করেছেন। তাঁর ট্রাইবুনাল কংগ্রেস প্রার্থী মহতাব শেখের ভোটার তালিকায় নাম ফিরিয়েছিল। তাই ট্রাইবুনাল ১,৭১৭ জনকে ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে এনেছে। এসআইআই-এর ফলে বিবেচনাধীন ২৭ লক্ষ ভোটার ভোট দিতে পারেননি। এসআইআরে নিযুক্ত আমলাদের মুখ্যমন্ত্রী শীর্ষপদে নিয়োগ করছেন। কমিশনের উচিত বিষয়ের ব্যাখ্যা দেওয়া।