ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
দিল্লি গিয়ে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়েরা। ঋতব্রত ছাড়াও তাঁর শিবিরে থাকা ন’জন বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের দফতরে যান। ১০ প্রতিনিধির মধ্যে ৯ জন বিধায়ক, এক জন প্রাক্তন মন্ত্রী। ঋতব্রতদের বেলা ১২টায় সময় দিয়েছিলেন জ্ঞানেশ কুমারেরা। নির্বাচন কমিশনের দফতর থেকে বেরিয়েই আরও এক বার নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করেন ঋতব্রতেরা। নাম না-করে ‘চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাট’ বলে কটাক্ষ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
ঋতব্রতদের এই পদক্ষেপকে অবশ্য কটাক্ষ করেছে মমতার তৃণমূল। বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সমস্ত কর্মী এবং সমর্থক তাঁর সঙ্গেই আছেন। যাঁরা আজকে নিজেদের ‘আসল’ বলে দাবি করছেন, দু’মাস আগে কমিশনে তাঁরা যে হলফনামা দিয়েছিলেন, তার নির্দিষ্ট দু’টি ফর্মে মমতাদি এবং অভিষেকের সই ছিল। আজকে ভাড়াটিয়া নিজেকে বাড়ির মালিক বলে দাবি করলে কী হবে?"
অন্য দিকে, শুক্রবার দুপুরে দিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত জানান, গত ২২ জুন তাঁরা তৃণমূলের বিশেষ অধিবেশন ডেকেছিলেন। ওই বৈঠকের পর নতুন কর্মসমিতি গঠন করা হয়। সেই কর্মসমিতিতে ঠাঁই হয়নি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা অভিষেকের। নতুন কর্মসমিতির বিষয়ে অবহিত করতে তাঁরা কমিশনের কাছে সময় চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছিলেন ঋতব্রত। দলের প্রতীক এবং তহবিল কোন শিবিরের হাতে যাবে, এই প্রশ্নের উত্তরে ঋতব্রত বলেন, “কোনও রকম বিতর্কের কোনও প্রশ্নই নেই। দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। প্রাক্তন মন্ত্রীরা আমাদের সঙ্গে। কাউন্সিলররা আমাদের সঙ্গে, জেলা পরিষদের সদস্যরাও আমাদের সঙ্গে।” আমরা প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি। আশা রাখি, কমিশনের তরফ থেকে দ্রুত ডাক পাব।”
ঋতব্রতের দাবি, দলের নামে ‘তৃণমূল’ থাকলেও দলটা পারিবারিক হয়ে গিয়েছিল। তাঁরা দলটাকে আবার তৃণমূল স্তরে ফেরাতে চান বলে জানিয়েছেন ঋতব্রত। তাঁর কথায়, “আমাদের লড়াই ব্যক্তি এবং পরিবারের বিরুদ্ধে।’’ তার পরেই অভিষেকের নাম না করে তাঁর কটাক্ষ, “চার্টার্ড ব্যুরোক্র্যাটের কথায় দল চলবে না।” এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করে অভিষেকের চার্টার্ড বিমানে যাতায়াত করা নিয়েই ঋতব্রত কটাক্ষ করতে চেয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুন নিউটাউনের হোটেলে বৈঠক করে মমতা এবং অভিষেককে বাদ দিয়ে ‘তৃণমূলের’ জাতীয় কর্মসমিতি গঠন করে ফেলেছিলেন ঋতব্রত এবং তাঁর সহযোগীরা। ২৩ জুন তৃণমূল দখলের পথে আরও একধাপ এগিয়ে তাঁরা গিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরে। নতুন তৃণমূলের ‘কান্ডারি’ ঋতব্রতের সঙ্গে সিইও দফতরে গিয়েছিলেন তাঁদের তৈরি তৃণমূল কর্মসমিতির চেয়ারম্যান অরূপ রায়, সাধারণ সম্পাদক সন্দীপন সাহা এবং কোষাধ্যক্ষ আখরুজ্জামান।
সূত্রের খবর, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দেওয়া চিঠি এবং দিল্লিতে পাঠানো ইমেলে নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে দলের নাম, নির্বাচনী প্রতীক (জোড়াফুল) এবং তহবিল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা চেয়েছে ঋতব্রত শিবির। যদিও তাঁরা কমিশনের কাছে জোড়াফুল প্রতীক দাবি করেছেন কি না, জানতে চাওয়া হলে ঋতব্রতেরা বলেছিলেন, ‘‘প্রতীক দাবি করব কেন? দাবি করার কী আছে? দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক আমাদের সঙ্গে। আমরাই তো তৃণমূল।’’ বৃহস্পতিবার দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করার পর সেই বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করলেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত।