(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ করবে না দল। এই মর্মে স্পষ্ট বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সোমবার সকালে সল্টলেকে বিজেপির রাজ্য দফতরে যাওয়ার আগে শমীকের বাড়িতে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকে তাঁরা দু’জন একই গাড়িতে বিজেপি কার্যালয়ে যান। বিজেপি কার্যালয়ে বৈঠকের পর নবান্নের উদ্দেশে রওনা দেন শুভেন্দু।
শুভেন্দুর সঙ্গে বৈঠকের পর সল্টলেকের বিজেপি দফতরে শমীক বলেন, “সরকার সরকারের মতো চলবে। আর দল দলের মতো। এটি কোনও বিজেপি সরকার নয়। এটি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার।” আয়ুষ্মান ভারত, মহিলা ও বেকার ভাতার মতো প্রতিশ্রুতিগুলি কী ভাবে দ্রুত কার্যকর করা যায়, সেই বিষয়ে সরকারের সঙ্গে দল সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।
সোমবার রাজ্য মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকের পরে পক্ষপাতহীন ভাবে, সকলকে সঙ্গে নিয়ে সরকার চালানোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুও। সংবিধানপ্রণেতা বাবাসাহেব অম্বেডকরের ‘ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, অফ দ্য পিপল’-এর আদর্শ অনুসরণ করে চলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, “নতুন সরকার মানুষের আস্থা, নিরাপত্তা এবং উন্নয়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।”
গত শনিবার ব্রিগেড ময়দানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন শুভেন্দু। দিনটি ছিল ২৫শে বৈশাখ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মদিন। শপথগ্রহণের পরেই জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথকে শ্রদ্ধা জানান তিনি। বলেন, “আমি মুখ্যমন্ত্রী, আমি এখন সবার। আমি চাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক। আমি শুধু বলব, যাঁরা এখনও সমালোচনা করছেন, তাঁদের চৈতন্য হোক। বাংলার অনেক ক্ষতি হয়ে গিয়েছে। শিক্ষার মান হারিয়ে গিয়েছে, সংস্কৃতি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।” একই সঙ্গে তিনি বলেন, “আসুন আমরা বাংলাকে নবনির্মাণ করি। অনেক দায়িত্ব৷ এখন এ সব রাজনৈতিক কচকচানি, পরস্পরের সমালোচনা করার সময় নয়৷ আমরা শুধু এগিয়ে যাব।”
এ বার এর সূত্র ধরেই শমীক জানালেন, সরকারের কাজে দলের কোনও প্রভাব থাকবে না।