Lionel Messi Incident

মেসিকাণ্ড: এ বার অরূপ বিশ্বাস- সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে বিধাননগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের শতদ্রু দত্তের

গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসিকে ঘিরে যে ভিড় তৈরি হয়েছিল, সেখানে ছিলেন মূলত উদ্যোক্তা, ছবিশিকারি, নেতা, মন্ত্রী এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠজনেরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ মে ২০২৬ ০৩:০৬
গ্রাফিক আনন্দবাজার ডট কম।

গ্রাফিক আনন্দবাজার ডট কম।

লিয়োনেল মেসির সফর ঘিরে বিশ্ব দরবারে মাথা হেঁট করে দিয়েছিল কলকাতার। মেসিকাণ্ডের ক্ষত এখনও টাটকা ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে। এ বার ওই ঘটনার চরম অব্যবস্থার জন্য রাজ‍্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাস, আইএএস আধিকারিক শান্তনু বসু, রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেন মেসির সফর-আয়োজক শতদ্রু দত্ত। তাঁর দাবি, অরূপ-সহ কয়েক জন ব্যক্তির ভুলের জন্য পুরো বিষয়টি ‘পণ্ড’ হয়েছে। অনেকেই অনুমতি ছাড়াই মাঠে প্রবেশ করেছিলেন। যার জেরে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা।

Advertisement

সোমবার আনন্দবাজার ডট কম-এর তরফে যোগাযোগ করা হয়েছিল শতদ্রুর সঙ্গে। তিনি বলেন, “অরূপ বিশ্বাস, জুঁই বিশ্বাসের পাশাপাশি রাজীব কুমারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অনুষ্ঠান যাতে সুষ্ঠ ভাবে হয়, তার জন্য তাঁদের সঙ্গে আমি যোগাযোগ করেছিলাম। কিন্ত তাঁদের ভূমিকাতে আমি সন্তুষ্ট নই। তাঁদের ভুলের জন্যই পুরো অনুষ্ঠানটি পণ্ড হয়েছে। সেই কারণেই গোটের পক্ষ থেকে অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।”

গত ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে মেসিকে ঘিরে যে ভিড় তৈরি হয়েছিল, সেখানে ছিলেন মূলত উদ্যোক্তা, ছবিশিকারি, নেতা, মন্ত্রী এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠজনেরা। অভিযোগ, মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে ছিলেন অরূপ। ওই ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পরে প্রবল সমালোচনার মুখে তিনি ক্রীড়ামন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ‘অব্যাহতি’ নেন। প্রভাবশালীদের ভিড়ে একসময় মাঠে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে গিয়েছিল। মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ়ের পেটে কারও কনুইয়ের গুঁতো লাগে। কারও নখের ঘায়ে ছড়ে যায় রদ্রিগো ডি’পলের হাত। পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে মেসির নিরাপত্তারক্ষীরাই তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান। তার পরে শুরু হয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তাণ্ডব। ক্রুদ্ধ দর্শকেরা মাঠে ঢুকে পড়েন। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ওই ঘটনা নিয়ে দু’টি পৃথক মামলা হয়েছিল। প্রথম মামলায় একমাত্র গ্রেফতার শতদ্রু। দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতে শতদ্রুর জামিনের বিরোধিতা করে পুলিশ জানিয়েছিল, প্রায় ৩৫ হাজার দর্শক মেসিকে দেখবেন বলে টিকিট কেটেছিলেন। ১৯ কোটি টাকার টিকিট বিক্রি হয়েছিল। জামিন পেলে শতদ্রু প্রভাব খাটিয়ে পালিয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা ছিল পুলিশের।

Advertisement
আরও পড়ুন