নজরদারি: এলাকা চিনতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহল। সোমবার, বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটে। ছবি: সুমন বল্লভ।
কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে বলে কোনও স্কুলে ইতিমধ্যেই অতিরিক্তপেডেস্টাল পাখার বন্দোবস্ত করতে হয়েছে। কোনও স্কুলে আবার বাড়তি বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য বর্তমান বিদ্যুতের লাইনের সঙ্গে তার লাগানোর কাজ শেষ। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য অতিরিক্ত অস্থায়ী শৌচাগারও তৈরি করতে হয়েছে কোথাও কোথাও। বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যাওয়ায় আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে আসতে পারে। এ দিকে, ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির প্রথম পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়ন শুরু হওয়ার কথা পয়লা এপ্রিল। তা চলবে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত। প্রশ্ন উঠেছে, স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলে কী ভাবে পরীক্ষা হওয়া সম্ভব? তা হলে কি ভোট মিটলে পরীক্ষা হবে? প্রশ্ন প্রধান শিক্ষকদের।
যোধপুর পার্ক বয়েজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত সেন মজুমদার বলেন, ‘‘স্থানীয় থানা থেকে আমাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, ১০টি ক্লাসঘর কেন্দ্রীয় বাহিনী নেবে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ক্লাসঘরে পেডেস্টাল পাখা লাগানো হয়েছে। ১০টি ঘর নিয়ে নেওয়ার পরে বাকি সাতটা ঘরে হয়তো কোনও মতে পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা নিতে পারব। কিন্তু বাহিনী থাকা অবস্থায় পরীক্ষা কতটা সুষ্ঠু ভাবে নেওয়া যাবে, সেই সংশয় তো থাকছেই।’’
যোধপুর পার্ক বয়েজ় তাদের সাতটি ক্লাসঘরে পরীক্ষা নিয়ে নিতে পারলেও ব্রাহ্ম বালিকা শিক্ষালয়ে সেই পরিস্থিতি নেই। ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা রুবি সাহা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘শুনছি, আগামী সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে আসবে। বাহিনী যে দিন আসবে, সে দিন থেকেই স্কুল ছুটি দিয়ে দিতে হবে। তা হলে ১ এপ্রিল থেকে প্রথম পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। সে ক্ষেত্রে বাহিনী চলে যাওয়ার পরে, অর্থাৎ মে মাসে পরীক্ষা নিতে হয়। তত দিনে আবার গ্রীষ্মের ছুটি পড়ে যাবে না তো?’’ রুবির মতে, মেয়েদের স্কুলে মহিলা কেন্দ্রীয় বাহিনী রাখা হলে এত আগে স্কুল ছুটি দেওয়ার দরকার হত না। পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষাও হয়তো নির্দিষ্ট সময়ে নেওয়া যেত।
শিয়ালদহ টাকি গার্লসের প্রধান শিক্ষিকা শম্পা চক্রবর্তী বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী আগামী সপ্তাহে চলে আসতে পারে বলে জানিয়েছে স্থানীয় থানা। তা হলে আমরা কী ভাবে পয়লা এপ্রিল থেকে পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা নেব?’’ টাকি বয়েজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা স্বাগতা বসাক জানান, তাঁদের স্কুলের দ্বিতীয় ক্যাম্পাস রয়েছে সূর্য সেন স্ট্রিটে। কেন্দ্রীয় বাহিনী স্কুলে চলে এলে প্রথম পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা নিতে হবে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে।
শুধু পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষা নয়। শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, এখন উচ্চ মাধ্যমিকের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার নম্বর এবং একাদশ শ্রেণির দ্বিতীয় সিমেস্টারের নম্বর আপলোড করার কাজ চলছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী স্কুলে চলে এলে সেই কাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে। নম্বর আপলোড নির্দিষ্ট সময়ে না হলে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল নির্ধারিত সময়ে বেরোনো নিয়ে আশঙ্কা থেকে যাবে। যদিও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকার বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনী স্কুলে চলে এলেও প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার নম্বর আপলোড করতে অসুবিধা হবে না। উচ্চ মাধ্যমিকের ফল যাতে নির্ধারিত সময়েই বেরোয়, সেই ব্যবস্থা নিচ্ছি।’’