Panchayat Law

অনাস্থায় রাশ, পঞ্চায়েত আইনে বদল সরকারের

চলতি বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিন, শনিবার পঞ্চায়েতের তিন স্তরে অনাস্থা সংক্রান্ত আইন সংশোধন করেছে সরকার। নবান্নের এই উদ্যোগের কথা অবশ্য বিধানসভাকে আগাম জানানো হয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৫২
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

বিধানসভা ভোটের আগে আচমকা পঞ্চায়েত আইন সংশোধন করে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চাইল রাজ্য সরকার। বোর্ড গঠনের তিন বছরের মধ্যে অনাস্থা জানিয়ে মুখ বদলের পথ বন্ধ করে দেওয়া হল সংশোধিত আইনে। সরকারের তরফে উন্নয়নমের কাজকর্ম নির্বিঘ্ন করার যুক্তি দেওয়া হলেও রাজনৈতিক শিবিরের বড় অংশের ধারণা, গোষ্ঠী-কোন্দলের ফলে বিধানসভা ভোটে যাতে ক্ষতি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই পুরনো আইন বদলের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শাসক শিবির।

চলতি বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিন, শনিবার পঞ্চায়েতের তিন স্তরে অনাস্থা সংক্রান্ত আইন সংশোধন করেছে সরকার। নবান্নের এই উদ্যোগের কথা অবশ্য বিধানসভাকে আগাম জানানো হয়নি। শেষ দিনের কার্যসূচির তালিকায় এই বিল ছিল না। কার্য উপদেষ্টা (বি এ) কমিটির বৈঠক করে ঠিক হয়, এ দিনই অধিবেশনে পঞ্চায়েত আইনে সংশোধনী বিল পেশ হবে। বিধানসভায় পাশ হওয়া ওই সংশোধনী অনুষায়ী গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের তিন বছর পূরণ হওয়ার আগে অনাস্থা আনা যাবে না। এই তিন বছর ধরা হবে সংশ্লিষ্ট প্রধান বা সভাধিপতির নেতৃত্বে কাজ শুরুর দিন থেকে। পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদারের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, পদাধিকারী বদলের আইনের ‘অপব্যবহার’ ঠেকাতে সরকার এই পদক্ষেপ করছে। একই সঙ্গে উন্নয়নমূলক কাজের ধারা অব্যাহত রাখতেও এই বদল প্রয়োজন বলে মনে করেছে পঞ্চায়েত দফতর। জবাবি বক্তৃতায় একই কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, পঞ্চায়েতের মূল আইনে বলা ছিল, তিন স্তরেই ৬ মাসের আগে পরবর্তী অনাস্থা আনা যাবে না। তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পরে পঞ্চায়েতমন্ত্রী সু্ব্রত মুখোপাধ্যায়ের আমলে ওই সময়-সীমা বাড়িয়ে আড়াই বছর করা হয়েছিল। এখন তা বেড়ে হল তিন বছর।

প্রস্তাবিত বিল নিয়ে আলোচনায় সরকার পক্ষের দুই বিধায়ক অপূর্ব সরকার ও সমীর জানা সরকারের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁরা মনে করেন, কাজের গতি অব্যাহত রাখতে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিন স্তরেই স্থিতাবস্থা দরকার। তবে কাঁথি (দক্ষিণ) কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক অরূপ কুমার দাস এই সিদ্ধান্তকে পঞ্চায়েত স্তরে গণতন্ত্রকে সঙ্কুচিত করার পরিকল্পনা বলেই উল্লেখ করেন। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূলের সময়ে অর্থ কমিশনের বরাদ্দ অর্থে রাজ্য সরকার নিজেদের অংশ কমিয়ে এনেছে। সেখানকার অর্থে ভোটের আগে ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’-এর মতো প্রকল্প ঘোষণা করে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা কায়েম করেছে। তাতে জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা থাকছে না।’’ তাঁর দাবি, অনাস্থার সঙ্গে কাজের কোনও সম্পর্ক নেই। আইন সংশোধন নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা খারিজ করে তিনি বলেন, ‘‘কাজ তো ব্যক্তির উপরে নির্ভর করে না। প্রকল্প সরকারি নিয়মে চলে।’’

রাজনৈতিক শিবিরের ধারণা, পঞ্চায়েতের তিন স্তরেই পদ-প্রত্যাশীদের তৎপরতায় দলের ক্ষতি হতে পারে। তা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিধানসভায় পাশ হলেও আইনটি কার্যকর হবে রাজ্যপালের অনুমোদন পাওয়ার পরে। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা কমই। তৃণমূল শিবিরের একাংশের আলোচনায় উঠে আসছে, এর জেরে বিজেপির হাতে থাকা কিছু পঞ্চায়েতে ‘অভিযানে’র ভাবনা আপাতত ধাক্কা খেল!

আরও পড়ুন