তারাতলায় বৃষ্টিতে উদ্ধারকাজে বাধা, ধ্বংসস্তূপে চলছে প্রাণের খোঁজ। ছবি: পিটিআই।
স্বামী বেঁচে আছেন, এই আশায় বুক বেঁধে রাতভর এসএসকেএম হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের মূল দরজার পাশে বসে ছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে দুর্ঘটনাস্থল থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে আসে একটি দেহ। দৌড়ে গিয়ে হাতের উল্কি দেখে প্রথমে আর্তনাদ, তার পরেই “না, না, ও বেঁচে আছে” বলতে বলতে অজ্ঞান হয়ে যান রানিগঞ্জের নেহা দেবী।
পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জে লায়েকবাঁধে স্ত্রী আর তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে ছিল নবীন সিংহের (৪৪) সংসার। দশম শ্রেণিতে পড়া বড় ছেলেকে নিয়ে কলকাতায় এসেছেন নেহা। দুঃসংবাদ পেয়ে বিহারের মুঙ্গের জেলার ধাড়ারা থেকে চলে এসেছেন নবীনের বাবা জওহর সিংহ। বুধবার প্রথম উত্তর ২৪ পরগনার শ্যামনগর থেকে তারাতলায় কাজে যান স্বপন মণ্ডল। তাঁর পরিজনও ভোর থেকে এসএসকেএমে অপেক্ষায়। সকালেই হাসপাতালে আসেন খিদিরপুর হাইড রোডের বাসিন্দা নীলা দেবী। চা, জল জোগাতেন তিনি। বুধবার তাঁর জায়গায় যান বদন মুন্ডা। বদন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। নীলার দাবি, “আগে থেকেই ছাদ কাঁপছিল। তবু পেটের দায়ে যেতাম।”
গার্ডেনরিচের বছর চুয়াল্লিশের হাসান ইমামও বুধবারই প্রথম ওই গুদামে সুপারভাইজ়ারের কাজে যান। সকালে উদ্ধার হয় দেহ। মুঙ্গের থেকে আসা একই পরিবারের ছ’জন ওই গুদামে কাজে লেগেছিলেন। বুধবার গভীর রাতে সেই দলের মন্নু কুমার ফোন করে পরিজনকে জানান, তিনি আর তাঁর ভাই ঘি কুমার ধ্বংসস্তূপে আটকে। সকালে জওয়ানেরা দু’জনকে উদ্ধার করেন। তবে ঘি কুমার (১৭) মারা গিয়েছে। মন্নুর বাবা রাজেন্দ্র রাও, আত্মীয় শহিদ কুমার ও মানিকচাঁদ কুমার ট্রমা কেয়ারে ভর্তি। শিরচাঁদ কুমার নামে আর এক জন নিখোঁজ।
পূর্ব বর্ধমানের রোহিত চৌধরির দেহ এ দিন গ্রামে ফেরে। তাঁর মা নীলম বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন। বাসন্তীর রামচন্দ্রখালি থেকে কলকাতা দেখতে এসে দাদাদের কর্মস্থলে যাওয়া সাহিল সর্দারের (১৭) দেহ মিলেছে ধ্বংসস্তূপে। সকালে নদিয়ার কৃষ্ণনগরের কাছে চর শম্ভুনগর গ্রামে পৌঁছয় রাহুল চৌধুরী ও চন্দ্রমা চৌধুরীর দেহ। মা মীনা দেবী রাহুলের দেহ আঁকড়ে ছিলেন। চন্দ্রমার বড় মেয়ে মালা বলছিলেন, “বাবাকে ওরা মেরে ফেলল।”