Howrah Municipal Corporation

হাওড়া পুরসভার ভোটের জট কাটাতে বিধানসভায় সংশোধনী বিল আনছে রাজ্য সরকার, বাড়তে পারে ওয়ার্ড সংখ্যা

শনিবার বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিন দ্বিতীয়ার্ধে ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬’ পেশ করা হবে। এই বিল পাশ হয়ে গেলে, তা পাঠানো হবে রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য। তিনি বিলে স্বাক্ষর করলেই, হাওড়া পুরসভা ভোটে আর কোনও জটিলতা থাকবে না বলেই দাবি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের একাংশের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪০
The state government is bringing an amendment bill to resolve the deadlock over the Howrah Municipal Corporation elections

হাওড়া পুরসভার নির্বাচন সংক্রান্ত জটিলতা কাটাতে তৎপর রাজ্য সরকার। —ফাইল চিত্র।

বিধানসভার অধিবেশন শেষ হচ্ছে শনিবার। সেই দিনেই হাওড়া পুরসভার ভোটের জট কাটাতে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংশোধনী বিল আনছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার বিধানসভায় অধিবেশন শুরুর আগে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠক বসে। সেই বৈঠকে ঠিক হয়েছে, বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিন অর্থাৎ, শনিবার দ্বিতীয়ার্ধে ‘হাওড়া মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (সংশোধনী) বিল ২০২৬’ পেশ করা হবে। এই বিল পাশ হয়ে গেলে, তা পাঠানো হবে রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য। তিনি বিলে স্বাক্ষর করলেই, হাওড়া পুরসভা ভোটে আর কোনও জটিলতা থাকবে না বলেই দাবি পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের একাংশের।

Advertisement

বিধানসভার সচিবালয় সূত্রে খবর, বিলটিতে হাওড়া পুরসভার ৫০টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ৬৬টি ওয়ার্ড করা হচ্ছে। বিলটি বিধানসভায় পাশ হয়ে গেলে তা যাবে লোকভবনে রাজ্যপালের কাছে। তিনি বিলে অনুমোদন দিলেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে বলেই দাবি তৃণমূল পরিষদীয় দলের। কারণ, ২০১৮ সাল থেকে হাওড়া পুর নিগমের ভোট আটকে রয়েছে আইনি জটিলতায়। শেষ বার হাওড়া পুরসভায় ভোট হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৫ সালে বালি পুরসভাকে হাওড়া পুরসভার সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় বালি পুরসভার ৩৫টি ওয়ার্ডকে ভেঙে ১৬টি ওয়ার্ড তৈরি করে তা জুড়ে দেওয়া হয়েছিল হাওড়া পুরসভায়। কিন্তু ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় হাওড়া পুরসভার সংশোধনী বিল এনে আবারও বালি ও হাওড়াকে পৃথক করে দেওয়া হয়। তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড় হাওড়া পুরসভার বালির অংশতে কত পরিমাণ অর্থ খরচ করা হয়েছে সেই সংক্রান্ত বিষয়ে কিছু প্রশ্ন তোলেন। এই নিয়ে নবান্নের সঙ্গে তৎকালীন রাজভবনের টানাপড়েন শুরু হয়েছিল।

আর এ বার সব টানাপড়েন শেষ করে নতুন করে আইন সংশোধন করে হাওড়া পুরসভাকে নয়া রূপ দেওয়া হচ্ছে। যেখানে ৬৬টি ওয়ার্ড থাকবে। এই বিলে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস অনুমোদন দিলেই তা আইনে পরিণত হবে। পরে ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে ৬৬টি ওয়ার্ড তৈরি হয়ে গেলে হাওড়া পুরসভায় ভোটের রাস্তা প্রশস্ত হয়ে যাবে বলেই মনে করছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর। এই বিলের আলোচনায় অংশ নেবেন শাসক তৃণমূল ও বিরোধী বিজেপি বিধায়কেরা। বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী হাজির না-হলেও তিনি নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন, দলের পুরসভায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকা বিধায়কদের হাওড়া পুরসভার বিল নিয়ে বক্তৃতা করতে।

অন্য দিকে, শনিবার বিধানসভায় আরও একটি বিল এনে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদল করে মুর্শিদাবাদ রাজা কৃষ্ণনাথ বিশ্ববিদ‍্যালয় করা হবে। মুর্শিদাবাদ কৃষ্ণনাথ কলেজকে মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়কে নাম করায় রাজা কৃষ্ণনাথের নাম মুছে যাওয়ায় মুর্শিদাবাদবাসীর ভাবাবেগে আঘাত লেগেছিল। সে কথা মাথায় রেখেই এই নামবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন