Bus Fire

চলন্ত বাসে আগুন লাগার ঘটনা রুখতে সেফটি কমিটি গঠনের নির্দেশ পরিবহণ দফতরের, প্রশ্ন তুলছে বাস সংগঠন

বেসরকারি যাত্রী পরিবহণ অপারেটরদের প্রতিটি জেলায় ডিস্ট্রিক্ট রোড সেফটি কমিটি (ডিআরএসসি)-এর মাধ্যমে একটি ‘প্যাসেঞ্জার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি সেল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সেলের মূল কাজ হবে বাসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নজরদারি করা, যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণ করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:২২
গত কয়েক মাসে সরকারি বেসরকারি বাসে এভাবে লেগেছে আগুন।

গত কয়েক মাসে সরকারি বেসরকারি বাসে এভাবে লেগেছে আগুন। ফাইল ছবি।

কলকাতা ও শহরতলিতে সরকারি ও বেসরকারি বাসে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বিগ্ন রাজ্য পরিবহণ দফতর। যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে রাজ্যের পরিবহণ দফতর রাষ্ট্রায়ত্ত পরিবহণ সংস্থাগুলির পাশাপাশি বেসরকারি বাস অপারেটরদের জন্যও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে। পরিবহণ দফতরের নির্দেশে বলা হয়েছে, যেহেতু রাজ্যের বিভিন্ন রুটে বাস চালানোর দায়িত্ব পরিবহণ দফতরের অধীন ও অনুমোদিত সংস্থাগুলির হাতে, তাই অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত ব্যবস্থা আরও কঠোর ভাবে কার্যকর করতে হবে। প্রতিটি বাসে কার্যকর অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, নিয়মিত বৈদ্যুতিক তার ও ইঞ্জিনের পরীক্ষা এবং চালক ও কন্ডাক্টরদের অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলার প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু নির্দেশিকা জারি এবং কমিটি গঠনে বাসে আগুন লাগার ঘটনা রোধ করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাসমালিকদের সংগঠন।

Advertisement

এ ছাড়াও বেসরকারি যাত্রী পরিবহণ অপারেটরদের প্রতিটি জেলায় ডিস্ট্রিক্ট রোড সেফটি কমিটি (ডিআরএসসি)-এর মাধ্যমে একটি ‘প্যাসেঞ্জার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি সেল’ গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সেলের মূল কাজ হবে বাসের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নজরদারি করা, যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণ করা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

পরিবহণ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাসে আগুন লাগার ঘটনাগুলি যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। সেই কারণেই নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সুসংহত করতে এই পদক্ষেপ। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে দফতর।

শুধু কমিটি গঠন করে এই ধরনের সমস্যা মেটানো যাবে না বলেই মত প্রকাশ করেছে বেসরকারি বাসমালিকদের সংগঠনগুলি। সিটি সাবার্বান বাস সার্ভিসের নেতা টিটু সাহা বলেন, ‘‘বাসে কেন আগুন লাগছে, এই বিষয়টি আগে নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমাদেরকে নিয়ে কোনও কমিটি গঠন করলে, সেই সমস্যা মিটবে না। বিষয়টি পুরোপুরি টেকনিক্যাল। পরিবহণ দফতর যে বাসের আগুন রোধ করতে পদক্ষেপ করেছে, সেই সিদ্ধান্তে আমরা খুশি। এ প্রসঙ্গে আমরা নিজের মতামত জানাতে পারব। তবে সবচেয়ে আগে টেকনিক্যাল কারণ জেনে ব্যবস্থা নিলে তবেই এই ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বাঁচা সম্ভব হবে।’’ বাস-মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রাহুল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘রোড সেফটি তো আগে থেকেই রয়েছে, তার পর আবার একটি কমিটি গঠন করা হচ্ছে কেন? হাইব্রিড গাড়ি বাজারে এসেছে, সেই সব গাড়ি প্রসঙ্গে চালকদের অবগত করা দরকার। কারণ, হাইব্রিড গাড়ি নানা কারণে উত্তপ্ত হতে পারে, আগুন লাগতে পারে। সেই সব বিষয় আগে শিক্ষিত হতে হবে। পরিবহণ দফতরের উচিত গাড়ি কোম্পানিগুলিকে চালকদের গাড়ি প্রসঙ্গে প্রশিক্ষণ দিতে বলা।’

Advertisement
আরও পড়ুন