President Draupadi Murmu's Bengal Visit Controversy

কেন অনুপস্থিত মুখ্যমন্ত্রী, কেন অনুষ্ঠানের স্থানবদল? রাষ্ট্রপতির প্রোটোকল-বিতর্কে নবান্ন কী রিপোর্ট পাঠাল শাহের মন্ত্রককে

গত ৭ মার্চ শনিবার রাষ্ট্রপতির রাজ্য সফরে প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগের পর অমিত শাহের মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে রিপোর্ট চায়। রাষ্ট্রপতি অনুযোগের সুরে বলেছিলেন, আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিদের ওই অনুষ্ঠানে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ মার্চ ২০২৬ ১৭:৫২
(বাঁ দিক থেকে) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

(বাঁ দিক থেকে) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। —ফাইল ছবি।

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাম্প্রতিক রাজ্য সফরে প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রকে এ বার রিপোর্ট জমা দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি, সে ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।

Advertisement

জানা গিয়েছে, রবিবার বেলার দিকে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহনের কাছে রাষ্ট্রপতির সফর এবং প্রোটোকল সংক্রান্ত নথি ও উত্তরবঙ্গ সফরের ওই সম্পর্কিত ঘটনা সংবলিত তথ্য পাঠিয়েছেন। রাজ্যের এক আমলাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা পিটিআই তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘‘ঘটনার পুরো ক্রম ব্যাখ্যা করে প্রাসঙ্গিক নথি-সহ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে তথ্য পাঠানো হয়েছে। আমরা প্রতিটি পর্যায়ে গৃহীত প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের রেকর্ড রেখেছি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না, তা-ও রিপোর্টে ব্যাখ্যা করা হয়েছে।’’ তা ছাড়াও, রাষ্ট্রপতি মুর্মুর সফরের সময় আন্তর্জাতিক আদিবাসী ও সাঁওতাল সম্মেলনের স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পিছনের কারণগুলি সম্পর্কে রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে অবহিত করেছে।

গত ৭ মার্চ শনিবার রাষ্ট্রপতির রাজ্য সফরের পরে প্রোটোকল লঙ্ঘনের অভিযোগের পর অমিত শাহের মন্ত্রক পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে রিপোর্ট চায়। রাষ্ট্রপতি অনুযোগের সুরে বলেছিলেন, আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধিদের ওই অনুষ্ঠানে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের স্থান পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী সেখানে ছিলেন না বলেও খেদ প্রকাশ করেন মুর্মু। তাঁর ‘মমতাদি আমার ছোট বোন। জানি না, আমার উপর কী রাগ...’ মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে বিতর্ক শুরু হয়। জবাবে কলকাতার ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে ওই অনুষ্ঠানের কথা জানতেনই না। মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রাষ্ট্রপতির রাজ্য সফর সম্পর্কে অবহিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা কারা, কী নিয়ে এই অনুষ্ঠান, এ সব নিয়ে তাঁর ধারণাই ছিল না। কিন্তু এখানেই বিতর্ক থেমে থাকেনি। অচিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং এ নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেন। পরে মৌখিক ভাবেও মমতার সরকারের ভূমিকার নিন্দা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে অপমান করা হয়েছে।

অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা জানান, জেলা প্রশাসনের তরফে কোনও প্রোটোকল ভাঙা হয়নি। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে এবং বিদায় জানানোর সময়ে কারা থাকবেন, তা আগে থেকেই স্থির হয়ে ছিল এবং রাষ্ট্রপতির সচিবালয় থেকেই তাতে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। সেই তালিকায় কোথাওই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে তাঁর নামই ছিল না। ঘটনাক্রমে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট চায় শাহের মন্ত্রক।

নবান্ন সূত্রে খবর, রাষ্ট্রপতি মুর্মুর সফরের সময় আন্তর্জাতিক আদিবাসী ও সাঁওতাল সম্মেলনের স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্তের পিছনের কারণ সম্পর্কে রাজ্য সরকার কেন্দ্রকে অবহিত করেছে। রাষ্ট্রপতি যখন রাজ্যে আসেন তখন মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে মুখ্যসচিবের কাছে পাঠানো চিঠিতে জবাব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘ব্লু বুক’ নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘনের কথা বলেছিল। ‘ব্লু বুক’ একটি গোপনীয় নথি, যেখানে রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁদের পরিবারের নিরাপত্তার নিয়ম এবং প্রোটোকল তালিকাভুক্ত করা হয়। সে ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে বলে খবর।

Advertisement
আরও পড়ুন