Election 2026

ভোটের আগে বেসরকারি বাস অধিগ্রহণে সমস্যা বাড়তে পারে পরিবহণ পরিষেবায়, সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি বাস সংগঠনের

সম্প্রতি পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও পরিবহণসচিব সৌমিত্র মোহনের কাছে দাবি জানানো হলেও তা নিয়ে আলোচনার কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ বাস সংগঠনের। তাদের বক্তব্য, সরকারের নির্ধারিত ভাড়ায় বাধ্যতামূলক ভাবে বাস দিতে হয়, কিন্তু সেই অর্থে মালিকেরা ন্যায্য পারিশ্রমিক পান না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৪৩
bus

—প্রতীকী ছবি।

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে আধাসামরিক বা কেন্দ্রীয় বাহিনী আসা শুরু হবে আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে— এমন খবরের প্রেক্ষিতে বেসরকারি বাস অধিগ্রহণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল জয়েন্ট কাউন্সিল অফ বাস সিন্ডিকেটস। সংগঠনের সম্পাদক তপন বন্দ্যোপাধ্যায় এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন, দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা না করেই রাস্তায় নেমে বাস অধিগ্রহণ শুরু হয়েছে, যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। এ ভাবে রাস্তা থেকে বাস তুলে নেওয়া হলে যেমন বাসমালিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে কোনও আলোচনার পরিসর থাকবে না, তেমনই নিত্যযাত্রীদের পরিবহণ পরিষেবা শিকেয় উঠবে।‌

Advertisement

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ১৯৫২ সাল থেকে এ রাজ্যে যে কোনও নির্বাচনে বেসরকারি বাস ব্যবহার করা হয়ে আসছে এবং বাসমালিকেরা সব সময় সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু তাঁদের ন্যায্য দাবি সরকার বা নির্বাচন কমিশন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে না। সম্প্রতি পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী ও পরিবহণসচিব সৌমিত্র মোহনের কাছে দাবি জানানো হলেও তা নিয়ে আলোচনার কোনও উদ্যোগ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ। সংগঠনের বক্তব্য, সরকার নির্ধারিত ভাড়ায় বাধ্যতামূলক ভাবে বাস দিতে হয়, কিন্তু সেই অর্থে মালিকেরা ন্যায্য পারিশ্রমিক পান না। পাশাপাশি শ্রমিকদের একটানা ২৪ ঘণ্টা ডিউটি করতে বলা হয়, অথচ উপযুক্ত খোরাকি বা সুযোগ-সুবিধা মেলে না। এর ফলে শ্রমিক অসন্তোষও বাড়ছে। সঙ্গে রাস্তা থেকে আচমকা বেসরকারি বাস তুলে নেওয়া হলে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের জন্য কী বন্দোবস্ত করা হবে, তা নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

সংগঠনের আরও প্রশ্ন, সরকারের নিজস্ব বাস থাকা সত্ত্বেও কেন সেগুলি অধিগ্রহণ করা হয় না? কোনও নির্বাচনে সরকারি বাস অধিগ্রহণের নজির নেই বলেও দাবি সংগঠনের। তাদের মতে, বেসরকারি বাস অধিগ্রহণ হলে সম্পূর্ণ দায়িত্ব মালিকদের উপর বর্তায়, কিন্তু সরকারি বাসের ক্ষেত্রে সেই সমস্যা থাকে না। ওই সংগঠনের আশঙ্কা, মার্চের শুরু থেকেই যদি ব্যাপক হারে বাস অধিগ্রহণ চলতে থাকে, তবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য পরিষেবা কমে যাবে এবং নিত্যযাত্রীদের ভোগান্তি বাড়বে। তাই অবিলম্বে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমাধানমূলক বৈঠকের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায়, প্রয়োজনে আইনের আশ্রয় নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে জয়েন্ট কাউন্সিল।

পরিবহণ দফতরের একটি সূত্র জানাচ্ছে, বাস নেওয়া হবে এমন কোনও কথা এখনই শুরু হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা করাই এখন অমূলক।

Advertisement
আরও পড়ুন