রবিবার বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের অফিসে দলে ফিরলেন দীপেন্দু বিশ্বাস। ছিলেন বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় ও জেলা তৃণমূলের সভাপতি বুরহানুল মুকদ্দিম। — নিজস্ব চিত্র।
বিজেপি ছেড়ে ফের তৃণমূলে ফিরলেন প্রাক্তন ফুটবলার-বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস। রবিবার বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ে বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায় ও জেলা তৃণমূলের সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিম (লিটন)-এর উপস্থিতি তৃণমূলে যোগদান করেন তিনি। দীপেন্দু ছাড়াও কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম এবং আইএসএস থেকে মোট ২৮ জন নিচুতলার কর্মীও তৃণমূলে যোগদান করেছেন।
তবে রবিবার সবচেয়ে নজরকাড়া যোগদান ছিল দীপেন্দুর। কারণ তিনি বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রথমবার তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি। সেবার বিজেপি প্রার্থী শমীক ভট্টাচার্যের কাছে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যান তিনি।
২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে আবারও তাঁকে ওই আসনে টিকিট দেয় তৃণমূল। সেবার বিজেপি বিধায়ক শমীককে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য বিধায়ক হন দীপেন্দু। ২০২১ সালে ওই আসনে প্রার্থীবদল করে শাসকদল। ফুটবলার দীপেন্দুর বদলে প্রার্থী করা হয় বসিরহাটের চক্ষু চিকিৎসক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়কে। টিকিট না পেয়ে তড়িঘড়ি তৎকালীন বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের হাত ধরে পদ্ম শিবিরে যোগদান করেন এই ফুটবলার। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে প্রচারে যোগ দিলেও, ফলাফল ঘোষণায় তৃণমূলের বিরাট জয়ের পর পদ্ম শিবির থেকে নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেন দীপেন্দু।
মাঝে তৃণমূল নেতৃত্বের কাছে লিখিত ভাবে দলে ফেরার আবেদন করেছিলেন বসিরহাট দক্ষিণের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। সেই সময় তার আবেদন গৃহীত না হলেও, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে আবারও দলে ফেরানো হল দীপেন্দুকে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তাঁকে প্রার্থী করা হবে কি না এই বিষয়ে উচ্চবাচ্য করেননি বসিরহাট জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তবে বিধায়ক সপ্তর্ষি বলেন, ‘‘প্রাক্তন বিধায়ক ও স্বনামধন্য ফুটবলার আবার তৃণমূলে যোগদান করেছেন। তাতে আমাদের দল আরও শক্তিশালী হল, তাঁকে নিয়েই আমরা বসিরহাটের উন্নয়নের কাজ করব।’’