—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
ভুয়ো শংসাপত্রের অভিযোগ ধরা পড়ার পরে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির (ওবিসি) সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইনে সংশোধন এনেছে রাজ্য সরকার। কলকাতা হাই কোর্টের এই সংক্রান্ত নির্দেশকে সামনে রেখে বিধানসভায় বিল পাশ করে ওবিসি সংরক্ষণের পরিধি সঙ্কুচিত করা হয়েছে, অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনের হাতে নতুন করে ওবিসি যাচাইয়ের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। একই ভাবে জন্মের শংসাপত্রে জল ধরা পড়ায় এ বার জন্ম ও মৃত্যুর নথিভুক্তি সংক্রান্ত বিধি বদল করতে চাইছে বিজেপি সরকার।
রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বৃহস্পতিবার অনুমোদিত হয়েছে প্রস্তাবিত বিল ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থস অ্যান্ড ডেথ্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) রুলস, ২০২৬’-এর খসড়া। সূত্রের খবর, বিধি পরিবর্তন করে জন্ম ও মৃত্যুর নথিভুক্তি, ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ, শংসাপত্র প্রদান, বিলম্বিত নথিভুক্তির নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। আবেদনের প্রক্রিয়া এবং নির্ধারিত ফর্মেও কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে সূত্রের ইঙ্গিত। একই সঙ্গে মন্ত্রিসভার এই বৈঠকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সিলমোহর পড়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) প্রণয়নের জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে একটি কমিটি গড়ার সিদ্ধান্তেও। ওই কমিটি চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। তার পরে আগামী অগস্টে বিধানসভায় এই সংক্রান্ত বিল পেশ হতে পারে।
ভোটার তালিকার বিশে নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) সময়ে রাজ্যে জন্মের শংসাপত্র নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ সামনে এসেছিল। সরকারি সূত্রের খবর, শংসাপত্র যাচাই করতে গিয়ে ১৫%-এর বেশি ক্ষেত্রে গরমিল ধরা পড়েছে। বিশেষত, জন্মের ৬ মাস, এক বছর বা আরও পরে যে সব শংসাপত্র জারি হয়েছে, সেখানে জল বেশি চিহ্নিত হয়েছে। যে সব শংসাপত্র ডিজিটাইজ় করা হয়েছে, তা-ও এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর পরে আইনি প্রক্রিয়ায় বদল এনে এই দুই ক্ষেত্রেই ছাঁকনি বাড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনিক এক আধিকারিকের বক্তব্য, ‘‘শংসাপত্রে কারচুপিও এক ধরনের চুরি। শংসাপত্র ঠিক না-থাকলে সরকারি পরিষেবার ক্ষেত্রেও যোগ্যতা যাচাই ঠিক হবে না। এই বিষয়টাকে এ বার ত্রুটিমুক্ত করার চেষ্টা হবে।’’
সূত্রের খবর, মন্ত্রিসভার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফের স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজ্যের আদিবাসী, মূলবাসী, কুড়মি এবং অন্যান্য স্বীকৃত প্রাচীন জনজাতি সম্প্রদায়কে দেওয়ানি বিধির বাইরে রাখা হবে। উত্তরাখণ্ড ও গুজরাতের মডেল অনুসরণ করেই এই ব্যতিক্রম রাখা হচ্ছে। বিল তৈরির ক্ষেত্রে গুজরাতের ইউসিসি বিল, ২০২৬, অসমের ইউসিসি আইন এবং উত্তরাখণ্ডের ইউসিসি আইন, ২০২৪-কে ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ, একত্রবাসের সম্পর্ক-সহ ৭ থেকে ৯টি বিষয়ে বর্তমান আইন ও বিধানের পর্যালোচনা করবে ইউসিসি সংক্রান্ত নতুন কমিটি। তারা যেমন বিস্তারিত সমীক্ষা চালাবে, তেমনই কমিটির কাছে লিখিত ভাবে প্রস্তাব বা মতামত জানানোর সুযোগ থাকবে।