—প্রতীকী চিত্র।
দুর্ঘটনার পর কেটে গিয়েছে এক সপ্তাহ। এখনও তারাতলার নির্মীয়মাণ গুদামের ভগ্নস্তূপ সরানোর কাজ শুরু হয়নি। ওই ভগ্নস্তূপের তলায় কেউ আটকে আছেন কি না, সে ব্যাপারেও এখনও তাই নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যদিও উদ্ধারকারী এবং তদন্তকারীদের মতে, ধ্বংসস্তূপের তলায় কারও জীবিত থাকার সম্ভাবনা কার্যত নেই। তবে কারও দেহ বা দেহাংশ আটকে থাকতে পারে। মঙ্গলবার পুলিশের এক কর্তা জানিয়েছেন, এনডিআরএফ জানিয়েছে যে ধ্বংসস্তূপের নীচে আর কারও আটকে থাকার আশঙ্কা নেই।
তবে অনেকেই মনে করাচ্ছেন, গার্ডেনরিচে নির্মীয়মাণ বহুতল ভেঙে পড়ার ঘটনায় উদ্ধার কাজ শেষ করে এনডিআরএফ ফিরে যাওয়ার পরে ধ্বংসস্তূপের তলা থেকে দেহ উদ্ধার হয়েছিল। কেন ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে না, সে ব্যাপারে একটি সূত্রের দাবি, ‘তদন্তের স্বার্থে’ ওই ধ্বংসস্তূপ ‘সিল’ করা আছে। তদন্তকারীদের কাছ থেকে ছাড়পত্র পেলে তবেই কলকাতা পুরসভা ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করতে পারবে।
এ দিকে, কেন ভেঙে পড়ল এবং এই গুদামের নকশা অনুমোদন-সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে কী কী অনিয়ম হয়েছে, কে কে তার অংশীদার— সেই তদন্ত চালাচ্ছে লালবাজারের ‘সিট’। এই ঘটনায় ধৃত পুর-আধিকারিক কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (মেয়র থাকাকালীন ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি) এবং অন্যান্য অভিযুক্তকে জেরা করছেন তদন্তকারীরা। এরই মধ্যে গ্রেফতারের চারদিন পর মঙ্গলবার কলকাতা পুরসভার পদ থেকে নিলম্বিত করা হয়েছে কালীচরণকে। গ্রেফতার হওয়ার আগে তিনি পুরসভার সামাজিক সহায়তা প্রকল্পের ম্যানেজার পদেকর্মরত ছিলেন।
পুলিশ এ দিন জানিয়েছে, পুরসভার কাছ থেকে ওই নির্মাণ সংক্রান্ত যে সব নথি চাওয়া হয়েছিল তা হাতে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। সিট-এর সদস্যেরা সেগুলি পরীক্ষা করার পাশাপাশি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দলের কাছেও নথি পাঠানো হয়েছে। ওই দল তারাতলার ঘটনাস্থল পরিদর্শনও করেছে।
ওই দলের কাছে সিট জানতে চেয়েছে, নির্মাণ সংক্রান্ত কী কী বিচ্যুতি ছিল? পুরসভার নথির সঙ্গে নির্মাণের কী তফাৎ আছে? এ ছাড়াও, আরও কিছু প্রশ্ন করা হয়েছে। সেগুলির উত্তর এই মামলার তদন্তের জন্য জরুরি বলেও পুলিশ সূত্রের খবর।
সূত্রের খবর, নির্মাণের আগে তারাতলার ওই জমিতে মাটি পরীক্ষা হয়েছিল কি না, তাও বন্দরের কাছে জানতে চেয়েছে পুলিশ। তবে সে ব্যাপারে এখনও উত্তর মেলেনি বলেই খবর। এই মামলায় ধৃত আব্দুল হামিদের (পুরসভায় বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করানোর দালাল) বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছে সিট। তবে তল্লাশিতে কী কী মিলেছে, সে ব্যাপারে রাত পর্যন্ত স্পষ্ট কিছু জানায়নি পুলিশ।