Asha Workers

আশাকর্মীদের আন্দোলন ‘রাজনৈতিক’, মত চন্দ্রিমার

চন্দ্রিমার দাবি, বাম আমলে ৮০০ টাকা স্থায়ী সাম্মানিক দেওয়া হত। ২০১৩ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে ছ’বার সেই সাম্মানিক বৃদ্ধি করে এখন পাঁচ হাজার ২৫০ টাকা স্থায়ী ভাবে পান আশাকর্মীরা। সেখানে, মধ্যপ্রদেশে চার হাজার ও উত্তরপ্রদেশে মাত্র দেড় হাজার টাকা স্থায়ী ভাবে দেওয়া হয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:১৮
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। —ফাইল চিত্র।

নিজেদের দাবি আদায়ে ২৯ দিন ধরে রাজ্য জুড়ে কর্মবিরতি পালন করছেন আশাকর্মীরা। আজ, বুধবার ফের ডেপুটেশন দিতে স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ আশাকর্মী ইউনিয়ন। তার আগে মঙ্গলবার স্বাস্থ্য ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করলেন, আশাকর্মীদের রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘‘আশাকর্মীদের উপরে মুখ্যমন্ত্রীর সহানুভূতি রয়েছে। তাই ভরসা রাখুন। কোনও রাজনৈতিক স্বার্থে পাতা ফাঁদে পা দেবেন না।’’ স্থায়ী সাম্মানিক ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা, অবিলম্বে সমস্ত বকেয়া প্রদান সহ একাধিক দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছেন আশাকর্মীরা। সেই আন্দোলনের সঙ্গে রাজনীতি জুড়ে আদতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ‘মৃদু হুমকি’ দিলেন বলে অভিযোগ আশাকর্মীদের। তবে আজ, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে তাঁরা অনড় বলেই জানিয়েছে এসইউসি-র শ্রমিক সংগঠন এআইইউটিইউসি অনুমোদিত আশাকর্মীদের সংগঠন।

চন্দ্রিমার দাবি, বাম আমলে ৮০০ টাকা স্থায়ী সাম্মানিক দেওয়া হত। ২০১৩ থেকে ২০২৪-এর মধ্যে ছ’বার সেই সাম্মানিক বৃদ্ধি করে এখন পাঁচ হাজার ২৫০ টাকা স্থায়ী ভাবে পান আশাকর্মীরা। সেখানে, মধ্যপ্রদেশে চার হাজার ও উত্তরপ্রদেশে মাত্র দেড় হাজার টাকা স্থায়ী ভাবে দেওয়া হয়। চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘আশাকর্মীরা কেন্দ্রীয় প্রকল্পের অংশ। তাহলে কেন কেন্দ্রীয় বাজেটে তাঁদের উৎসাহ ভাতা পর্যালোচনা হয় না?’’আশা কর্মী সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক ইসমত আরা খাতুন বলেন, ‘‘আমাদের দাবি, রাজ্য স্থায়ী বেতন ১৫ হাজার করা হোক।’’ বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘‘এখানে যুক্তিসঙ্গত দাবি নিয়ে আন্দোলন করলে মিলবে পুলিশের লাঠি।তাই দাবি পূরণের আগে সরকারটা ফেলা দরকার।’’

এ দিকে, উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে কলকাতায় আসা আশাকর্মীদের পুলিশ দিয়ে বিভিন্ন ভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আশাকর্মী সংগঠনের। কোথাও ট্রেনে উঠতে বাধা দেওয়া হচ্ছে, কোথাও সংগঠনের জেলা নেতৃত্বের বাড়ি ঘিরে রাখা হয়েছে। কলকাতার উদ্দেশ্যে আসা বাস আটকে রাখা হয়েছে বলেই অভিযোগ ইসমত আরা খাতুনের। তিনি বলেন, “চাকরি চলে যাওয়ার পাশাপাশি মারধরের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। এই রকম ভাবে রাজ্য জুড়ে বিভীষিকাময় পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।”

আরও পড়ুন