West Bengal Budget 2026

দিদির ভান্ডার আছে ভরে, তোমা সবাকার ঘরে ঘরে! বিধানসভা ভোটের আগে ‘মমতাময়ী’ বাজেট নানা ধরনের অনুদানে উপুড়হস্ত

নির্বাচনের আগে ১৩১ পাতার বাজেটে দৃশ্যত ‘কল্পতরু’ রাজ্য সরকার। লক্ষ্মীর ভান্ডার তো বাড়লই, সঙ্গে এল আরও একগুচ্ছ ঘোষণা। বেতন এবং ভাতা বাড়ল রাজ্যের বিভিন্ন স্তরে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২০:৫৮
বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্বর্তী বাজেট হাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের অন্তর্বর্তী বাজেট হাতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: পিটিআই।

তাঁর ‘নগরলক্ষ্মী’ কবিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন ভিক্ষুনি সুপ্রিয়ার কথা। দুর্ভিক্ষপীড়িত শ্রাবস্তীপুরের ক্ষুধা নিবৃত্তির দায় নিয়েছিল সে। বুদ্ধদেবকে বলেছিল, তার ভান্ডার সকলের ঘরে আছে। তা দিয়েই নগরীর ক্ষুধা মিটবে।

Advertisement

বৃহস্পতিবার ‘ভোটভিক্ষুনি’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের প্রায় সকলের ঘরে তাঁর তরফে বিভিন্ন ‘ভান্ডার’ তৈরি করে দিলেন। যা দিয়ে এ রাজ্যের বিভিন্ন শ্রেণির জনতার ‘ক্ষুধা’ মিটবে। মমতার মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য প্রায়শই বলে থাকেন, ‘‘এ রাজ্যে এমন একটিও পরিবার নেই, যেখানে রাজ্য সরকারের কোনও না কোনও প্রকল্পের সুফল পৌঁছয়নি।’’ রাজ্যে বিধানসভা ভোটের আগে মমতা সেই ‘সুফল’ আরও বিস্তৃত করে দিয়েছেন। আশ্চর্য নয় যে, প্রধান বিরোধী বিজেপি এই বাজেটকে ‘বিধানসভা ভোটের ইস্তাহার’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

মমতার হাতে এতদিন ছিল ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’। এ বার তার সঙ্গেই জুড়েছে আরও বেশ কিছু ‘ভান্ডার’। তাদের পোশাকি নাম অবশ্য আলাদা। কিন্তু মর্ম একই— নগদ অর্থ। নতুন ঘোষণায় রাজ্যের প্রায় সর্বস্তরের মানুষকে ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে মমতার সরকার। মহিলা, তরুণ, প্রবীণ থেকে শুরু করে রাজ্য সরকারি কর্মচারী— সকলের জন্যই বিশেষ ‘ভান্ডার’ মমতা বরাদ্দ করেছেন চার লক্ষ কোটি টাকার বাজেটে।

তিনি যে উপুড়হস্ত হয়েছেন, তা মুখ্যমন্ত্রী নিজেও বিলক্ষণ জানেন। তাঁর কথায়, এ বারের রাজ্য বাজেটে ‘প্রকল্পের সেঞ্চুরি’ হয়ে গিয়েছে। মমতা বলেছেন, “এত দিন রাজ্যে ৯৪টি প্রকল্প ছিল। আজ মনে হয় আরও পাঁচ-ছ’টি নতুন প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে। সুতরাং সেঞ্চুরি হয়ে গেল।’’ রাজ্যবাসীর জন্য দরাজ বাজেটের বক্তৃতা অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য শেষ করেন মুখ্যমন্ত্রীর লেখা একটি কবিতা পাঠ করে।

ভান্ডার ১: লক্ষ্মীর ভান্ডার

সামনেই রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে অন্তর্বর্তী বাজেটে মহিলাভাতা লক্ষ্মীর ভান্ডার নিয়ে যে কোনও বিশেষ ঘোষণা থাকতে পারে, তা প্রত্যাশিতই ছিল। এবং সেই বিশেষ ঘোষণা যে অর্থবৃদ্ধির, তা-ও প্রত্যাশিত ছিল। কৌতূহল ছিল, কত বেশি। দেখা গেল, বাজেটে লক্ষ্মীর ভান্ডারে প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এখন রাজ্যের মহিলারা এই প্রকল্পটিতে পান মাসে ১,০০০ টাকা করে। তফসিলি জাতি ও উপজাতিভুক্ত মহিলারা পান মাসে ১,২০০ টাকা। নতুন ঘোষণায় তা বৃদ্ধি পেয়ে হবে যথাক্রমে ১,৫০০ টাকা এবং ১,৭০০ টাকা। এর ফলে রাজ্যের ২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলা উপকৃত হবেন বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বর্ধিত পরিমাণ কার্যকর হবে চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই। অর্থাৎ, বিধানসভা ভোটের আগেই মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বর্ধিত ভাতা পৌঁছে যাবে। এ জন্য আগামী অর্থবর্ষে ১৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

ভান্ডার ২: আরও বেশি ডিএ

বৃহস্পতিবারই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘভাতা (ডিএ) নিয়ে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্য সরকারকে বলা হয়েছে, পুরনো বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। ঘটনাচক্রে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কয়েক ঘণ্টা পরেই বিধানসভায় পেশ করা হয় রাজ্য বাজেট। সেখানে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য অপেক্ষা করছিল আরও এক প্রাপ্তি। এখন রাজ্য সরকারি কর্মীরা ১৮ শতাংশ ডিএ পান। বাজেটে তা আরও চার শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন অর্থবর্ষ (১ এপ্রিল) থেকে এই বর্ধিত ডিএ কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য। ফলে একই দিনে ‘জোড়া প্রাপ্তি’ হল রাজ্য সরকারি কর্মীদের।

ভান্ডার ৩: বাংলার যুবসাথী

রাজ্য বাজেটে অন্যতম উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হল মাধ্যমিক পাশ বেকারদের জন্য নতুন ভাতার ঘোষণা। প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাংলার যুবসাথী’। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে পাবেন তাঁরা। তবে এই ভাতা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত পাওয়া যাবে। তার মধ্যে চাকরি পেয়ে গেলে ভাতা বন্ধ হয়ে যাবে। এ জন্য বাজেটে ৫,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এই ভাতা অবশ্য ভোটের আগে চালু হচ্ছে না। বাজেট নথিতে উল্লেখ রয়েছে, আগামী ১৫ অগস্ট থেকে শুরু হবে এই প্রকল্প।

ভান্ডার ৪: সিভিকদের বেতনবৃদ্ধি

রাজ্যের সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ এভং ভিলেজ পুলিশদের বেতনবৃদ্ধির ঘোষণাও করা হয়েছে বাজেটে। আগামী অর্থবর্ষ থেকে তাঁরা আরও ১,০০০ টাকা করে বেশি বেতন পাবেন। বর্তমানে সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ এবং ভিলেজ পুলিশেরা কর্তব্যরত অবস্থায় প্রাণ হারালে সংশ্লিষ্ট কর্মীর পরিবার তিন লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য পায়। বাজেট প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করার কথা বলা হয়েছে। এ জন্য আগামী অর্থবর্ষে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছে। এর ফলে রাজ্যের ১ লক্ষ ২৫ হাজারের বেশি সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশ এবং ভিলেজ পুলিশ উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছে সরকার।

ভান্ডার ৫: আশা-অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভাতাবৃদ্ধি

নতুন অর্থবর্ষ থেকে আশাকর্মীদের মাসিক ভাতা ১,০০০ টাকা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য সরকারের বাজেটে। রাজ্য সরকারের অন্য মহিলা কর্মীদের মতো এ বার থেকে আশাকর্মীরাও মাতৃত্বকালীন ছুটি পাবেন। ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটি দেওয়া হবে তাঁদের। মাসিক ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সহায়কদেরও। তাঁরাও নতুন অর্থবর্ষ থেকে ১,০০০ টাকা করে বর্ধিত ভাতা পাবেন। আশাকর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সহায়কদের মধ্যে কেউ কর্তব্যরত অবস্থায় মারা গেলে তাঁর পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তারও ঘোষণা করা হয়েছে বাজেটে। আশাকর্মীদের জন্য আগামী অর্থবর্ষে বরাদ্দ হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য মমতার সরকার বরাদ্দ করেছে ২৫০ কোটি টাকা। প্রসঙ্গত, কিছুদিন ধরেই আশাকর্মীরা তাঁদের ভাতাবৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছিলেন। গত ২২ জানুয়ারি তাঁরা বিশাল মিছিল করে স্বাস্থ্যভবনে গিয়েছিলেন।

ভান্ডার ৬: প্যারা-টিচারদের ভাতা বৃদ্ধি

রাজ্য বাজেটে ‘সুখবর’ রয়েছে প্যারা-টিচার এবং শিক্ষাবন্ধুদের জন্যও। আগামী অর্থবর্ষ থেকে তাঁদের সাম্মানিক আরও মাসিক ১,০০০ টাকা বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে। কর্মরত অবস্থায় প্যারা-টিচার, শিক্ষাবন্ধুদের কেউ প্রাণ হারালে তাঁর পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা রয়েছে নতুন বছরের বাজেটে। এর জন্য আগামী শিক্ষাবর্ষে মোট ১১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

ভান্ডার ৭: প্রান্তিকদের কাজের ‘গ্যারান্টি’

১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে ‘বঞ্চনার’ অভিযোগ তুলে আসছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্র টাকা আটকে রেখেছে বলে বার বার সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা এবং দলের অন্যতম নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই মধ্যে রাজ্য সরকার নিজ খরচে ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পও চালু করেছে। কেন্দ্রীয় সরকার ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের নাম বদলে ফেলার প্রতিবাদে রাজ্যও ‘কর্মশ্রী’ প্রকল্পের নতুন নাম দেয় ‘মহাত্মাশ্রী’। এত দিন এই প্রকল্পে ন্যূনতম ৭৫ দিনের কাজ নিশ্চিত করা হত। এখন তা বৃদ্ধি করে ১০০ দিনের কাজ নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এই পরিকল্পনার কথা আগেই জানিয়েছিল রাজ্য। বৃহস্পতিবারের বাজেটে তা আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করা হল। এর জন্য আগামী অর্থবর্ষে ২,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

ভান্ডার ৭: পেনশনভোগীদের জন্য সুবিধা

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিশেষ স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেল্থ স্কিম’ রয়েছে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা পশ্চিমবঙ্গ ‘হেল্‌থ স্কিম’-এর আওতায় ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ‘ক্যাশলেস’ স্বাস্থ্য পরিষেবা পান। বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, এ বার থেকে ২ লক্ষ টাকার বেশি যা খরচ হবে, তার ৭৫ শতাংশ ‘ক্যাশলেস’ পরিষেবার আওতায় আনা হবে। শীঘ্রই এ বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হবে।

ভান্ডার ৮: ক্ষেতমজুরদের অনুদান

রাজ্যে কৃষকদের জন্য আগে থেকেই ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্প রয়েছে। তবে এমনও অনেকে আছেন, যাঁরা নিজস্ব জমি না থাকায় এই প্রকল্পের সুবিধা পান না। ‘ভাগচাষি’ হিসাবে নাম নথিভুক্ত না থাকাতেও সরকারি সুবিধা পেতে সমস্যা হয় অনেকের। তাঁদের জন্য নতুন ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্যের বাজেটে। ক্ষেতমজুরদের জন্য ২,০০০ টাকার দু’টি কিস্তিতে বছরে মোট ৪,০০০ টাকা অনুদানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে মমতা সরকারের বাজেটে। এই দু’টি কিস্তির একটি মিলবে শীতকালীন চাষের সময়ে। অন্যটি মিলবে বর্ষাকালীন চাষের সময়ে।

এই বিধানসভা নির্বাচনে মমতাকে যেতে হবে ১৫ বছরের ‘স্থিতাবস্থা বিরোধিতা’ মাথায় নিয়ে। ফলে তিনি যে বাজেটে জনমনোহরণের চেষ্টা করবেন, তা একপ্রকার নিশ্চিতই ছিল। কিন্তু তা যে এত ব্যাপক হারে হবে, তা সরকারের অনেক মন্ত্রী এবং প্রশাসনিক আধিকারিকেরাও ভাবতে পারেননি। গোটা বাজেট জুড়ে রাজ্যের প্রায় সব শ্রেণির মানুষকে ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। গিগ-কর্মীদেরও স্বাস্থ্যসাথীর মতো বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রাজ্যের সপ্তম পে কমিশন গঠনের কথাও উল্লেখ রয়েছে। ছোট চা বাগানের মালিকদের কথা ভেবে চা পাতার উপর কৃষিকর ছাড়ের মেয়াদও আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি, রাজ্যে আরও ৫০টি নতুন হিমঘরও গঠন করা হবে। বিনিয়োগ টানার লক্ষে রাজ্যে ছ’টি ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক করিডর’ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করছে রাজ্য। সে কথাও উল্লেখ রয়েছে বাজেটে।

সামনে ভোট। যে ভোটের বৈতরণী পেরিয়ে চতুর্থবারের জন্য রাজ্যের শাসনভার পেতে হবে মমতাকে। গত ১৫ বছরের শাসনকালে যেখানে যেখানে রাজ্য সরকারের ‘ব্যর্থতা’ থেকেছে, সেগুলি ঢেকে দিতে হবে।

‘নগরলক্ষ্ণী’ কবিতার শেষে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘তোমরা চাহিলে সবে, এ পাত্র অক্ষয় হবে’। যেমন জনতা চাইলে নির্বাচনে অক্ষয় হবে মমতার সরকার। ভোটের আগে এ বাজেট ‘মমতাময়ী’ হওয়ারই ছিল।

Advertisement
আরও পড়ুন