SIR in West Bengal

বাদ যেতে পারে নাম! শুনানিতে কয়েক হাজার ভোটারকে চিহ্নিত করেছে কমিশন, সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ

শুনানি পর্বের শেষ দিন ৭ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ, হাতে আর মাত্র দু’দিন আছে। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের অধিকাংশ জেলাতেই সময়ের মধ্যে শুনানি পর্ব মিটে যাবে। তবে বাড়তি সময় চেয়েছে তিন জেলা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৪৬
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে কয়েক হাজার নাম বাদ চলে যেতে পারে।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে কয়েক হাজার নাম বাদ চলে যেতে পারে। —ফাইল চিত্র।

ভোটার তালিকা থেকে কয়েক হাজার নাম বাদ চলে যেতে পারে। ইতিমধ্যে সেগুলি চিহ্নিত করে ফেলেছেন ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারেরা (ইআরও)। নামের তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হয়েছে। তা বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। হলফনামায় পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর কাজে বাধা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisement

গত নভেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শুনানি পর্বের শেষ দিন ৭ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ, হাতে আর মাত্র দু’দিন আছে। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের অধিকাংশ জেলাতেই সময়ের মধ্যে শুনানি পর্ব মিটে যাবে। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ তিনটি জেলায় কাজ কিছুটা পিছিয়ে রয়েছে। ওই সমস্ত জেলা থেকে শুনানি শেষ করার জন্য কমিশনের কাছে বাড়তি সময় চেয়ে পাঠিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকেরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক জানিয়েছেন, মেটিয়াবুরুজ এলাকায় শুনানি এখনও বাকি। ইতিমধ্যে সেখানে আধিকারিকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কমিশন এই সমস্ত আবেদন বিবেচনা করে দেখবে। মনে করা হচ্ছে, দুই থেকে তিন দিন বাড়তি সময় দিলেই ওই জেলাগুলিতে শুনানির কাজ সম্পন্ন করা যাবে।

দু’ধরনের ভোটারকে শুনানিতে নথি যাচাইয়ের জন্য ডেকেছিল কমিশন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে যাঁরা নিজেদের কোনও যোগ দেখাতে পারেননি (নো ম্যাপিং তালিকা) তাঁদের শুনানিকেন্দ্রে সশরীরে হাজিরা দিয়ে উপযুক্ত নথি দেখাতে হয়েছে। এ ছাড়া, ২০০২ সালের তালিকার সঙ্গে যোগ থাকা সত্ত্বেও নামের ত্রুটি, তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে অনেককে শুনানিতে ডাকা হয়। শুনানিকেন্দ্রে তাঁদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য উপস্থিত ছিলেন ইআরও, এইআরও (সহকারী ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার) এবং বুথ স্তরের আধিকারিকেরা (বিএলও)। সূত্রের খবর, এই ইআরও-রা প্রাথমিক ভাবে কয়েক হাজার ভোটারকে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে।

মূলত শুনানিতে যাঁরা হাজিরা দেননি, যাঁদের নোটিস ধরানো সত্ত্বেও কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি বা যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি, তাঁদের নাম এই তালিকায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া, শুনানিতে উপস্থিত হওয়া কিছু ভোটারের নথি নিয়ে সন্দিগ্ধ কমিশনের আধিকারিকেরা। তাঁদের নামও বাদের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন করে আর কাউকে শুনানিতে ডাকা হবে না। তবে এই সমস্ত ভোটারদের নথি দ্বিতীয় বার যাচাই করে দেখা হবে। যাচাই করবেন কমিশনের পর্যবেক্ষক এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। একাধিক বার যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন।

সূত্রের খবর, নো ম্যাপিং তালিকাভুক্ত ১০ শতাংশ ভোটার শুনানিতে হাজিরা দেননি। তথ্যগত অসঙ্গতির তালিকা থেকেও অনেকে অনুপস্থিত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে কমিশন হলফনামা দিয়ে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে বার বার এসআইআর-এর কাজে তাদের বাধাপ্রাপ্ত হতে হয়েছে। এসআইআর-এর বিরোধিতা করে হিংসা, ভয় দেখানো এবং বলপূর্বক বাধা দেওয়ার মতো ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে যত হয়েছে, দেশের আর কোনও রাজ্যে তেমন হয়নি। বাকি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে ‘নিরবচ্ছিন্ন ভাবে’ এসআইআর-এর কাজ এগোচ্ছে বলে দাবি করেছে কমিশন। কলকাতায় গত নভেম্বরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর ঘেরাওয়ের ঘটনা হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। দাবি, কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে চিঠি লেখা সত্ত্বেও ওই ঘটনায় কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। তার পরেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে ‘ওয়াই’ ক্যাটেগরির নিরাপত্তা দেওয়া হয়। এ ছাড়াও একাধিক ক্ষেত্রে পুলিশের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলেছে কমিশন।

হলফনামায় জানানো হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও বিএলও-রা ৭.০৮ কোটি এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করেছেন, যা মোট ফর্মের ৯২.৪০ শতাংশ। ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য বর্তমানের শুনানিপর্বকে অত্যন্ত জরুরি বলে উল্লেখ করেছে কমিশন।

Advertisement
আরও পড়ুন