ED Raids I-PAC Office

আড়াই ঘণ্টা প্রতীকের বাড়িতে ঢুকতেই পারেনি পুলিশ! ধাক্কা খান ডিসিও? মুখ্যমন্ত্রী যাওয়ার আগে কী কী ঘটে লাউডন স্ট্রিটে

৭, লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়িতে ইডি পৌঁছোয় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ। পুলিশ খবর পায় অনেক পরে। তারা গেলেও প্রতীকের বাড়িতে ঢুকতেই পারেনি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা বাগ্‌বিতণ্ডা চলেছে রাস্তায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪১
লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশির খবর পেয়েই পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশির খবর পেয়েই পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা নাগাদ লাউডন স্ট্রিটে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ওই বাড়ির বাইরে বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল কলকাতা পুলিশ। কলকাতা পুলিশ সূত্রে দাবি, অজ্ঞাতপরিচয় আধিকারিকেরা তাদের বাধা দেন। বাড়ির ভিতরে ঢুকতেই দেওয়া হয়নি পুলিশকে। দেখানো হয়নি কোনও পরিচয়পত্রও। এমনকি, কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ)-কেও ধাক্কা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। এর পরেই স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে পুলিশ অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেয়।

Advertisement

বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লির ১০টি জায়গায় তল্লাশি অভিযান শুরু করেছিল ইডি। ৭, লাউডন স্ট্রিটে প্রতীকের বাড়়িতে তারা পৌঁছোয় সকাল সাড়ে ৬টা নাগাদ। এই ঠিকানা থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে রয়েছে শেক্সপিয়র সরণি থানা। সাধারণত, ইডি-সিবিআই বা অন্য কোনও সংস্থা অভিযান করলে স্থানীয় পুলিশকে তা জানানো হয়। অভিযোগ, এ ক্ষেত্রে পুলিশকে কিছু জানানো হয়নি। ইডি লাউডন স্ট্রিটে আসে এবং তল্লাশি শুরু করে। পরে সকাল ৯টা নাগাদ খবর পেয়ে প্রথমে পুলিশের এক সার্জেন্ট ওই ঠিকানায় যান। কিন্তু তাঁকে ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে দাবি, প্রতীকের বাড়ির সামনে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের পরিচয় জানার কোনও উপায় ছিল না। কোনও তল্লাশি-পরোয়ানা তাঁরা দেখাননি। উর্দিধারী পুলিশের পরিচয় জানতে চান তাঁরা। ওই সার্জেন্টকে ধাক্কাও দেওয়া হয়। এর পর থানা থেকে আরও পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু কেউ বাড়িতে ঢুকতে পারেননি, কী হচ্ছে জানতে পারেননি। খবর দেওয়া হয় ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায়কে। তিনিও বাধাপ্রাপ্ত হন। অভিযোগ, লাঠি উঁচিয়ে দেখানো হয়েছিল পুলিশকে। ডিসিকেও ধাক্কা দেওয়া হয় ঘটনাস্থলে। দীর্ঘ ক্ষণ লাউডন স্ট্রিটে এই মতবিরোধ, ধাক্কাধাক্কি, বাগ্‌বিতণ্ডা চলেছে। বেলা ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অভিযোগ করে। অনধিকার প্রবেশ এবং কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়।

বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ ইডির তরফে পুলিশকে একটি ইমেল পাঠানো হয়। লাউডন স্ট্রিটে তল্লাশির প্রয়োজনে নিজেদের আসার কথা জানিয়ে মেল করে ইডি। বেলা ১২টা নাগাদ কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা ঘটনাস্থলে পৌঁছোন। তার কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী নিজে। তিনি চার তলায় প্রতীকের বাড়িতে ঢোকেন এবং কিছু ক্ষণের মধ্যে ফাইল, নথিপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসেন।

লাউডন স্ট্রিটের অভিযান প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবারই বিবৃতি দিয়েছিল ইডি। বলা হয়েছিল, ওই ঠিকানায় তল্লাশি চালানোর সময় কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) এবং শেক্সপিয়র সরণি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওসি) সেখানে আসেন এবং কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের পরিচয় জানতে চান। তার কিছু ক্ষণ পরে পুলিশ কমিশনার (সিপি) আসেন। ইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক তাঁদের পরিচয়পত্র দেখিয়েছেন এবং তল্লাশি অভিযানের কথা জানিয়েছেন। ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর আগমনের আগে পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও পেশাগত ভাবে তল্লাশি চলছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বিরাট পুলিশবাহিনী নিয়ে সেখানে আসেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ে চলে যান। এর পর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাক দফতরে যায়। সেখান থেকেও মুখ্যমন্ত্রী, তাঁর ঘনিষ্ঠ কয়েক জন এবং পুলিশ আধিকারিকেরা জোর করে নথি ছিনিয়ে নিয়ে যান বলে দাবি করেছে ইডি। এতে তদন্তের কাজ বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে।

ইডির অভিযানকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলে দাবি করেছিলেন মমতা। বলেছিলেন, তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশল চুরি করে নিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। শুক্রবার তিনি সল্টলেকের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানা এবং শেক্সপিয়র সরণি থানায় দু’টি পৃথক অভিযোগ নথিভুক্ত করেছেন। ইডির বিরুদ্ধে অনধিকার প্রবেশ, হুমকি এবং চুরির অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবারের ঘটনা নিয়ে ইডি এবং তৃণমূল হাই কোর্টে পৃথক মামলা করেছে। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে তার শুনানির কথা ছিল। কিন্তু এজলাসে ভিড়ের কারণে মামলা ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি করে দেন বিচারপতি ঘোষ।

Advertisement
আরও পড়ুন