মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে থাকবে তৃণমূল বা জোড়াফুল? না কি চলে যাবে বিদ্রোহীদের দখলে? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
সংসদের বাদল অধিবেশনের শুরুর দিনেই কি তৃণমূলের ‘ভাঙন’-এর নতুন ‘অঙ্ক’ দেখা যাবে? জুলাইয়ের ২১ তারিখে শহিদ দিবসের আগের দিনেই শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। আর সে দিনই ন্যাশনালিস্ট সিটিজ়েন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া-য় (এনসিপিআই) মিশে যাওয়া তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা স্পিকারের সামনে ‘আসল’ এবং ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ তৃণমূল বলে দাবি করতে পারেন। এমনটাই দাবি বর্ষীয়ান সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
সোমবার দিল্লিতে সুদীপ বলেছেন, ‘‘২০ জুলাই সংসদ (অধিবেশন) চালু হবে। তখন তৃণমূল কংগ্রেসের নামে একটি দল আসবে। সেই সময়ে আমাদের পক্ষ থেকে বলার থাকবে, আমরাও তৃণমূল কংগ্রেস। গোনা হোক।’’ এর পরেই সুদীপ বলেন, ‘‘শেষপর্যন্ত গোটা ব্যাপারটা আদালতে গিয়ে ফয়সালা হবে। আমার অভিজ্ঞতা বলছে, যত দিন এটা চলবে, তত দিন জোড়াফুল প্রতীকটা সিজ় (বাজেয়াপ্ত) হয়ে থাকতে পারে।’’ সুদীপ এ-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এখনই তাঁরা তৃণমূলের দাবিদার হয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে যাচ্ছেন না। আপাতত তাঁরা মিশে থাকবেন এনসিপিআই-তেই। এবং তা-ও প্রক্রিয়াগত কারণে।
কিন্তু অন্য একটি দলে মিশে যাওয়ার কথা স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেওয়ার পরেও কি ফের নিজেদের তৃণমূল বলে দাবি করা যায়?
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অশোক গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘আদালতে গেলে কী হবে, প্রতীক বাজেয়াপ্ত হবে কি না, এটা আগাম বলা যায় না। সংখ্যাগরিষ্ঠতা-সহ আরও নানা আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে। সে সব দেখেই আদালত নির্দেশ দেয়।’’
নিয়ম কী?
কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি দেবাশিস করগুপ্তের ব্যাখ্যা, ‘‘কোনও রাজনৈতিক দলের নির্বাচিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি সদস্য মনে করলে অন্য দলে যোগ দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সংবিধানের দশম তফসিল অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগবিরোধী আইন কার্যকর হবে না। তাঁরা সংসদে নিরপেক্ষ ভাবে বা সংশ্লিষ্ট দলের নামে বসতে পারবেন। কিন্তু তাঁরা যে প্রতীকে জিতেছেন, যদি সেই দলের প্রতীক বা তহবিলের দাবি করেন, তা হলে সেটা সংসদের অধীনে থাকবে না। তা চলে যাবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে।’’ এর পর তিনি ১৯৬৮ সালের প্রতীক সংরক্ষণ এবং বরাদ্দ সংক্রান্ত নিয়মের কথা বলেন। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘একটি রাজনৈতিক দলের দু’টি ‘উইং’ থাকে। একটি পরিষদীয় বা সংসদীয়। অর্থাৎ, বিধায়ক এবং সাংসদেরা। দ্বিতীয়টি, সাংগঠনিক। এই দুই অংশের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যদি দলের প্রতীক এবং তবহিলের দাবি জানায়, সই করে নথি দাখিল করে, কমিশন তখন তা খতিয়ে দেখতে পারে। সেই যাচাইপর্ব যত দিন চলবে, তত দিন কী হবে? প্রাক্তন বিচারপতি করগুপ্তের বক্তব্য, ‘‘তত দিন চাইলে কমিশন দু’পক্ষকে দু’টি পৃথক প্রতীক দিতে পারে।’’
সাম্প্রতিক সময়ে দলের ভাঙন এবং প্রতীক পাওয়ার লড়াই দেখেছিল মহারাষ্ট্রের রাজনীতি। যেখানে শিবসেনার মূল প্রতীক উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে চলে যায় একনাথ শিন্দের হাতে। আবার এনসিপির স্বত্ব এবং প্রতীক ‘ঘড়ি’ শরদ পওয়ারের হাত থেকে চলে যায় তাঁর ভাইপো অধুনাপ্রয়াত অজিত পওয়ারের হাতে। তবে তৃণমূলের ক্ষেত্রে এখনই সেই সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন প্রবীণ সাংসদ সুদীপ।
তবে উত্তর কলকাতার সাংসদের মন্তব্য সম্পর্কে তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওঁর আইন এবং সংবিধান সম্পর্কে যা জ্ঞান, তাতে আমি কোনও মন্তব্য করব না। তা ছাড়া ওঁর বয়সও অনেক। বয়সের তো একটা সম্মান আছে নাকি!’’