West Bengal Governor

প্রাক্তন গোয়েন্দাকর্তা, ডোভালের ডেপুটি ছিলেন, স্ট‍্যালিনের সঙ্গে খটাখটি! পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল পদে কোন রবির উদয়?

২০১২ সালে অবসর নেন প্রাক্তন আইপিএস রবি। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের যুগ্ম গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে নাগা শান্তি আলোচনায় তাঁকেই মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছিল কেন্দ্র।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ২১:৫৭
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আরএন রবি।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল আরএন রবি। — ফাইল চিত্র।

গোয়েন্দাকর্তা হয়ে বিদ্রোহ সামলেছিলেন জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায়। অবসরের পরে নরেন্দ্র মোদীর সরকার তাঁকে মধ্যস্থতাকারী করে পাঠিয়েছিল নাগা শান্তি আলোচনায়। সফল হয়েছিলেন সেখানেও। ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের ডেপুটি। পরে তাঁকে তামিলনাড়ুতে রাজ্যপাল করে পাঠিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে গিয়ে নিত্য সংঘাতে জড়িয়েছেন বিজেপি-বিরোধী দল ডিএমকের সরকারের সঙ্গে। এ বার সেই তিরু আরএন রবিকে ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল করা হল।

Advertisement

রবির জন্ম পটনায়। ১৯৭৪ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর পাশ করেন তিনি। ১৯৭৬ সালে ভারতীয় পুলিশ সার্ভিস (আইপিএস)-এ যোগ দেন। দেশের বিভিন্ন জায়গায় কাজ করেছেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই)-এর দায়িত্বও সামলেছিলেন রবি। তদন্তকারী অফিসার হিসাবে বেশ কয়েকটি দুর্নীতি দমন অভিযানে অংশ নেন। দেশের গোয়েন্দা বিভাগ (আইবি)-এ কাজ করার সময়ে জম্মু ও কাশ্মীর, উত্তর-পূর্ব ভারত এবং মাওবাদী প্রভাবিত এলাকায় বিদ্রোহ দমন করেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ায় অভিবাসন নিয়ে বিশেষ জ্ঞান রয়েছে তাঁর। দেশের বহু সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে মূলস্রোতে ফিরিয়েছেন রবি। সন্ত্রাস দমনে আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে গোপন তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন তিনি।

২০১২ সালে অবসর নেন আইপিএস রবি। তার পরে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে লেখালিখি শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের যুগ্ম গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে নাগা শান্তি আলোচনায় তাঁকেই মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ করেছিল কেন্দ্র। প্রায় ৭০ বছর ধরে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন রবি। নাগাল্যান্ডের বিষয়টিকে বিদেশ থেকে দেশে, সে রাজ্যের মানুষের কাছে নিয়ে এসে তাঁদের অভ্যন্তরীণ বিষয় করে তুলেছিলেন। আর তাতেই এসেছিল সাফল্য। বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলি চুক্তিতে সই করতে রাজি হয়ে গিয়েছিল। নাগাল্যান্ডে শান্তি ফিরেছিল। ২০১৮ সালে তাঁকে ডোভালের ডেপুটি নিযুক্ত করা হয়। ২০১৯ সালের ১ অগস্ট থেকে ২০২১ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ছিলেন নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল।

তার পরেই তামিলনা়ড়ুর রাজ্যপাল হন রবি। বিজেপি-বিরোধী এম কে স্ট্যালিনের সরকারের সঙ্গে গত কয়েক বছরে বার বার সংঘাতে জড়িয়েছেন রবি। গত বছর স্বাধীনতা দিবসে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রবির চা-চক্রে অংশ নেবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন। এই নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিলেন তিনি। সরাসরি রবির নাম না-করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ‘যিনি প্রতিনিয়ত তামিলনাড়ুর জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজ করছেন, তাঁর আমন্ত্রণে সাড়া দেবেন না মুখ্যমন্ত্রী।’ চেন্নাইয়ের রাজভবনে রাজ্যের অন্য মন্ত্রীরাও যাবেন না বলে জানানো হয়েছিল সেই বিজ্ঞপ্তিতে। ২০২৩ সাল থেকে রাজভবনে সেই চা-চক্র বয়কট করে চলেছে স্ট্যালিন সরকার।

কয়েক বছর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে রাজ্যপালকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছিল তামিলনাড়ু সরকার। এর পরে বিধানসভায় পাশ হওয়া ১০টি বিল রাজ্যপাল আটকে রেখেছেন বলে অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও করা হয়েছিল স্ট্যালিন সরকারের তরফে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে ২০২৫ সালের শুরুতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নিয়ে বিলগুলিতে সই করেছিলেন রবি। কিন্তু তাতে সংঘাত মেটেনি।

চলতি বছরের শুরুতে তামিলনাড়ু বিধানসভায় জাতীয় সঙ্গীতের অবমাননার অভিযোগ তোলেন রাজ্যপাল রবি। সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ পাঠ না করেই ছাড়েন অধিবেশন। রবি বিধানসভা ছেড়ে বেরিয়ে আসার কিছু ক্ষণের মধ্যেই তামিলনাড়ুর রাজভবন (অধুনা লোকভবন) একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, রাজ্যপাল কথা বলার সময়ে বার বার তাঁর মাইক্রোফোন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছিল। এমকে স্ট্যালিনের সরকার তাঁকে যে ভাষণ পাঠ করতে দিয়েছিল, তাতে প্রচুর ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর দাবি ছিল বলে অভিযোগ তোলে রাজভবন। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন জানান, রাজ্যপাল যে ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাতে সে রাজ্যের বিধানসভার ১০০ বছরের ঐতিহ্য অসম্মানিত এবং অপমানিত হয়েছে।

এ বার ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যপালের দায়িত্ব পেলেন রবি। বৃহস্পতিবারই ওই পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দিয়েছেন সিভি আনন্দ বোস। কেন, তা এখনও যদিও স্পষ্ট করেননি। তাঁর সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংঘাতও প্রকাশ্যে এসেছে অতীতে।

Advertisement
আরও পড়ুন