বাঁকুড়া জেলাশাসকের দফতরের মূল গেট ঘেরাও করে ধর্মঘটীদের অবস্থান বিক্ষোভ। নিজস্ব চিত্র।
বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) দাবিতে শুক্রবার রাজ্যের সরকারি কর্মী এবং শিক্ষকদের সংগঠনগুলির একাংশ একযোগে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। রাজ্য জুড়ে সরকারি অফিসগুলিতে সর্বতোভাবে সেই ধর্মঘটের প্রভাব না পড়লেও আংশিক সাড়া পড়েছে। মূলত সচলই ছিল অধিকাংশ অফিস। যদিও যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ দাবি করেছেন, রাজ্যে এই ধর্মঘট সফল। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গ— স্কুলগুলিতে ধর্মঘটের প্রভাব পড়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘স্কুলে স্কুলে পিকেটিং করে অভিভাবকদের ধর্মঘটের কারণ সম্পর্কে জানানো হয়েছে। তাঁরা বুঝেছেন। তার পর পড়ুয়াদের নিয়ে চলে গিয়েছেন।’’ তৃণমূলের রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক পাল্টা দাবি করেন, ‘‘রাজ্য সরকারি কর্মীরা ধর্মঘট ব্যর্থ করে ৯৫ -১০০ শতাংশ হাজিরা দিয়েছেন, তাঁদের কৃতজ্ঞতা জানাই। ধর্মঘটকারীরা বিভিন্ন সরকারি অফিসে কর্মীদের ঢুকতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ফেডারেশনের সদস্যেরা সেই পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন।’’
অন্য দিকে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘ডিএ আন্দোলনকারীদের ধর্মঘটে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আজকে না আসার জন্য যদি কারও উপর জুলুম হয়, বিরোধী দলনেতা দল দেখবে না, রাজ্য সরকারি কর্মী, পুলিশ এবং শিক্ষকদের পাশে দাঁড়াবে।’’ এর পর শুভেন্দু দাবি করেন, রাজ্যের ক্ষমতায় বিজেপি এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম পে কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে টাকা দেওয়া হবে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বেতন বৃদ্ধি হবে।
এপিডিআর প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, বিভিন্ন অফিসে তৃণমূলের সমর্থকেরা বাইরের লোকজন নিয়ে ধর্মঘটীদের উপর চড়াও হয়েছেন। কলকাতায় খাদ্যভবনের সামনে কিছু ধর্মঘটী স্লোগান দেন। উত্তরবঙ্গে ডুয়ার্স কন্যার সামনেও প্ল্যাকার্ড হাতে ধর্মঘটীদের দেখা গিয়েছে। কসবা ডিআই অফিসের গেটের সামনে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সদস্যেরা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের হুঁশিয়ারি, দাবি না মানা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ডিএ-র দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দেয় কলকাতা হাই কোর্টের সরকারি কর্মচারীদের সংগঠনগুলিও। শুক্রবার সকালেই হাই কোর্টের সামনে সংগঠনের সদস্যেরা হাজির হয়ে বিক্ষোভ দেখান।
জেলাগুলিতেও স্কুল এবং সরকারি দফতরের কোথাও কোথাও সামান্য প্রভাব পড়েছে। তবে ধর্মঘটীদের দাবি, জেলাতেও ব্যাপক সাড়া মিলেছে। কাঁথিতে সরকারি দফতরের সামনে থেকে ধর্মঘটীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। যৌথ মঞ্চের ডাকা ধর্মঘটের সমর্থনে শুক্রবার সকাল থেকে বাঁকুড়ার জেলাশাসকের দফতর-সহ বিভিন্ন দফতরের মূল গেট আটকে বিক্ষোভ দেখান ধর্মঘটীরা। দফতর খোলার আগে থেকেই ধর্মঘটীরা বাঁকুড়ার জেলাশাসকের দফতরের মূল গেট ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। জেলাশাসকের দফতরে আসা কর্মীদের কাছে হাতজোড় করে কাজে যোগ না দেওয়ার অনুরোধ জানান ধর্মঘটীরা। একই ছবি দেখা যায় বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসকের দফতরেও। ধর্মঘটী শিক্ষক শিক্ষিকাদের একাংশ এ দিন নিজেদের দাবির সমর্থনে বাঁকুড়া শহরে মিছিল করে হাজির হন জেলা স্কুল পরিদর্শকের দফতর ও জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদে। বাঁকুড়া জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ ভবনের মূল গেট বন্ধ করে তার সামনে অবস্থান বিক্ষোভ দেখান ধর্মঘটী শিক্ষকেরা। হুগলিতে রাজ্য কো-অর্ডিনেশন কমিটির মিছিল হয়। ধর্মঘটের সমর্থনে চুঁচুড়া অফিসপাড়ায় মিছিল করে কো-অর্ডিনেশন কমিটি।
প্রসঙ্গত, ৫ মার্চ মহার্ঘ ভাতার পুরনো বকেয়া নিয়ে মামলার রায় ঘোষণা করে সুপ্রিম কোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। কিন্তু রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা আবেদন করে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় চেয়েছে। রাজ্য সরকারের সেই অবস্থানের বিরুদ্ধে শুক্রবার একাধিক রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষক সংগঠন একযোগে ধর্মঘটের ডাক দেয়।