ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনান্সিয়াল’ ক্রিপ্টো ব্যবসার গোপনে বিপুল অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি সংস্থা। ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনান্সিয়াল’-এর এক আধিকারিককে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এই দাবি করা হয়েছে।
এর আগে আর এক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো কোম্পানিতে আমিরশাহির সংস্থার ‘গোপন’ বিনিয়োগের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ করে নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনান্সিয়াল’-এর ভার্চুয়াল লেনদেন ব্যবসায় আমিরশাহির সংস্থার বিনিয়োগের অঙ্ক ৫০ কোটি ডলারেরও (প্রায় ৪৫৭৮ কোটি টাকা) বেশি। যার বিনিময়ে আমিরশাহি সরকারের এক শীর্ষকর্তা ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো সংস্থার পরিচালন সমিতির সদস্য হয়েছেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে তাঁর মেজোছেলে এরিক ট্রাম্প, ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনান্সিয়াল’-এ বিনিয়োগের জন্য আমিরশাহির সংস্থার সাথে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। সংস্থার মুখপাত্র ডেভিড ওয়াচসম্যান নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বিনিয়োগের নিশ্চিত করেছেন। এই চুক্তির ফলে আমিরশাহির সংস্থাটি ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনান্সিয়াল’-এর ৪৯ শতাংশ অংশীদারি পেয়েছে। সেই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা শেখ তাহনুন বিন জ়ায়েদ আল নাহিয়ান যোগদান করেছেন ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো সংস্থায় ‘বোর্ড অফ ডিরেক্টরস’-এ।
এই বিনোয়োগের ফলে ট্রাম্প সরকারের বিদেশনীতি ‘প্রভাবিত’ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে প্রকাশিত খবরে দাবি। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংবাদসংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল পাকিস্তানের ‘ভার্চুয়াল অ্যাসেট রেগুলেটরি অথরিটি’-র অনুমোদনক্রমে সে দেশের সংস্থা এসসি ফাইনান্সিয়াল টেকনোলজিস বিনিয়োগ করেছে ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনান্সিয়াল’-এ। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে চালু হওয়া ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো কোম্পানির চুক্তির তালিকায় এটি অন্যতম। চুক্তি অনুযায়ী, পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সঙ্গে কাজ করবে ট্রাম্প পরিবারের সংস্থা। ভার্চুয়াল লেনদেন পদ্ধতি পরিকাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে ইউএসডি ওয়ান স্টেবল কয়েন। যার মাধ্যমে পাকিস্তানের নিজস্ব মুদ্রা ছাড়াও ওই দেশে ভার্চুয়াল মুদ্রায় লেনদেন করা যাবে।