ভ্লাদিমির পুতিন। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরেই রাশিয়ার হুমকি উপেক্ষা করে নেটোতে যোগ দিয়েছিল ফিনল্যান্ড। এ বার সেই পড়শি দেশের সীমান্ত ঘেঁষে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ফৌজের তৎপরতার প্রমাণ দিল উপগ্রহচিত্র! তাতে দেখা যাচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমলের সোভিয়েত সেনাঘাঁটি পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি ফিনল্যান্ড সীমান্তে কয়েকটি নতুন সামরিক পরিকাঠামো বানিয়ে ফেলেছে রাশিয়া।
সুইডেনের সংবাদমাধ্যম এসভিটি যে উপগ্রহচিত্র সামনে এনেছে তাতে ফিলন্যান্ড সীমান্তের অদূরে চারটি স্থানে রুশ ফৌজের তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এগুলি হল পেট্রোজাভোদস্ক, ইস্থমাস কামেঙ্কা, সেভেরোমোর্স্ক-২ এবং ওলেনিয়া। প্রকাশিত খবরে দাবি, কারেলিয়ার পেত্রোজাভোদস্কে একটি পুরনো সোভিয়েত আমলের সামরিক ঘাঁটি নতুন করে চালু করা হয়েছে ইতিমধ্যেই। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বড় আকারে জমি পরিষ্কার করে নতুন ভবন নির্মাণ, এবং সামরিক যান ও সরঞ্জাম পৌঁছোনো শুরু হয়েছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, শুধু মেরামত নয়, সেনাঘাঁটিটি সম্পূর্ণ ভাবে সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে পুতিনের হুমকি উপেক্ষা করে ফিনল্যান্ডের সঙ্গে নেটোতে যোগ দিয়েছিল সুইডেনও। সে দেশের সংবাদমাধ্যমের দাবি, মস্কোর এই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল, ফিনল্যান্ডের নেটোতে যোগ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে একটি স্থায়ী ও শক্তিশালী সামরিক পরিকাঠামো গড়ে তোলা। কারণ, পুতিন এখন ইউরোপের উপর নতুন করে সামরিক চাপ তৈরি করতে চাইছেন। এসভিটির প্রতিবেদনে দাবি, ২০২৫ সালের মধ্যপর্ব থেকে ফিনল্যান্ড সীমান্ত ৬০ কিলোমিটার দূরে কামেঙ্কায় ধাপে ধাপে ১৩০টিরও বেশি সেনাঘাঁটি নির্মাণ করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে ২০০০-এর বেশি সেনা এবং ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম। প্রসঙ্গত, ফিনল্যান্ডের সঙ্গে প্রায় ১২৮৮ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে রাশিয়ার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে দু’দেশের একাধিক বার সামরিক সংঘাত হয়েছে।