Brooklyn Court Released Adani

আদানিদের বিরুদ্ধে ঘুষকাণ্ডের মামলা প্রত্যাহার করতে পারে ট্রাম্প সরকার! দাবি, মার্কিন সংবাদমাধ্যমের

সম্প্রতি মামলায় নতুন মোড় এসেছে জানিয়ে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আমেরিকার বিচার বিভাগ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ সব অভিযোগ প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ মে ২০২৬ ২৩:২১
গৌতম আদানি।

গৌতম আদানি। ফাইল চিত্র।

আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানির বিরুদ্ধে আমেরিকার ব্রুকলিন আদালতে দায়ের করা ঘুষকাণ্ড ও জালিয়াতির মামলা প্রত্যাহার হতে চলেছে। প্রশাসনিক সূত্রের পাওয়া খবরের ভিত্তিতে ব্লুমবার্গ এবং নিউ ইয়র্ক টাইমসের দাবি, মামলাটির নিষ্পত্তি করতে চলেছে মার্কিন প্রশাসন।

Advertisement

গৌতমের মালিকানাধীন ‘আদানি গ্রিন এনার্জি লিমিটেড’ (এজিএল) বাজারের চেয়ে বেশি দামে সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির বরাত পেতে অন্ধ্রপ্রদেশ-সহ ভারতের কয়েকটি রাজ্যের সরকারি আধিকারিকদের (যার মধ্যে মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধিরাও রয়েছেন) ঘুষ দিয়েছিল বলে অভিযোগ। দাবি, ঘুষের অঙ্ক ২৬.৫ কোটি ডলার (২০২৯ কোটি টাকা)। তিনটি অভিযোগের ভিত্তিতে আমেরিকার ন্যায়বিচার দফতর এবং বাজার নিয়ন্ত্রক এসইসি সংস্থা এসইসি (সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন) যথাক্রমে ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনে অভিযোগপত্র পেশ করেছিল, যার ভিত্তিতে দায়ের হয় মামলা।

ফৌজদারি অভিযোগগুলির মধ্যে রয়েছে ১৯৭৭ সালে চালু হওয়া আমেরিকার ঘুষ বিরোধী আইন ‘ফরেন কোরাপ্ট প্র্যাক্টিসেস আ্যাক্ট’ (এফসিপিএ) লঙ্ঘনের পাশাপাশি সিকিয়োরিটিজ় (শেয়ার এবং ঋণপত্র) সংক্রান্ত এবং ওয়্যার (টেলিফোন-সহ বৈদ্যুতিন যোগাযোগ মাধ্যম) ব্যবহার করে প্রতারণার ষড়যন্ত্র। দেওয়ানি আইনেও অভিযোগ আনা হয়েছে শেয়ার এবং ঋণপত্রের বাজারের নিয়ম লঙ্ঘন সংক্রান্ত প্রতারণার। সেই মামলায় গৌতম আদানি ও তাঁর ভাইপো সাগর আদানির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল পরবর্তী সময়। তবে, সম্প্রতি মামলায় নতুন মোড় এসেছে জানিয়ে বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, আমেরিকার বিচার বিভাগ চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ সব অভিযোগ প্রত্যাহারের কথা ঘোষণা করবে।

একই সঙ্গে, আমেরিকান সিকিউরিটিজ় অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে গৌতম-সহ অন্যদের বিরুদ্ধে আনা জালিয়াতি মামলাটিও নিষ্পত্তির দিকে এগোচ্ছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি। এ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ তাঁর এক্স-হ্যান্ডলে লেখেন, ‘‘এখন স্পষ্ট হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী (নরেন্দ্র মোদী) কেন সেই চূড়ান্ত একপেশে ভারত-আমেরিকান বাণিজ্য চুক্তিতে রাজি হয়েছিলেন। ওটি আসলে আমেরিকার তরফে এক প্রকার সওদা ছিল। এটাও স্পষ্ট যে, তিনি কেন আমাদের জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হঁশিয়ারি শুনে ২০২৫ সালের ১০ মে হঠাৎ করে ‘সিঁদুর অভিযান’ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।’’ সেই সঙ্গে জয়রামের প্রশ্ন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী আর কতটা আপস করবেন?’’

Advertisement
আরও পড়ুন