হরমুজ় প্রণালী। — ফাইল চিত্র।
আমেরিকার বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ফের হরমুজ় প্রণালী বন্ধ করল ইরান। ওয়াশিংটনের প্রতি তেহরানের বার্তা, ‘যুদ্ধ’ ও ‘যুদ্ধবিরতি’ একই সঙ্গে চলতে পারে না। যে কোনও একটা বেছে নিতে হবে। ইরানের অভিযোগ, যে ১০ দফা শর্তের ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে তিন দফা লঙ্ঘিত হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে ইজ়রায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এ ছাড়া ইরানে ড্রোন হামলারও অভিযোগ তুলেছে তারা। পাশাপাশি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়েও শতখেলাপ হয়েছে বলে অভিযোগ তেহরানের।
ইরান ফের হরমুজ় প্রণালী সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করার কারণে বিভিন্ন দেশের তেলবাহী জাহাজগুলি ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স সূত্রে খবর এমনটাই। রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে।
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, ‘‘ইরান ও আমেরিকার যুদ্ধবিরতির শর্ত স্পষ্ট। হয় যুদ্ধবিরতি, নয়তো ইজ়রায়েলকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধ অব্যাহত রাখা। দু’টি এক সঙ্গে চলতে পারে না। লেবাননের গণহত্যা সমস্ত বিশ্ব দেখছে।’’ তেহরানের স্পষ্ট বার্তা, ‘‘এখন আমেরিকার কোর্টে বল। তারা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না, তার অপেক্ষায় বিশ্ব।’’
সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, হরমুজ় দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য টোল আদায়ের বিষয়ে ইরানের সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজ করতে আগ্রহী আমেরিকা। তাঁর দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হরমুজ় দিয়ে যে সমস্ত জাহাজ চলাচল করছে তাদের কাছ থেকে ইরান অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট দাবি করেছিলেন, হরমুজ় প্রসঙ্গে আমেরিকা ও ইরানের আলোচনা চলতে পারে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে। তিনি জানিয়েছিলেন, দ্রুত সমস্ত প্রণালী খুলে যাবে। তবে তা না হয়ে আমেরিকার যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ২৪ ঘণ্টা কাটার আগেই ইরান সম্পূর্ণ রূপে বন্ধ করে দিল হরমুজ় প্রণালী।