ছবি: সংগৃহীত।
ইরান উপকূলের অদূরে অগ্নিকাণ্ডের শিকার মার্কিন নৌসেনার বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডকে গ্রিসের বন্দরকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল পেন্টাগন। ইতিমধ্যেই পশ্চিম এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টিকম) নির্দেশ মেনে যুদ্ধজাহাজটিকে ‘সংঘাত-ক্ষেত্র’ থেকে সরানোর তৎপরতা শুরু করেছে বলে প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি।
গত ১২ মার্চ সৌদি আরব উপকূলের অদূরে লোহিত সাগরে অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছিল ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড। সেন্টিকম একটি বিবৃতিতে বলেছিল, ‘‘এই অগ্নিকাণ্ড যুদ্ধজনিত নয়।’’ জাহাজের প্রধান ‘লন্ড্রি স্পেস’ থেকে আগুনের সূত্রপাত। অগ্নিকাণ্ডে আহত দুই নৌসেনার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।’’ এতে জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্টের (যান্ত্রিক পরিচালন ব্যবস্থা) কোনও ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বলেছিল, ‘‘বিমানবাহী রণতরীটি পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে।’’ কিন্তু বুধবার, যুদ্ধের ১৮তম দিনে মার্কিন নৌসেনার এক কর্তা জানান, যুদ্ধজাহাজটিকে সাময়িকভাবে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের সৌদা বে-তে পাঠানো হচ্ছে। সেখানে রয়েছে আমেরিকার একটি নৌঘাঁটি।
প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে ভার্জিনিয়ায় মার্কিন নৌবাহিনীর ঘাঁটি থেকে সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিল বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড। অতলান্তিক মহাসাগরে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ‘নেটো’র স্ট্রাইক কোরের অংশ হিসাবে কাজ করেছে এই রণতরী। ভেনিজ়ুয়েলায় মার্কিন সেনার সাম্প্রতিক অভিযানেও এই যুদ্ধজাহাজটি ব্যবহার করেছে পেন্টাগন। এর পর ফেব্রুয়ারিতে তার যাত্রা শুরু হয় পারস্য উপসাগর অভিমুখে। ইরানের বিরুদ্ধে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র গোড়া থেকেই অংশ নিয়েছে মার্কিন নৌসেনার সবচেয়ে দামি যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ড।