Bangladesh BNP Government

মন্ত্রীরা বিদেশে গেলে কত হোটেলভাড়া দেয় বাংলাদেশ সরকার? কুলোচ্ছে না বরাদ্দে! তবে বৃদ্ধিতেও নারাজ ঢাকা

দেশের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা বিদেশ সফরে গেলে হোটেলভাড়া বাবদ কত টাকা করে পাবেন, তা বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রকই নির্ধারণ করে দেয়। অনেক দিন সেই বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়নি বলে খবর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ১৩:২৬
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিটিআই।

বাংলাদেশের মন্ত্রীদের বিদেশসফরে হোটেলভাড়া বাবদ যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ রয়েছে, তাতে কুলোচ্ছে না। বিশ্বের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির নিদর্শন দেখিয়ে অর্থ মন্ত্রকের কাছে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো এই তথ্য জানিয়েছে। তবে রিপোর্টে দাবি, অর্থ মন্ত্রকের তরফে প্রস্তাবে সায় দেওয়া হয়নি। মন্ত্রীদের হোটেলভাড়ার বরাদ্দ বৃদ্ধি করলে সরকারের খরচ বেড়ে যাবে বলেই বিদেশ মন্ত্রকের প্রস্তাবটিতে আপত্তি করেছে অর্থ মন্ত্রক।

Advertisement

দেশের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীরা বিদেশ সফরে গেলে হোটেলভাড়া বাবদ কত টাকা করে পাবেন, তা বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রকই নির্ধারণ করে দেয়। এ ক্ষেত্রে, বরাদ্দ নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থের পরিমাণ দীর্ঘ দিন পরিবর্ধতন করা হয়নি। তবে কোন দেশে গেলে কত টাকা পাওয়া যাবে, তার শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে। প্রথম শ্রেণিতে তুলনামূলক ব্যয়বহুল ৩০টি দেশকে রেখেছে ঢাকা। প্রথম আলো জানিয়েছে, ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর অর্থ মন্ত্রকের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই ৩০ দেশে বাংলাদেশের কোনও মন্ত্রী গেলে প্রতি দিন হোটেলভাড়া বাবদ ৪২০ ডলার করে পাবেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ ৫১ হাজার টাকার বেশি। প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রে দৈনিক হোটেলভাড়ার বরাদ্দ ৩১২ ডলার করে (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩৮ হাজার টাকা)।

প্রথম শ্রেণিভুক্ত দেশগুলির মধ্যে আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, রাশিয়া, ফ্রান্স, ব্রাজ়িল, অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর রয়েছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকার আরও কিছু দেশকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, সময়ের সঙ্গে বিভিন্ন দেশে জীবনযাত্রার মান এবং খরচ বেড়েছে। সঙ্গে রয়েছে মুদ্রাস্ফীতি। ফলে এই পরিমাণ বরাদ্দে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের হোটেলের খরচ কুলোচ্ছে না। বিদেশসচিব আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশের অর্থসচিব খয়েরুজ্জামান মজুমদারকে চিঠি দিয়ে সমস্যার কথা বিশদে ব্যাখ্যা করেছেন। জানিয়েছেন, বিদেশে উচ্চমানের বৈঠক বা কোনও আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানের সময় বরাদ্দ অনুযায়ী মন্ত্রীদের আবাসন নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

হোটেলভাড়ার জন্য নির্দিষ্ট বরাদ্দ না করে প্রকৃত খরচের ভিত্তিতে সরকারের তরফে তা মিটিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বিদেশ মন্ত্রক। কিন্তু বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যয় সঙ্কোচন করছে। তাই এই মুহূর্তে বিদেশ মন্ত্রকের হোটেলভাড়া সংক্রান্ত প্রস্তাবে সায় দেয়নি অর্থ মন্ত্রক। সম্প্রতি সরকারের বিভিন্ন দফতরের সচিব বা সমমর্যাদার আধিকারিকদের বিমানে বিজ়নেস ক্লাসের পরিবর্তে ইকোনমি ক্লাসে যাতায়াতের নিদানও দিয়েছে ঢাকা।

Advertisement
আরও পড়ুন