Lucknow

মায়ের ইচ্ছা ছিল পুত্রকে চিকিৎসক দেখার! সেই স্বপ্নপূরণ করতে স্ত্রীর চেষ্টায় নিট দিলেন ৭১ বছর বয়সি বৃদ্ধ

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭১ বছর বয়সে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা দেওয়া ওই বৃদ্ধের নাম অশোক বাহার। বিগত বছরগুলিতে একাধিক বার ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) দিয়েছেন তিনি। মাঝখানে সঠিক প্রস্তুতির জন্য পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ১৪:০৩
To become a doctor Lucknow man appear in NEET at 71 year of age to fulfil mother’s dream

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

মায়ের ইচ্ছা ছিল চিকিৎসক হবে পুত্র। তাঁর নিজেরও একই ইচ্ছা ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারেননি কম বয়সে। তবে হাল ছাড়েননি। মায়ের সেই স্বপ্নপূরণ করতে ৭১ বছর বয়সে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট দিলেন এক বৃদ্ধ। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে। বয়সের বাধা অতিক্রম করে দৃঢ় সংকল্পের এক অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭১ বছর বয়সে ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা দেওয়া ওই বৃদ্ধের নাম অশোক বাহার। বিগত বছরগুলিতে একাধিক বার ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট) দিয়েছেন তিনি। মাঝখানে সঠিক প্রস্তুতির জন্য পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এর পর দীর্ঘ বিরতির পর এ বছর আবার পরীক্ষায় বসেন তিনি। সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অশোক বলেন, ‘‘আমার মা সব সময় চাইতেন আমি আমার বাবার মতো এক জন ডাক্তার হই। আমার বাবা লখনউয়ের এক জন সম্মানিত চিকিৎসক ছিলেন। কিন্তু তখন মায়ের স্বপ্নপূরণ করতে পারিনি।’’

অশোকের চিকিৎসক হতে না পারার দুঃখ ছিল অনেক। কিন্তু তাঁর চিকিৎসাব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার স্বপ্নকে জিইয়ে রাখতে অশোকের পরিবারও অনেক চেষ্টা করেছিলন। অশোক বিয়েও করেন এক চিকিৎসককে। তাঁর স্ত্রী মঞ্জু বাহার এক জন নামকরা স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ, যিনি ‘ন্যাশনাল হেলথ মিশন’-এর অধীনে প্রধান পরামর্শক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে গভীর ভাবে যুক্ত ওই পরিবারে প্রায় ২০ জন চিকিৎসক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে বিদেশেও কর্মরত। কিন্তু চিকিৎসক হতে পারেননি অশোক। স্নাতক পর্যায়ে একাধিক বার চেষ্টা করা সত্ত্বেও ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষায় সাফল্য অধরা থেকে যায় তাঁর।

মজার বিষয় হল, বহু বছর পর অশোকের স্ত্রী মঞ্জুই চিকিৎসার প্রতি স্বামীর আগ্রহকে পুনরায় জাগিয়ে তুলেছিলেন। অশোকের কথায়, ‘‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আমি তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তিনিই আমাকে মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষায় আরও এক বার চেষ্টা করতে উৎসাহিত করেছিলেন।’’ প্রবেশিকা পরীক্ষায় সফল হলে ৭১ বছর বয়সে অশোকের হেপাটোলজিতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে। যকৃত-সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসার উপর মনোযোগ দিতে চান তিনি।

তবে চিকিৎসকের স্বপ্নে নিজেকে সম্পূর্ণ রূপে উৎসর্গ করার আগে অশোকের অন্য একটি পেশাগত জীবনও ছিল। তিনি রাসায়নিক এবং সার মন্ত্রকের অধীনে ‘ইন্ডিয়ান ড্রাগস অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড (আইডিপিএল)’-এ উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের বিপণন প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

Advertisement
আরও পড়ুন