Madhya Pradesh

খুনের আসামির প্রেমে হাবুডুবু মহিলা জেলার! প্রেমিক মুক্তি পেতেই বিয়ে, পাত্তাই পেল না পরিবার, ধর্মের বাধা

প্রায় ১৪ বছর কারাবাসের পর ভাল আচরণের কারণে বছর চারেক আগে মুক্তি পান ধর্মেন্দ্র। মুক্তির পর বিয়ের মাধ্যমে নিজেদের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ফিরোজ়া এবং ধর্মেন্দ্র।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ০৯:৫১
Woman jailer Firoza from Madhya Pradesh fall in love with murder convict Dharmendra and they get married

ধর্মেন্দ্র এবং ফিরোজ়া। ছবি: সংগৃহীত।

খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পেয়ে জেলে গিয়েছিলেন। সেই আসামিরই প্রেমে পড়লেন মহিলা জেলার। প্রেমিক মুক্তি পেতেই বিয়ে করলেন ঘটা করে। ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলায়। ওই মহিলা কারা কর্মকর্তার নাম ফিরোজ়া খাতুন। সম্প্রতি খুনের মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করা প্রেমিক ধর্মেন্দ্র সিংহকে বিয়ে করেছেন তিনি। যদিও তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক কারাগারের ভিতরেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। ধর্মেন্দ্র মুক্তি পেতেই তাঁকে বিয়ে করেন ফিরোজ়া।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাতনা কেন্দ্রীয় কারাগারের সহকারি সুপারিনটেনডেন্ট ফিরোজ়া কারাগারে ওয়ারেন্ট ইন-চার্জ হিসাবে কাজ করার সময় ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে পরিচিত হন। ছত্তরপুর জেলার চান্দলার বাসিন্দা ২০০৭ সালে এক জন কাউন্সিলরকে খুন এবং মৃতদেহ গুম করার ঘটনায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছিলেন ধর্মেন্দ্র। জানা গিয়েছে, কারাগারে থাকাকালীন ধর্মেন্দ্র ওয়ারেন্ট-সংক্রান্ত কাজে কারা কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করতেন। তখনই ফিরোজ়ার সঙ্গে তাঁর নিয়মিত দেখা হতে শুরু হয়। আলাপচারিতা ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব এবং বন্ধুত্ব গড়িয়ে প্রেমে পরিণত হয়।

প্রায় ১৪ বছর কারাভোগের পর ভাল আচরণের কারণে প্রায় চার বছর আগে মুক্তি পান ধর্মেন্দ্র। মুক্তির পর বিয়ের মাধ্যমে নিজেদের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন ফিরোজ়া এবং ধর্মেন্দ্র। এর পর গত ৫ মে ছত্তরপুর জেলায় বিয়ে সম্পন্ন হয় যুগলের। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আন্তঃধর্মীয় বিবাহ হওয়ার কারণে সামাজিক নজরদারি এড়াতে ধর্মেন্দ্র বিয়ের আমন্ত্রণপত্রে নিজের নাম পরিবর্তন করেছিলেন। বৈদিক আচার-অনুষ্ঠান এবং মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে বিবাহ অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

জানা গিয়েছে আন্তঃধর্মীয় বিয়ের কারণে ফিরোজ়ার পরিবারের কোনও সদস্যই বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি)-এর জেলা সহ-সভাপতি রাজবাহাদুর মিশ্র এবং তাঁর স্ত্রী কন্যাদান অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করেন। বজরং দলের সদস্যেরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। ফিরোজ়া এবং ধর্মেন্দ্রর বিয়ে ইতিমধ্যেই সাতনা এবং তদ্‌সংলগ্ন অঞ্চলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, যা এর অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এবং দম্পতির অতিক্রম করা সামাজিক ও ধর্মীয় বাধার জন্য দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সাতনা কেন্দ্রীয় কারাগারের কর্মকর্তা, কর্মী এবং বন্দিরাও নবদম্পতিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

Advertisement
আরও পড়ুন