IPS Officer

মহিলারা কতটা নিরাপদ? বুঝতে মধ্যরাতে রাস্তায় দাঁড়ালেন ছদ্মবেশী মহিলা আইপিএস, ‘হানা’ দিলেন বহু পুরুষ, দিলেন কুপ্রস্তাবও!

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক জন সাধারণ নারীর বেশে এবং পুলিশের উপস্থিতি ছাড়াই রাত সাড়ে ১২টা থেকে সাড়ে ৩টে পর্যন্ত মালকাজ়গিরি থানার কাছের একটি বাসস্ট্যান্ডে একা দাঁড়িয়েছিলেন সুমতি। জানা গিয়েছে, তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৪০ জন পুরুষ সুমতির কাছে আসেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কুপ্রস্তাবও দেন অনেকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৭ মে ২০২৬ ১০:২৯
Woman Cop in Hyderabad stand for 3 hours at midnight in road, approached by several men

ছবি: সংগৃহীত।

শহরে নারীরা কতটা নিরাপদ? সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সাধারণ এক মহিলার ছদ্মবেশে রাস্তায় বেরিয়েছিলেন আইপিএস কর্তা। অন্য রকম পরিস্থিতির শিকার হতে হল তাঁকে। তিন ঘণ্টায় তাঁর দিকে এগিয়ে এলেন প্রায় ৪০ জন পুরুষ। অনেক মদ্যপ তাঁকে কুপ্রস্তাব দেন। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে হায়দরাবাদে। হায়দরাবাদের মালকাজ়গিরির ওই পুলিশ কমিশনারের নাম সুমতি বলে জানা গিয়েছে। শহরের রাস্তায় নারীরা যে নিরাপত্তা সঙ্কটের মুখোমুখি হন, তা বোঝার জন্যই সাহসী এবং ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ হিসাবে মধ্যরাতের পরে একাই শহরের রাস্তায় দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তখনই ৪০ জন পুরুষের মুখোমুখি হতে হয় তাঁকে। ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই হইচই পড়েছে। দেশে নারী নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ককে আরও জোরদার করেছে ঘটনাটি।

Advertisement

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক জন সাধারণ নারীর বেশে এবং পুলিশের উপস্থিতি ছাড়াই রাত সাড়ে১২টা থেকে সাড়ে ৩টে পর্যন্ত মালকাজ়গিরি থানার কাছের একটি বাসস্ট্যান্ডে একা দাঁড়িয়েছিলেন সুমতি। জানা গিয়েছে, তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৪০ জন পুরুষ সুমতির কাছে আসেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। কুপ্রস্তাবও দেন অনেকে। এই পুরুষদের অধিকাংশই ছিলেন তরুণ। তাঁদের মধ্যে কয়েক জন ছাত্রও ছিলেন। কিন্তু এঁদের কেউই জানতেন না যে এক জন ঊর্ধ্বতন পুলিশকর্তার সঙ্গে কথা বলছেন। ওই পুরুষদের মধ্যে অনেকে মদ-গাঁজা খেয়ে নেশাগ্রস্ত অবস্থাতেও সুমতির কাছে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

পুলিশ সূত্রে খবর, শুধুমাত্র অভিযোগের উপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতি বোঝার লক্ষ্যেই এই অনুশীলনটি করা হয়েছিল। অভিযানের পর ওই পুরুষদের মধ্যে একাংশকে শনাক্ত করা হয়। পুলিশ তাৎক্ষণিক ভাবে মামলা দায়ের না করে তাঁদের কাউন্সেলিং করার জন্য ডেকে পাঠায় এবং জনসমক্ষে নারীদের প্রতি তাঁদের আচরণের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করে। পুলিশের এই পদক্ষেপ স্থানীয় বাসিন্দাদের, বিশেষ করে নারীদের দ্বারা ব্যাপক ভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

তবে সুমতি এই ধরনের পদক্ষেপ এই প্রথম বার করেননি। ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ হিসাবে তাঁর কর্মজীবনের শুরুতে কাজ়িপেট রেলস্টেশনের কাছে নারীদের নিরাপত্তা স্বচক্ষে দেখার জন্য অনুরূপ একটি অভিযান চালিয়েছিলেন তিনি।

তেলঙ্গানা ক্যাডারের সিনিয়র আইপিএস অফিসার সুমতি ‘স্টেট ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (এসআইবি)’-র প্রধান হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। মালকাজ়গিরির পুলিশ কমিশনার হিসাবে নিযুক্ত হওয়ার আগে, তিনি দেবুজি ও অন্যদের নেতৃত্বে থাকা বেশ কয়েক জন শীর্ষ মাওবাদীর আত্মসমর্পণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ১ মে মালকাজ়গিরির পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন