Bangladesh-Pakistan

যাত্রিবাহী কোচ ও মালবাহী ওয়াগন কিনতে চায় বাংলাদেশ! আগ্রহ দেখাল পাকিস্তান, ঢাকার দুই প্রতিনিধি ইসলামাবাদে

রেলের সরঞ্জামের উৎপাদনক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত মান মূল্যায়ন করতে ইতিমধ্যেই দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে উড়ে গিয়েছেন। পাকিস্তানে বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহম্মদ ইকবালের সঙ্গেও দেখা করেন প্রতিনিধিরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪:০৫
Bangladesh keen on buying rolling stocks from Pakistan

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর পাকিস্তানের সঙ্গে সে দেশের সম্পর্কের সমীকরণ বদলেছে। কখনও পাকিস্তানের কাছ থেকে যুদ্ধবিমান কেনার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে মুহাম্মদ ইউনূসের প্রশাসন, আবার কখনও দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক মজবুত করার ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে। সেই বিষয়ে আরও এক ধাপ এগোল বাংলাদেশ। সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’ বলছে, এ বার পাকিস্তান থেকে কম দামে রেলের বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনতে চায় ইউনূস প্রশাসন।

Advertisement

বিদেশ থেকে যাত্রিবাহী কোচ এবং মালবাহী ওয়াগন কিনতে চায় বাংলাদেশ। বেশ কয়েক দিন ধরে তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন দেশের কাছে প্রস্তাবও পাঠায় বাংলাদেশ। বিভিন্ন দেশ কত দামে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিক্রি করতে পারবে, তা জানিয়েছে। ‘ডন’ সূত্রে খবর, অন্যান্য আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীর দেওয়া দরপত্রের থেকে কম দামে মিলছে পাকিস্তানে।

রেলের সরঞ্জামের উৎপাদনক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত মান মূল্যায়ন করতে ইতিমধ্যেই দুই সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে উড়ে গিয়েছেন। পাকিস্তানে থাকা বাংলাদেশের হাইকমিশনার মহম্মদ ইকবালের সঙ্গেও দেখা করেন প্রতিনিধিরা। লাহৌর এবং ইসলামাবাদের পাকিস্তান রেলওয়ে ক্যারেজ কারখানা পরিদর্শন করে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল।

পাকিস্তানে এই সফরকে ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ বলে মনে করছেন বাংলাদেশি কূটনীতিকেরা। পাকিস্তানের রেলমন্ত্রী হানিফ আব্বাস জানান, এই ধরনের সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য বাস্তবিক ভাবেই ইতিবাচক। পাকিস্তান রেলওয়ে মূলত শ্রীলঙ্কা, নেপাল, চিলে এবং আর্জেন্টিনাকে যাত্রিবাহী কোচ এবং ওয়াগন সরবরাহ করে। সেই তালিকায় যুক্ত হতে পারে বাংলাদেশও। তবে এই প্রথম নয়, আশির দশকে বাংলাদেশকে রেলের সামগ্রী সরবরাহ করেছে পাকিস্তান।

হাসিনা জমানায় বাংলাদেশের বিভিন্ন রেল প্রকল্পে ভারতের অবদান ছিল। ছ’বছর আগে বাংলাদেশ রেলের একাধিক প্রকল্পের জন্য ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ভারত সরকার। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে রেলের মোট সাতটি প্রকল্প রয়েছে, যেগুলির কাজ ভারতের ঋণের টাকায় হওয়ার কথা। তার মধ্যে খুলনা-দর্শনা যুগ্ম লাইন রেল প্রকল্প এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া মিশ্র গেজ় লাইন প্রকল্পের জন্য অনুমোদন মেলে ২০১৮ সালে। ভারত এই দুই প্রকল্পের জন্য ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বলে দাবি সে দেশের রেল মন্ত্রকের। এ ছাড়া, ভারতের ঋণের টাকায় দু’টি প্রকল্পের কাজ চলছে। ঢাকা-টঙ্গী তৃতীয় ও চতুর্থ লাইনের কাজ এগিয়েছে ৩৮ শতাংশ। কুলাউড়া-শাহবাজপুর রেলপথ নির্মাণের কাজ এগিয়েছে ৫১ শতাংশ। ভারতের ঋণের টাকায় বাংলাদেশে খুলনা-মোংলা রেলপথ এবং আখাউড়া-আগরতলা লাইনের কাজ হয়েছে। কিন্তু এখনও এই দুই প্রকল্পের পুরোপুরি সমাপ্তি ঘোষণা হয়নি। খুলনা-মোংলা লাইনে একটি ট্রেন চলে। আখাউড়া-আগরতলা আরও একটি প্রকল্পের জন্য টাকা দিয়েছে ভারত। দিনাজপুর-কাউনিয়া লাইনের কাজ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

হাসিনা যখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তখন কূটনৈতিক, সামরিক বিষয়ে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতেন। বিশেষত, সন্ত্রাস মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে ভারত-বাংলাদেশ হাত ধরে চলত। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের পরে বাংলাদেশের পরিস্থিতি বদলেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভুলে তাদের ইসলামাবাদের দিকে ঝুঁকতে দেখা গিয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন