Bangladesh Awami League

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে পারে ‘নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশে জারি হল সতর্কতা

২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১১:০৬
আওয়ামী লীগ সমর্থকদের জমায়েত বাংলাদেশে।

আওয়ামী লীগ সমর্থকদের জমায়েত বাংলাদেশে। —ফাইল চিত্র।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে মিশে রয়েছে সেই রাজনৈতিক দলটির নাম। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গত দু’বছর ধরে বাংলাদেশের মাটিতে ‘কার্যকলাপ নিষিদ্ধ’ সেই আওয়ামী লীগের। এই পরিস্থিতিতেই আগামী মঙ্গলবার (২৩ জুন) দলের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নতুন করে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুগামীরা সক্রিয় হতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ। পরিস্থিতির গুরুত্ব আঁচ করে তাই আগেভাগেই দেশ জুড়ে ‘সতর্কতা’ জারি করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পুলিশ।

Advertisement

বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ‘প্রথম আলো’ জানাচ্ছে, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে পতাকা উত্তোলন ও প্রকাশ্যে মিছিলের আশঙ্কা করছে পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে ‘সংঘর্ষের ঝুঁকি’ যুক্তি দেখিয়ে সারা দেশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ঢাকা-সহ সব মহানগর এবং বিভিন্ন রেঞ্জের ডিআইজি আর জেলা পুলিশকে। ‘আগামী ২৩ জুন কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে মূল্যায়ন প্রতিবেদন’ শীর্ষক ওই চিঠিতে এনসিপির নেতা-কর্মী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সংঘর্ষের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

হাসিনার পতনের পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জমানায় আওয়ামী লীগের কার্যকলাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। ঘটনাচক্রে, গত ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে বিএনপি প্রধান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরে পুনরুত্থানের তৎপরতা আরও গতি পেয়েছে। বিভিন্ন জেলা ঝটিকা মিছিল বার করছে জনবিক্ষোভে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনার দল। এমনকি, সাময়িক ভাবে খোলা হয়েছিল গত বন্ধ থাকা বিভিন্ন দলীয় দফতরও। এই আবহে ‘কার্যকলাপ নিষিদ্ধ’ আওয়ামী লীগ যাতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজনৈতিক সক্রিয়তা দেখাতে না পারে, পুলিশ সদর দফতরের তরফে তা নিশ্চিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ঢাকা পুলিশ এক রুটিন-বিবৃতিতে জানিয়েছে, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চেকপোস্ট (তল্লাশিচৌকি), টহল, বিশেষ অভিযান-সহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে।

১৯৪৯ সালের ২৩-২৪ জুন পুরনো ঢাকার কেএম দাস লেনের বশির সাহেবের রোজ গার্ডেনের বাসভবনে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লিগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রথম সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানি এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রথম কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালে তিনি সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৫৩ সালের ৩ থেকে ৫ জুলাই মুকুল সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় সম্মেলন। এই সম্মেলনেও সভাপতি নির্বাচিত হন ভাসানি। আর দলের সাধারণ সম্পাদক হন শেখ মুজিবুর। ১৯৫৫ সালে তৃতীয় জাতীয় সম্মেলনে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়েছিল আওয়ামী লিগ। ইতিহাস বলছে, ৭৭ বছরের পুরনো রাজনৈতিক দলটি ক্ষমতায় থেকেছে মাত্র দুই দশক। আর বাকিটা সময় থেকেছে লড়াইয়ে-সংগ্রামে-মানুষের অধিকার আদায়ে। ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট সপরিবার হত্যা করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুকে। সে দিন দেশে না থাকাতে প্রাণে বেঁচে যাওয়া বঙ্গবন্ধুর কন্যা হাসিনার উপরেও হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা হয়েছে ২০ বারের বেশি। ২০২৪ সালের ৫ অগস্ট ‘গণবিপ্লবে’ প্রধানমন্ত্রিত্ব হারানোর পরে ভারতে আশ্রয় নিলেও, গণহত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশের আদালত হাসিনাকে তাঁর অনুপস্থিতিতেই ফাঁসির সাজা দিয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন