Donald Trump on Iran

‘মানা যায় না’! হরমুজ়ের কাছে ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলা নিয়ে ইরানের দিকেই আঙুল ঘোরাচ্ছেন ট্রাম্প

সমাজমাধ্যমের ওই পোস্টে শান্তি সমঝোতা নিয়ে ইরানকে একহাত নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, সমঝোতা প্রস্তাবের যে সংস্করণ ইরান ‘লিক’ করেছে, তার কোনও সত্যতা নেই।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ ২৩:১২
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ডোনাল্ড ট্রাম্প। — ফাইল চিত্র।

হরমুজ় প্রণালী ছেড়ে বেরোনোর সময় ভারতীয় জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। শুক্রবার এমনটাই দাবি করলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই সঙ্গে জানিয়েছেন, এই হামলা ‘একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়’। হরমুজ়ের কাছে ভারতীয় নাবিকবাহী তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সেই নিয়ে বুধবার থেকে দু’বার আমেরিকার কূটনীতিককে তলব করেছে নয়াদিল্লি। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে ইরানের দিকে আঙুল তুলেছেন।

Advertisement

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘‘গত রাতে হরমুজ় ছেড়ে বেরোনোর সময়ে ভারতীয় জাহাজে তাদের (ইরান) হামলা একেবারেই মানা যায় না।’’

হরমুজ় প্রণালীর কাছে ওমান উপসাগরে তিনটি ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজে হামলার ঘটনায় শুক্রবার আমেরিকার কূটনীতিককে আবার ডেকে পাঠিয়েছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। মার্কিন সেনার হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। এই আবহে ফের ডেকে পাঠানো হয় মার্কিন দূতাবাসের দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জেসন মিক্‌সকে। গত ৪৮ ঘণ্টায় এই নিয়ে দ্বিতীয় বার।

ওমান উপসাগরে তিনটি ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজের উপরে হামলা চালানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে সেখানে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের বিরুদ্ধে। এর মধ্যে মাউন্ট সেটবেলো জাহাজে সওয়ার ছিলেন ২৮ জন নাবিক। তাঁদের মধ্যে ২৪ জন ভারতীয়। মার্কিন বাহিনীর হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তিন ভারতীয় নাবিক। অন্য জাহাজ অর্থাৎ এমটি মারিভেক্সে ২৪ জন ভারতীয় নাবিক ছিলেন। তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছিল। গত বুধবার মার্কিন কূটনীতিক জেসনকে ডেকে পাঠায় ভারত। তার পরেও হরমুজ়ের কাছে একটি ভারতীয় নাবিকবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালায় আমেরিকার বাহিনী। মাউন্ট জলবীর নামে ওই পণ্যবাহী জাহাজ থেকে অন্তত ২০ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে বলে খবর। শুক্রবার আরও একবার মার্কিন কূটনীতিককে ডেকে পাঠায় বিদেশ মন্ত্রক। এর পরেই রাতে ট্রাম্প দায় চাপান ইরানের উপরে।

তার পরেই সমাজমাধ্যমের ওই পোস্টে শান্তি সমঝোতা নিয়ে ইরানকে একহাত নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, সমঝোতা প্রস্তাবের যে সংস্করণ ইরান ‘লিক’ করেছে, তার কোনও সত্যতা নেই। তিনি এ-ও লিখেছেন, ইরানিদের সঙ্গে ‘সৎ বিশ্বাসে লেনদেন সম্ভব নয়’। আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স জানিয়েছেন, সমঝোতা সই করার জন্য ইরানকে কোনও আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে না। তিনি এক্সে লিখেছেন, চুক্তির শর্ত পূরণ করলেই একমাত্র ইরানকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ইরানের তরফে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু বলা না-হলেও সে দেশের আধা সরকারি সংবাদসংস্থা ‘ফার্স নিউজ়’ জানিয়েছে, চুক্তিপত্রের খসড়া এখনও চূড়ান্ত করেনি তেহরান।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরান যুদ্ধ নিয়ে দারুণ একটা বোঝাপড়া করে ফেলেছি। আমরা (চুক্তি) স্বাক্ষর করলেই আনুষ্ঠানিক ভাবে হরমুজ় প্রণালী খুলে যাবে। চুক্তি তাড়াতাড়ি, খুব তাড়াতাড়ি হতে পারে। হয়তো সপ্তাহের শেষেই ইউরোপে হয়ে যেতে পারে।” যদিও ইরান তা মানেনি। তাদের দাবি, সম্ভাব্য চুক্তির যে খসড়া, তা এখনও চূড়ান্ত করেনি ইরান।

Advertisement
আরও পড়ুন