(বাঁ দিকে) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
ভারত এবং পাকিস্তানের সংঘর্ষ নিয়ে ফের মুখ খুললেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংঘর্ষের সময়ে পাকিস্তান যে সুবিধাজনক কোনও অবস্থায় ছিল না, সেই আভাসও মিলেছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে। ট্রাম্পের দাবি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বলেছিলেন, তিনি না থাকলে সাড়ে তিন কোটি মানুষ মারা যেত। ওয়াশিংটনে মার্কিন ক্যাপিটলে বক্তৃতার সময়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
সিঁদুর অভিযান এবং চার দিনের ভারত-পাক সংঘর্ষ নিয়ে অতীতে বার বার মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। প্রত্যেক বারই বোঝাতে চেয়েছেন, তিনিই ওই সংঘর্ষ থামিয়েছেন। ভারত অবশ্য সেই দাবিকে কখনওই মান্যতা দেয়নি। তবে শাহবাজ়দের অবস্থান ছিল ভিন্ন। ট্রাম্পের ‘মধ্যস্থতা’র দাবিকে সমর্থন জানিয়েছেন তিনি। এ বার সেই শাহবাজ়েরই অস্বস্তি বাড়ালেন ট্রাম্প। ক্যাপিটলে বক্তৃতার সময়ে তিনি বলেন, “পাকিস্তান এবং ভারত পরমাণু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারত। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আমাকেবলেছেন, আমার হস্তক্ষেপ না থাকলে সাড়ে তিন কোটি মানুষ মারা যেত।”
বস্তুত, ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষের সময়ে ভারতই যে এগিয়ে ছিল, তা অতীতে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে। সংঘর্ষের শেষ দিকে আকাশ প্রায় সম্পূর্ণ ভাবে ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল, এমন কথাও উঠে এসেছে কিছু রিপোর্টে। এ বার ট্রাম্পের মন্তব্যেও স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলল যে, সংঘর্ষের সময়ে পাকিস্তান মোটেই সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল না।
গত বছরের মে মাসে ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। চার দিন ধরে সামরিক সংঘাতের পরে সংঘর্ষবিরতি হয় দুই দেশের। এই চার দিনের সংঘর্ষ নিয়ে গত মাসেই একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে সুইৎজ়ারল্যান্ডের সংস্থা ‘সেন্টার ফর মিলিটারি হিস্ট্রি অ্যান্ড পারস্পেক্টিভ স্টাডিজ়’। সংস্থার দাবি, সিঁদুর অভিযান দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির বায়ুসেনার ক্ষমতার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ্যে এনেছে। ওই অভিযানের ফলে বিমানবাহিনীর শক্তির দিক থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে সেরা হয়ে উঠেছে দিল্লি এবং সেই কারণেই চার দিন সংঘর্ষের পরে পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতি চাইতে বাধ্য হয়েছে।
ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ নিয়ে অতীতে বিভিন্ন সময়ে ট্রাম্প বিভিন্ন ধরনের দাবি করেছেন। সংঘর্ষের সময়ে কতগুলি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছিল, তা নিয়েও এক এক সময়ে এক এক ধরনের মন্তব্য করেছেন তিনি। প্রথমে দাবি করেছিলেন, সাতটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে ওই সময়ে। পরে দাবি করেন আটটি। কয়েক দিন আগেই আমেরিকার নেতৃত্বাধীন ‘বোর্ড অফ পিস’-এ বক্তৃতার সময়ে আবার ট্রাম্প দাবি করেছেন, ওই সময়ে ১১টি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে।