Suicide Abetment Case

প্রেম ভেঙে যাওয়ার পরে কেউ আত্মহত্যা করা মানেই প্রাক্তনের প্ররোচনা হয়ে যায় না! পর্যবেক্ষণ দিল্লি হাই কোর্টের, দিল ব্যাখ্যাও

আদালত আরও জানিয়েছে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া আজকাল সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে শুধুমাত্র সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণেই সেটিকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা বলে ধরা যায় না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৩৪
সম্পর্ক ভেঙে দিলেই তা আত্মহত্যায়  প্ররোচনা বলা যায় না, পর্যবেক্ষণ আদালতের।

সম্পর্ক ভেঙে দিলেই তা আত্মহত্যায় প্ররোচনা বলা যায় না, পর্যবেক্ষণ আদালতের। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

কোনও প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে দেওয়া মানেই তা আত্মহত্যায় প্ররোচনা নয়। এক মামলায় এমনটাই জানাল দিল্লি হাই কোর্ট। অভিযুক্তকে জামিনের নির্দেশ দিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ, তরুণীর আত্মহত্যার অনেক আগেই তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিল। তা ছাড়া আত্মহত্যার সময়ে যে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি, তা-ও উল্লেখ করেছে আদালত।

Advertisement

এই ঘটনার ক্ষেত্রে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পরে অন্য এক তরুণীকে বিয়ে করেন অভিযুক্ত। তাঁর বিয়ের পাঁচ দিন পরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন প্রাক্তন প্রেমিকা। তবে আদালতের পর্যবেক্ষণ, যখন কোনও প্ররোচনার ফলে কারও আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনও উপায় খোলা না থাকে, তখনই এই ধারা যুক্ত করা যায়। কিন্তু এই ঘটনার ক্ষেত্রে এমন তেমন কিছু ঘটেনি বলেই প্রাথমিক ভাবে মনে করছে আদালত। এ ক্ষেত্রে তরুণীর আত্মহত্যার নেপথ্যে কোনও প্ররোচনা ছিল, না কি তিনি মানসিক ভাবে সংবেদনশীল হওয়ার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট।

এই মামলার ক্ষেত্রে আদালতের পর্যবেক্ষণ, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া এবং তরুণীর আত্মহত্যার মধ্যে সময়ের যথেষ্ট ব্যবধান রয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় আট বছরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তরুণী তাঁর জীবদ্দশায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ করেনি। আত্মহত্যার কারণ হিসাবে কোনও সুইসাইড নোটও পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার এই মামলার নির্দেশনামা প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, “আপাত ভাবে মনে হচ্ছে, এটি একটি পূর্ণতা না পাওয়া সম্পর্ক ছিল। সম্ভবত তরুণী তাঁর প্রাক্তনের অন্যের সঙ্গে বিয়ের কথা জানতে পারার পরে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।”

নির্দেশনামায় আদালত আরও জানিয়েছে, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া আজকাল সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে শুধুমাত্র সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার কারণেই তা ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ ধারা (আত্মহত্যায় প্ররোচনা)-র আওতায় মামলার উপযুক্ত হয়ে ওঠে না। এ অবস্থায় অভিযুক্ত যুবককে ২৫ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে জামিনের নির্দেশ দিয়েছ দিল্লি হাই কোর্ট।

Advertisement
আরও পড়ুন