US Iran Tension

আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে দৌত্যে পাকিস্তান! যুদ্ধ থামাতে ট্রাম্পের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাব তেহরানকে পাঠান শাহবাজ়েরাই

যুদ্ধ থামানোর পূর্বশর্ত হিসাবে আমেরিকা ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইরানকে। ট্রাম্প প্রশাসনের সেই ১৫ দফা প্রস্তাব পাকিস্তানই পৌঁছে দিয়েছে ইরানের কাছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১৫:৫৯
(বাঁ দিকে থেকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান।

(বাঁ দিকে থেকে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান। —ফাইল চিত্র।

আমেরিকা-ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। বিবদমান দুই দেশ এখনও মুখোমুখি বসেনি। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে দু’পক্ষের বার্তা চালাচালি হচ্ছে। সেই তৃতীয় পক্ষ পাকিস্তান। আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের ‘দূত’ হিসাবে কাজ করছে ইসলামাবাদ। আগামী দিনে পাকিস্তানের মাটিতে দু’দেশকে মুখোমুখিও বসাতে চাইছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ। এবং এই প্রস্তাবে আপাত ভাবে সায় রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও।

Advertisement

শাহবাজ় সমাজমাধ্যম পোস্টে লেখেন, সংঘাত থামাতে বৈঠকের আয়োজন করতে তৈরি রয়েছে ইসলামাবাদ। আমেরিকা এবং ইরান রাজি থাকলে এই সংঘাত মেটাতে বৈঠকের আয়োজন করতে চান তাঁরা। এমনটাই জানিয়েছেন শাহবা়জ়। তাঁর সেই পোস্টটিকে পুনরায় পোস্ট করেছেন ট্রাম্পও। যা ইঙ্গিত করে, শাহবাজ়দের ওই প্রস্তাবে সায় রয়েছে মার্কিন প্রেসি়ডেন্টেরও। যুদ্ধ থামানোর পূর্বশর্ত হিসাবে আমেরিকা ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইরানকে। ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স’ ওয়াকিবহাল সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সেই ১৫ দফা প্রস্তাব পাকিস্তানই পৌঁছে দিয়েছে ইরানের কাছে।

তবে যুদ্ধ থামানোর জন্য আলোচনার অংশ হিসাবে ইরান এই ১৫ দফা পূর্বশর্তে রাজি কি না, তা প্রাথমিক ভাবে স্পষ্ট নয়। ইজ়রায়েল এ বিষয়ে কী ভাবছে, তা-ও এখনও অস্পষ্ট। তবে ইজ়রায়েলি কিছু সূত্রের ভিত্তিতে মঙ্গলবার জানা যায়, মুখোমুখি আলোচনা হলে আমেরিকার সেই প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এবং দুই কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ এবং জারেড কুশনার। অন্য দিকে তেহরানের প্রতিনিধিদলে থাকতে পারেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ।

পাকিস্তান যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে, তা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হচ্ছিল। তবে প্রাথমিক ভাবে হোয়াইট হাউস সেই প্রস্তাব নিয়ে কোনও মন্তব্য করছিল না। এ বার শাহবাজ়ের পোস্ট এবং ট্রাম্প তা পুনরায় পোস্ট করার এ নিয়ে আলোচনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসলামাবাদের আয়োজনে মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাবে এটিই আমেরিকার প্রথম প্রকাশ্য সমর্থন বলে মনে করা হচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফিনান্সিয়াল টাইম্‌স’ অনুযায়ী, আমেরিকা এবং ইরানকে ইসলামাবাদে মুখোমুখি বসানোর প্রস্তাব পাকিস্তানই দেয় ট্রাম্প প্রশাসনকে। তবে কবে কোন স্তরের কূটনৈতিক আলোচনায় এই প্রস্তাব প্রথম দেওয়া হয়, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা হয় পাকিস্তানের সেনা সর্বাধিনায়ক আসিম মুনিরের। তার পরের দিন, সোমবারই আবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ়।

তবে এ সবের মধ্যেই পশ্চিম এশিয়ায় সৈন্যবল আরও বৃদ্ধি করছে পেন্টাগন। নতুন করে প্রায় ২০০০ সৈন্য মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর সূত্রে এমনটাই জানাচ্ছে ‘নিউ ইয়র্ক টাইম্‌স’। এমন এক সময়ে এই বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে, যখন ইরানের সঙ্গে মুখোমুখি বসার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে আমেরিকা।

Advertisement
আরও পড়ুন