Venezuela Earthquake

ভেনেজ়ুয়েলায় ভূমিকম্প: ‘স্ত্রীকে জানাবেন না আমি বেঁচে আছি’! ১৪০ টন কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপ থেকে ৮ দিন পর উদ্ধার যুবক

ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যখন প্রাণের খোঁজ চলছিল, সেই সময়েই গিলের হদিস পান উদ্ধারকারীরা। তবে তাঁকে উদ্ধার করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না বলে জানিয়েছেন এক উদ্ধারকারী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ ১২:২৮
গিলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবি: এএফপি।

গিলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবি: এএফপি।

টন টন কংক্রিটের পর্বতপ্রমাণ ভগ্নস্তূপের ফাঁক দিয়ে শুধু দেখা যাচ্ছিল চোখ দু’টি। উদ্ধারকারীরা টর্চ মারতেই চোখের পলক পড়ল। তখনই তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, এখনও প্রাণ আছে। জীবিত এক জনের খোঁজ পেয়ে তাঁরাও উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছিলেন। তার পরই শুরু হল উদ্ধারকাজ। ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হল যুবককে। মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখে বেঁচে ফিরলেন ভেনেজ়ুয়েলার যুবক হার্নান আলবার্টো গিল ফ্লোরেস।

Advertisement

ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যখন প্রাণের খোঁজ চলছিল, সেই সময়েই গিলের হদিস পান উদ্ধারকারীরা। তবে তাঁকে উদ্ধার করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না বলে জানিয়েছেন এক উদ্ধারকারী। বহুতলের ভেঙে পড়া কংক্রিটের জঙ্গল সরিয়ে গিলকে উদ্ধার করতে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। কোস্টা রিকার উদ্ধারকারী দলের এক সদস্য মিনইয়ার কোলাডো সংবাদসংস্থা এপি-কে বলেন, ‘‘আমরা যখন গিলকে উদ্ধার করলাম, ক্ষীণ কণ্ঠে তিনি আমাদের বার বার একটা কথাই বলছিলেন, আমি বেঁচে আছি এ কথাটা স্ত্রীকে জানাবেন না।’’ কোলাডো জানান, একটা নতুন জীবন পাওয়ার পরেও গিলের এই ধরনের অনুরোধ শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন উদ্ধারকারীরা। কেন তিনি এ কথা বলছেন, এটা জানতে চাওয়ায় গিল বলেছিলেন, ‘‘আমি এখন বেঁচে আছি ঠিকই, কিন্তু কত ক্ষণ বাঁচব তারও তো নিশ্চয়তা নেই! তাই স্ত্রীকে না জানানোই ভাল।’’ তবে গিলের বেঁচে ফেরার খবর পৌঁছে গিয়েছিল তার স্ত্রী গুসবিমান গোনজ়ালেজের কাছে।

আট দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে ছিলেন গিল। বাঁচার জন্য মরিয়া চেষ্টা করে গিয়েছেন। গিল বলেন, ‘‘একটা সময় মনে হয়েছিল যে, উদ্ধারকারীরা হয়তো আমার কাছে পৌঁছোতেই পারবেন না। আমি যে এখানে আটকে রয়েছি, কেউ জানতেই পারতেন না। ঈশ্বরের কৃপায় বেঁচে ফিরলাম।’’

গত ২৪ জুন ৭ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প হয়েছিল ভেনেজ়ুয়েলায়। প্রথমটির কম্পনমাত্রা ছিল ৭.২ এবং দ্বিতীয়টির ৭.৫। ইতিমধ্যেই এই ভূমিকম্পে মৃত্যু হয়েছে আড়াই হাজারেরেও বেশি মানুষের। এখনও প্রাণের খোঁজ চলছে ধ্বংসস্তূপের নীচে। আর কেউ বেঁচে আছেন কি না, সেই খোঁজ যখন চলছিল, তখনই ১৪০ টন কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নীচে থেকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেল গিলকে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গিল স্থানীয় একটি বহুতল শপিং মলে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। যে সময়ে ভূমিকম্প হয় সেই সময়ে তিনি শপিং মলের বেসমেন্টে ছিলেন। পুরো শপিং মল কম্পনের জেরে ধসে গিয়েছিল। বেসমেন্টে চাপা পড়ে গিয়েছিলেন গিল।

Advertisement
আরও পড়ুন